ভ্যাপসা গরমে আমার ঈদ

Words
514
Reading
3 min
Listen
Play
6y

আজকে সকালে খুব তারাতারি উঠেছি। উঠতেই মায়ের নজরে পরেছি। মা রহস্যজনক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। পাশে আপুকে ফিস ফিস করে বলতেছে কি ব্যপার এতো জলদি ওঠার কারনটা কি? দুজনেই আমার দিকে কিঞ্চিত বাঁকা চোখ তাক করে তাকিয়ে আছে। দু তিন কদম পার করেই বায়ুর চাপ আর আটকিয়ে রাখতে পারি নিই। অদ্ভুদ বিকট শব্দে বেরিয়ে আসলো। তারা দুজনেই নাক ছিটকিয়ে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে। আমার ছোট্ট ভাতিজা সালমান শব্দ শুনেই সে কি অট্টহাসি তার হাসি শুনে কেউ আর চুপ থাকতে পারে নিই। আমিও মৃদু হেসে সোজা ওয়াস রুমের দিকে।

ততক্ষনে তারা বুঝে গেছে কাহিনী কি। আমি ছোটরুমে গিয়ে আরো দু তিনবার শব্দ করে নিজেকে হালকা করলাম। তবে একটু ভয়ে ছিলাম আজ কি ছোট রুমেই অবস্থান করতে হবে নাকি কি জানি। তবে না তারপরে আর তেমন কোন সমস্যা হয় নিই।

আসলে কেউ ভাবিয়েন না কোরবানির মাংস গলা পর্যন্ত ঠুসে ঠুসে খেয়েছি। গত কাল বন্ধুদের সাথে মাসুমের হোটেলে অনেকদিন পর আড্ডা দিয়েছি। মাসুমের হোটেলে আড্ডা দিব আর পুরি খাবো না তা কি হয়? সেখানেই যত বিপত্তি ঘটে গেছে।

এবারের ঈদটা অদ্ভুত ভাবে কাটছে। ঈদের দিনে নামাজে যাওয়ার আগেই মুষুল ধারে বৃষ্টি সেই মুহূর্তে ভেবেছিলাম আজ কোরবানির গরু জবাই মাংস কাটাকাটি করতে রাত হবে। আমরা অবশ্য নিজেই সব কিছু করি। এতে একটা আলাদা শান্তি কাজ করে। যাই হোক বৃষ্টিতেই কষ্ট করে নামাজ পরে বার হতে না হতেই বৃষ্টি থেমে গেছে। হালকা মেঘের ফাঁকে ফাঁকে সূর্যি মামা উঁকি দিচ্ছিল। চিন্তাটা দূর হয়ে যায়।

তারপর যথারীতি গরু জবাই মাংস কাটাকাটি সব শেষ হয় বিকাল চারটার আগেই। এবার ভেবেছিলাম দেরি হবে বরং এবার আরো দ্রুতোই হয়ে যায় সব কিছু। তবে মাংস কাটাকাটির থেকে বেশি বিরক্তিকর হচ্ছে সবার বাসায় গিয়ে গিয়ে বাটাবাটি। তার থেকেও বিরক্তিকর হচ্ছে সবার বাসায় গিয়ে খাওয়া দাওয়া করা। সবাই জেদ করে ছাড়তে চায় না কেউ। তবে সমাজে থাকতে হলে মুসলমান হিসেবে ইসলামি বিধান মানতে হলে এসব তো করতেই হবে।

প্রতিবার ঈদে বন্ধুদের সাথে একটু বাইরে ঘুরা ঘুরি করা হয়। এবার সারাদিন বাসায় শুয়ে বসেই কেটেছে। এছাড়া এবার আবহাওয়া সাথ দিচ্ছে না। কখনো অতিরিক্ত বৃষ্টি আবার কখনো অতিরিক্ত গরম। তবে ঈদের দিন থেকেই যা গরম পরেছে তাতে সহ্য করা বড় কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তার উপর লোডশেডিং তো আছেই। যাক মাঝে মাঝে নিজেকে শান্তনা দেই এই বলে যে হাসরের ময়দানে শেষ বিচারের দিন তো এর থেকেও বেশি উত্তাপ হবে তখন কিভাবে সহ্য করবো। এটা ভাবতেই গা শিউরে উঠে।

যাই হোক এই গরমে সবার ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। ঈদের তৃতীয় দিন বলতে গত কালকে ফেসবুকে ঢুকেই দেখি সবাই সুইমিং পুলে গোসল করছে আর দাঁত গুলো বার করে ছবি আপলোড দিচ্ছে। ছবি গুলো দেখে খুব হিংসে হচ্ছিল। কয়েক জনের ছবিতে কমেন্টস ও করেছি-
"কি বেপার কেউ কি নিন্মচাপ সহ্য করতে না পেরে জলেই ছেড়ে দিয়েছে, তা না হলে নীল রংয়ের পানি জন্ডিস কালারের হল কেমনে?"

পরখনেই দেখি কমেন্টস গুলোতে কেউ হা হা কেউ এঙ্গরি রিয়েক্ট দিয়েছে আবার কেউ রিপ্লাই দিয়েছে তুই আর ভালো হইলে না। আমি নীরবে শুয়ে শুয়ে রিয়েক্ট আর কমেন্টস গুলো দেখে মজা নিচ্ছিলাম। আর এভাবেই কেটে গেলে আমার ২০২০ সালের ঈদুল আজহা। আবার শুরু হবে কাল থেকে ব্যাপ্ত সময়। জীবন ও জীবিকার তাগিদে বার হতে হবে।

জানি না সামনের বছরের ঈদ পাবো কিনা মহান আল্লাহ্ আমাদের সেই সুযোগ দিবে কিনা। তবে সবার জন্য দোয়া করি মহান আল্লাহ্ সবাইকে নেক হায়াত দান করুক।

20190605_113045.jpg

ভ্যাপসা গরমে আমার ঈদ | Ecency