সবকিছুর একটা সময় থাকে। ঠিক তেমনি স্বপ্ন, আকাঙ্খারও একটা সময় নির্ধারণ থাকে। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। আবার সময় চলে গেলে সাধন হবে না। তাই সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত আপনাকে লক্ষ্যে পৌঁছাতে সহযোগিতা করবে। গাছেও সবুজ পাতা গজায় বছরের নির্দিষ্ট একটা সময়ে।
আমি আমার জীবনের অনেক মূল্যবান সময় নষ্ট করেছি। এখন সেই প্রতিটা সেকেন্ডের জন্য আমাকে অনুতপ্ত হতে হয়। আমাদের জীবনে বার বার সফলতা ধরা দেয় না। সফলতা অনেক কষ্টের পর এক দুই বার ধরা দিতে পারে। তবে সফলতা ধরা দিলে সেটাকে কাজে লাগানো, সেই সফলতার ধারাবাহিকতা বাজায় রাখা ও বাস্তব জীবনে তার প্রতিফলন ঘটানোটাই হচ্ছে প্রকৃত সফলতা।
আমার জীবনে সফলতা ধরা দিয়েছিল। সফলতা সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠবার আগেই সিঁড়ির ধাপ গুলো একে একে ভেঙ্গে ফেলেছি। আড্ডা বাজি, সঠিক গাইড লাইন, কম বয়সে অধিক উপার্জন, লোভী বন্ধুদের সংস্পর্শ, ভবিষ্যত পরিকল্পনার অভাব গুলো আমার সফলতা উপরে ওঠার সিড়ির প্রতিটা ধাপ একটা একটা করে ভেঙ্গে ফেলেছে ।
আপনি প্রচুর পরিশ্রমী, আপনি অনেক অর্থ উপার্জন করছেন, আপনি কখনো ফেইলার হোন নিই। তার মানে এই নয় যে আপনি একজন সফল। তাহলে আমি অনেক আগেই সফলতার চূড়ায় উঠে যেতাম।
পরিশ্রমের পাশাপাশি সঠিক জায়গায় সঠিক সময়ে পরিশ্রম করতে হবে। শুধু পরিশ্রমের যদি সফলতার মাপকাঠি হত তাহলে একজন রিক্সা চালক, কুলি দিন মজুর এরা সব থেকে সফল ব্যাক্তি হত।
আপনি অনেক অর্থ উপার্জন করছেন। আপনার পকেট ঝাড়লেই বাংলাদেশের সব থেকে বড় টাকার নোট গুলো পরবে। টাকার বান্ডিলে মানিগেরের সাইজের সাথে পশ্চাতদেশে সাইজ ও বেড়ে যাবে। কিন্তু যদি দিন শেষে আপনার সঞ্চয় শূন্য থাকে তাহলে কোন লাভ নেই।
বিল গেটস এই ব্যক্তিকে কে না চিনে। ইনি বলেছিলেন, "সঞ্চয় করার পর যা অবশিষ্ট থাকে তাই ব্যয় কর, খরচ করার পর বলিও না সঞ্চয় করবো।"
আমি এইসব নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি। উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর মাথায় ভূত চাপছিল নিজে কিছু করবো। বাসা হতে যেদ করে কিছু টাকা নিয়ে দুই বন্ধু মিলে ছোট্ট একটা ট্রেনিং সেন্টার শুরু করি। খুব ভালো বলতে খুবোই ভালো চলছিল। প্রত্যাশার থেকেও বেশি। কিন্তু শেয়ার বিজনেস বলে কথা।
ময় মুরুব্বিরা বলে না, "শেয়ারে বিয়ে করা ভালো, কিন্তু ব্যবসা করা ভালো না।" মাঝে মধ্যে ময় মুরুব্বিদের কথা শুনতে হয়। বাসায় ও বলেছিল একাই কর যা টাকা লাগবে দিচ্ছি। কিন্তু, ঐ যে উঠতি বয়স। কেবল উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছিলাম। বন্ধুর জন্য জান দেওয়ার মত অবস্থা। যাক এই সব কথায় আর না যাই। গুনীজনেরা বলে যা চলে গেছে তা নিয়ে আফসোস করতে নেই।
তবে সেই সময়ে পকেট ছিল গরম। কেমন ছিল তা তো বুঝতেই পারতেছেন। ভাবটা এমন ছিল মুই কি হনু রে 😃
আফসোস সময় টাকে কাজে লাগাতে পারি নাই, অর্থটাকে সঠিক জায়গায় প্রয়োগ করতে পারি নাই। পরিশ্রমের ফল ভোগ করতে পারি নিই। মেধার বিকাশ ঘটাতে পারি নিই। সে সময় যা পেয়েছিলাম সেটাকেই ভেবে নিয়েছিলাম চিরস্থায়ী। অথচ এইসব যে সঠিক পরিকল্পনা না থাকলে যেকোন সময়েই শূন্যে হাড়িয়ে যেতে পারে তা কে জানতো।
মাঝখানে নিজেকে ধরেই নিয়েছিলাম ফেইলার হিসেবে। নিজেকে নিজেই ভাবতাম আমার দাঁড়ায় আর কিচ্ছু হবে না। আমি সব কিছু শেষ করে দিয়েছি। মনে হয়েছিল জীবনের বাতি নিভে গেছে। পরিবার কে বলে দূর কথাও চলে যাবো। যেখানে কারো বাঁধা হয়ে থাকবো না।
যদিও বা প্রতিষ্ঠান কখনো ছাড়ি নাই ধৈর্য ধরে প্রতিষ্ঠানটি আঁকড়ে ছিলাম। তবে সব আশা ছেড়ে দিয়ে ছিলাম। মনোযোগ হাড়িয়ে ফেলেছিলাম। কাজ করে কোন আনন্দ পাচ্ছিলাম না।
তবে আল্লাহর অশেষ রহমতে জনি না কিভাবে নিজের উপর আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছি। আবার নতুন করে শুরু করেছি। এখনো চলছে। তবে মাঝখানে করোনা মহামারি ব্যাপক ক্ষতি করে ফেলেছে। তবে সত্যি কথা বলতে এখন যত বিপদেই আসুক, যত বাধাই আসুক আত্মবিশ্বাসের এক বিন্দুও এদিক সেদিক হবে না, ইনশাআল্লাহ্।।
যাক অনেক লম্বা হয়ে যাচ্ছে। কি থেকে কি বলে ফেললাম। সাজিয়ে তো মোটেও লিখতে পারি না।
কষ্ট করে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।