ভার্চুয়াল জগতে আমরা

Words
496
Reading
3 min
Listen
Play
6y

shadonchandra@shadonchandra ভাইয়ের দীর্ঘ দিন ধরে বিয়ে হচ্ছে না। বেচারার বিয়ে করার জন্য মন উথাল পাতাল করছিল। যেও বা একটা প্রেম করতো ছ্যাঁকা মেরে দিছে। অবশ্য ছ্যাঁকাটা ছোট খাটো ছিল না। বড় সড় ওজন ওয়ালা ছিল। সাধন চন্দ্র ভাই নিজেকে রিকোভার করতে পেরেছে। কিন্তু ঐ যে বিয়ের ঝোকটা কমাতে পারে নিই। বরং দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। আর তাতে যদি আশে পাশে কেউ বিয়ের দাওয়াত দেয়। তাহলে ভিতরটা জলে অঙ্গার হয়ে যায়। হৃদয়ে সুনামী হয়ে যায়। মুখটা কয়লার ন্যায় কালো হয়ে যায়। দেখলেই মনে হয় রাজ্যের দুঃখ নেমে এসেছে।

হঠাৎ করে বেশ কয়েক মাস পর সাধন চন্দ্র দাদা বিয়ের দাওয়াত পায়। কিন্তু বিয়েটা ভিডিও কলের মাধ্যমে হবে। ভিডিও কলের মাধ্যমে হওয়া বিয়েতে নতুন অভিজ্ঞতা নেওয়ার জন্য দাওয়াত মিস দিলেন না। যথা সময়ে উপস্থিত হয়ে যায়। অনন্য একটা অভিজ্ঞতা। মেয়ে ইতালীতে থাকে। যথাসময়ে ইতালি থেকে থেকে ইমোতে ফোন আসলো। সাধন চন্দ্র সহ উপস্থিত সবাই মেয়ে দেখার জন্যে মোবাইল স্ক্রীনে হামলে পড়েছে। সামাজিক দূরত্বের চিন্তা কারো মাথায় নেই। আচমকা সাধন চন্দ্র উপলব্ধি করলো কেউ একজন পেছন থেকে তার পাঞ্জাবির কোনা ধরে টানতেছে, অন্তিম সময়ে কে ডিসটার্ব দিচ্ছে, মেজাজ খারাপ করে পেছনে তাকিয়ে দেখে কাজি সাহেব। খুব বিরক্ত হল, চোখ গুলো বড় বড় করে বির বির করে কাজী ব্যাটার এইখানে কি কাজ! ধুর মোবাইলের বিয়েতেও কাজী লাগে নাকি!

মোবাইলের স্ক্রিনে কনে আসতেই সাধনচন্দ্র ঝাটকা খেলো। এ তো সাধনচন্দ্রের এক্স। মেজাজটা পুরাই খারাপ হয়ে গেলো। তো বিয়ে পর্ব শুরু হলো। পুরা মনযোগ মোবাইলের স্কিনের দিকে। বাকি সব কিছুই আগে থেকেই ঠিক করা। কবুল বলা শেষ। তবে মাঝখানে নেটওয়ার্কের একটু ঝামেলা ছিল। কবুলের ল বলার আগেই নেটওয়ার্ক সমস্যা দেখা দেয়। যাই হোক আচ্ছা এই অর্ধেক কবুলে কি ইসলামী কোন বিধান আছে কিনা জানি না। সামান্য নেটওয়ার্কের ঝামেলা বাদে বড় কোন ঝামেলা ছাড়াই সুন্দরমত বিয়ে হয়ে গেলো।

বিয়ে পর্ব শেষে খাওয়া দাওয়ার আয়োজন এদিকে চন্দ্রে লেগেছে গ্রহণ। তবে শাধনচন্দ্র একজনকে একটু জ্বালানোর জন্য ফন্দি আটে মনে মনে।

যাক একটা উপায় এসেছে খেতে বসে মেয়ের বাবাকে জিজ্ঞেস করলো, মেয়ে কই? লাইনে আছে?

মেয়ের বাবা জবাব দিলেন, নাহ নেই, কেন? বিয়ে শেষ আর তো এখন লাইনে থাকার দরকার নেই?

"কী আশ্চর্য, কী করবে মানে কি! এটা কেমন কথা কনে খাবেনা? আমরা এখান থেকে পোলাও এর লোকমা তুলে ধরবো আর কনে ওখান থেকে কেঁদে কেঁদে খাওয়ার ভঙ্গি করবে- ভার্চুয়াল বিয়ে হলে, ভার্চুয়াল খাওয়া দাওয়া হবে না কেন? ভার্চুয়াল খাওয়ায় কি সমস্যা? দেন মেয়েরে ফোন দেন।"

ভদ্রলোক এক চোখ বাকা করে সাধন চন্দ্রের দিকে তাকিয়ে থাকলেন, ফাইজলামি করছে কিনা বোঝার চেষ্টা করছেন মনে হয়। উনাকে পাত্তা না দিয়ে আয়েশ করে পোলাওর লোকমা মুখে দিল আর মনে মনে শান্তি উপভোগ করছে।

সাধন চন্দ্র এখন ভাবছে আচ্ছা এরা বাসর করবে কিভাবে? ভার্চুয়ালি? প্রশ্নটা ছেলের বাবাকে জিজ্ঞেস করবে কিনা ভাবছিল সাধন।

আবার হঠাৎ মনে পরলো ফেসবুকে বিভিন্ন জনপ্রিয় পেজের কমেন্টস বক্সে কমেন্টস পাওয়া যায় না ৩০০/৪০০ টাকায় আন অফিসিয়ালি বাসর রাত। হলে এদের হলে সমস্যা কই? এমনটাই ভাবছিলেন সাধন চন্দ্র।

20200810_101857.jpg

অনেকেরই শুনি এইভাবে বিয়ে করতে। আমার কাছে এইভাবে বিয়েটা কেমন যেন লাগে। এইভাবে বিয়ে সম্পর্কে ইসলামী বিধান কি বলে?
আর এইসব বিয়ে আসলে কতটুকু আইন সম্মত?

আমার কাছে কেন জানি মনে হয় এইসব বিয়েই না। শুধু জোর করে বেঁধে রাখার চেষ্টা।