বিডি কমিউনিটিতে যুক্ত হওয়ার এক মাসের মত হল। বেশ অনেক গুলো ভালো লেখকেরও সন্ধান পেয়েছি। ভালোই লাগে তাদের লেখা গুলো পড়তে। সময়ও সুন্দর কাটে। ঠিক কয়েকজনের মধ্যে @ihfaysal ভাইয়ের লেখাও ভালো লাগে।
ভাইয়ের কিছুদিন আগে একট পোস্ট চোখে পরে। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে হালকা টোকা দিয়েছিল। তাই আমারও একটু লিখতে ইচ্ছা করলেও সময় করে উঠতে পারি নিই। তাই আজকে একটু লিখতে বসলাম।
গদবাধা সিলেবাস, কাঁধে দশ কেজি ওজনের একটা ব্যাগ, বই মুখস্ত কর পড়া দাও। বছর শেষে ফাইনাল পরীক্ষার রেজাল্ট নিয়া পরের ক্লাসে উর্তীন হওয়া। জিপিএ-৫ পাইলে বাচ্চাকে মাথায় তুলে নাচা আর রেজাল্ট খারাপ করলে উঠতে বসতে বাচ্চার অর্ধেক জীবন নিয়ে নেওয়া। এটাই আমাদের শিক্ষা।
স্কুল গুলো খাতায় কলমে সেবা মূলক প্রতিষ্ঠান থাকলেও এগুলো এক একটি কোম্পানি আর ছাত্র ছাত্রীরা এক একটা প্রোডাক্ট। এই প্রডাক্ট গুলো বাজারে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। চললে চললো না হলে অচল মাল হয়ে পরে থাকলো।
কর্মমুখী ও বাস্তবমুখি কোন শিক্ষা নেই। ইতিহাস নিয়ে গ্র্যাজুয়েশন করে ব্যাংকে চাকরী করে। হিসাব বিজ্ঞান নিয়ে অনার্স মাস্টার্স করে কোন কোম্পানিতে জব করতেছে। বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করে দোকানে দোকানে মার্কেটিং করতেছে।
আমরা দেশের শিক্ষার মানদণ্ড হচ্ছে পাশের হারের উপর। ছাত্র ছাত্রী বা সন্তানদের শিক্ষার মন দন্ড হচ্ছে জিপিএ-৫।
আমেরিকান বিখ্যাত উপন্যাসিক গেইল গুডউইনের বলেছিলেন, উত্তম শিক্ষাদান পদ্ধতি হলো- “এক চতুর্থাংশ প্রস্তুতি, তিন চতুর্থাংশ উপস্থাপনা”।
আমেরিকার বিখ্যাত দার্শনিক ও শিক্ষা সংস্কারক জন ডিউয়ির মতে, “আমরা যদি আজকের শিশুদের গতকালের মতো করে পড়াই তাহলে আমরা তাদের আগামীকাল ছিনিয়ে নিলাম”।
কিন্তু আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা সেই মান্দাত্তার আমলের। এখন যে সৃজনশীল ব্যবস্থা চালু করেছে তার সাথে আগের শিক্ষা ব্যবস্থার কোন পার্থক্য নেই।
আমাদের তো গড়ায় গলদ। আমাদের প্রাইমারি শিক্ষকের শতকরা ৪০ জন উচ্চ মাধ্যমিক পাশ। বৃত্তি আর বিস্কুট দিয়ে স্কুল মুখী করা হচ্ছে কিন্তু শিক্ষার মান পরিবর্তন হচ্ছে না। শিক্ষার মান পরিবর্তন করতে হলে অবশ্যই শিক্ষকদের মান পরিবর্তন করতে হবে।
আমাদের সব ক্লাসে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেছে। অথচ সেই বিষয় নেওয়ার মত শিক্ষক তৈরী করি নিই। কোন কলেজের বাংলা শিক্ষক নিচ্ছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি। ছাত্রদের ভূল ছাড়া কিছুই শেখাতে পারছে না। তাহলে আগে কি উচিত ছিল না শিক্ষকদের প্রস্তুত করা? এতে মাঝখানে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
আমি উচ্চমাধ্যমিক ছাত্র ছাত্রীদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি পড়াই। বিভিন্ন কলেজের ছাত্র ছাত্রীদের পড়ানোর সুবাদে বুঝেছি এক একটা কলেজের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের শিক্ষকদের কি অবস্থা। হুট করে তাদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হল।
বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ভূরি ভূরি জিপিএ ফাইভ নয় পাইপ তৈরী হচ্ছে। আর প্রশ্ন ফাঁসের তো সংস্কৃতি চালু হয়ে গেছে। এইসব সার্টিফিকেট শুধুই এখন সোকেসে সাজিয়ে রাখার জন্য। এভাবে চলতে থাকলে খুব শীঘ্রই মেধাশূন্য হয়ে পরবে জাতি।
আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ভবিষ্যত প্রজন্মের ভবিষ্যত চিন্তা ভাবনা করে গবেষনার মাধ্যমে ব্যাপক পরিবর্তন দরকার।