জরুরী কিছু কাগজপত্র খোঁজার জন্য আব্বুর পুরাতন কিছু ফাইল খুলে দেখলাম। কাগজপত্র গুলো দেখতে দেখতে আব্বুর একটা পকেট নোট চোখে পরলো। প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। আব্বু সব সময় পকেটে একটা ছোট নোট রাখতো। সেখানে নিজের হিসেব নিকেশ করতো। পরিচিত সবার ফোন নাম্বার লিখে রাখতো।
যাই হোক সেই নোটের মধ্যে আব্বুর আর্ট করা দুটা ছবি চোখে পরলো। আব্বু আসলে খুব সুন্দর আর্ট করতো। যেখানেই সময় পেতো হাতে কোন কাগজ কলম পেলেই আর্ট শুরু করে দিত।
উপরের ছবি গুলো আব্বুর সেই পুরনো পকেট নোটের মধ্যেই ছিল। নিশ্চিত এই ছবি গুলো কারো সাথে কথা বলার ফাঁকেই একেছিলেন। আসলে এই ছবিগুলো দিয়ে আব্বুকে উপস্থাপন করাটা মোটেও উচিত হয় নিই আমার। কিন্তু কি আর করার এইসব ছাড়া আর কোন ছবি আপাতত হাতে পেলাম না। আমার কাছে এটা খুব বেদনাদায়ক ও লজ্জাজনক।
যেখানেই কোন মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশ পেতো সেটা আব্বু নিজের হাতে থাকা কাগজে যে কোন কাগজেই মুহূর্তের মধ্যে তুলে নিতে দেরি করতো না। সেটা ঝাল মুড়ি খাওয়ার ঠোংগা হোক অথবা পান মোড়ানো চুন ওয়ালা কাগজ হোক।
অনেক আর্ট করেছে আব্বু যখনেই কেউ দেখতো সাথে সাথে নেওয়ার আবদার করতো। আব্বুও না করতো না সাথে সাথে দিয়েই দিত। আমি যখন স্কুলে ছিলাম আমিও ব্যাগে করে নিয়ে যেতাম স্কুলে বন্ধুদের গর্বের সাথে দেখাতাম। সবাই আবার গোল করে দেখতো। আমিও সরকারি মালের মত সবাইকে বিলিয়ে দিতাম।
উপরের ছবিতে বাঁশের তৈরী ফুলদানির মত ছিল আব্বুর হাতের। কাটের তৈরী সুন্দর খেলনা থেকে শুরু করে সব কিছুই তৈরী করতে পারতো। আর সেখানে যে ছবিটা দেখা যাচ্ছে সেটাও আব্বুর আঁকা।
আসলে যেখানেই আর্ট করার সুযোগ পেতো সেখানেই কলম পেন্সিলের দাগ বসিয়ে দিত। তবে সবাইকে দিয়ে দিয়ে আর নিজের কাছে রাখার মত অবশিষ্ট কিছুই নেই। আব্বু আঁকা ছবি বিভিন্ন ম্যাগাজিনে প্রচ্ছদ হিসেবে ব্যবহার হত। স্থানীয় শিল্প সাহিত্য সংসদের নবারুণ প্রত্রিকার আর্টিস্ট ছিল। খুব মিস করি আব্বুকে, খুব মিস করি আব্বুর আর্টকে, খুব মিস করি আব্বুর সাথে দাবা খেলাকে।
আব্বু একজন ভালো ভলিবল খেলোয়ার ও ছিলেন। আমি কিঞ্চিত ভাগও আব্বুর মত হতে পারলাম না। আব্বুর কাছে টুকটাক আর্ট করা শিখলেও পরে আর প্রাক্টিস করি নিই। কোথায় আছে না "বাড়ির গরু খুলির ঘাস খায় না।"
স্থানীয় পত্রিকায় আব্বুকে নিয়ে একটা ছোট প্রতিবেদন ছাপায়।