সৌরভের বাজে স্বভাব কখনো কি যাবে না ?

Words
451
Reading
3 min
Listen
Play
6y

ঠক ঠক ঠক......
বেডে হেলান দেওয়া সৌরভ সিগারেটের ধোঁয়া ছেড়ে গাঢ় স্বরে বললো ভিতরে এসো। ভিতরে প্রবেশ করিয়েই উন্মুক্ত পৃষ্ঠদেশ সৌরভের দিকে তাক করে দরজার ছিটকিনি লাগিয়ে দিলো দিপা। ভরা যৌবনা পৃষ্ঠদেশে ট্যাটু প্রথমেই আকৃষ্ট করলো। কোমড় ও তার নিম্নাংস গিটার আকৃতি দেখা আর হল না সৌরভের। শিপনের শাড়ি পরে সামনে কামুক ভঙ্গীতে সৌরভের দিকে এগিয়ে আসলো। সামনে দাঁড়াতেই ফিনফিনে কমড়ের ভাঁজে ট্যাটু আর সৌরভের চোখ যেন আর টিপ্পনিই খাচ্ছে না। উন্মুক্ত ফর্শা কমড় হাত আঙ্গুল বুলালো সৌরভ। সাপের মত মোচড় দিয়ে উঠলো দিপা। যেন এখন আদরের তৃষ্ণায় তৃষ্ণার্ত দিপা।

সৌরভ ও নিজেকে সামাল দিতে না পেরে কাছে টেনে আলতো একটু ঠোঁটে চুমু খেতে গেলেই গালে গাল ছুঁয়ে দিয়ে নো বেবি ফ্রেশ হয়ে আসি বলেই তোয়ালা আর স্বচ্ছ নাইট ড্রেস কাঁধে ফেলে অদ্ভুদ ভঙ্গিতে ওয়াস রুমের দিকে। সৌরভ ও মুচকি হেসে হ্যাঁ সূচক জানিয়ে দিল। সৌরভের মনের মধ্যে খেলা শুরু হয়ে গেছে। মিশন শুরু করার আগে আরেকটি সিগারেট ধরালো সৌরভ।

দীর্ঘ ৩০ মিনিট পর দীপা ভেজা চুল সতেজ দেহ নিয়ে সৌরভের দিকে এগিয়ে আসে। এদিক সৌরভ তিন নাম্বার সিগারেট চলছিল। সিগারেটের ধোঁয়া দিপার দিকে ছুরে মেরে একটি টান দেওয়ার অফার করতেই নাক মুখ ছিটকালো দিপা। এর আগে কম বেশি সবাই স্মোকিং করতো। তবে দীপা সবার থেকেই ব্যাতিক্রম।

সৌরভ তার মধ্যে একটু আভিজাত্য দেখতে পায়। সবার থেকে আলাদাই মনে হল তার। তার এই লাইনে আসার কারণটা খুব একটা স্বাভাবিক ছিল না। বেশির ভাগই আসে অর্থের দায়ে। কিন্তু দিপার কারণটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

ঢাকায় একটি গ্যাং রেইপ হয়েছিল। ১৩ জানুয়ারী রাত ৯ টায়। অনেক আলোচনা সমালোচনা হয়েছিল। প্রতিটা নিউজ পেপার ফোলাও করে ছাপিয়েছিল। সেই ধর্ষিত মেয়েটিই হচ্ছে দিপা। বয় ফ্রেন্ডের সাথে পার্টিতে গিয়েছিল। মদ্যপায়ী বয়ফ্রেন্ড ছিল শুধু দেহ ভোগের জন্যই। সেদিন শুধু এক একা নয় প্রায় সব ফ্রেন্ডদের জন্যই উন্মুক্ত করে দিয়েছিল দিপাকে। অন্ধকারে অন্যদের চিনতেও পারে নিই সে।

সেদিনের অসহায় দীপার আর্তনাদ চার দেওয়ালে বাইরে যেতে না পারলেও পশুদের পশুত্ব আর নিছের প্রতি সম্ভ্রম হানির জন্যে প্রতিবাদী দিপার শেষ পরিনতি হয়েছিল একজন কলগার্ল হিসেবেই। আদালত তাকে একজন কলগার্ল হিসেবেই সমাজে পরিচয় করিয়ে দেয়। সব কিছু হারিয়ে নিজেকে সত্যি সত্যিই আবিষ্কার করে একজন কলগার্ল হিসেবে।

তার এই কলগার্ল হওয়ার পিছনের ইতিহাস খুব অবাক হয়ে শুনছিল সৌরভ। সৌরভের ভিতরে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। দীর্ঘ দিনের অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত করার সুযোগ এসেছে। দিপা, সৌরভের গালে চুমু দিয়ে তার কাজের দিকে মনোযোগ দিতে চাইলে সৌরভ তার মিশনের উদ্দেশ্যে হারিয়ে ফেলে।

কোন এক অজানা ভাবনার হারিয়ে যায়। সেও এমন একটি ঘটনা ঘটিয়েছিল। নিজের মধ্যে এখন অপরাধ বোধ কাজ করছিল সৌরভের। নিজের অপরাধের জন্য অনুতপ্ত। সে নিজের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করার জন্য নিজেকেই শেষ করে দিচ্ছিল এই অন্ধকার জগতে। সে এভাবেই প্রতিটা রাত কাঁটাতো নতুন নতুন দিপাদের সাথে।

সেই ১৩ জানুয়ারী রাত ৯ টায় অন্ধকার রুমে একে একে দশ জন রেপ করেছিল দিপাকে। সেই দশজনের একজন ছিল সৌরভ। এই কথা দিপাকে বলার সময় অঝোরে কাঁদছিল সৌরভ।

দিপা, হা হা হা ..........

images 13.jpeg
source