সুন্দর আর সুন্দরী শব্দটিকে আমার কাছে পবিত্র শব্দ। সুন্দর বা সুন্দরী এই শব্দ দুটোর সাথে চরিত্রের একটি সম্পর্ক রয়েছে। যার চরিত্র নেই তাকে এই পবিত্র শব্দ সুন্দর বা সুন্দরী বলা কতটা যুক্তি যুক্ত আপনারাও ভালো বলতে পারবেন।
আমাদের সমাজে অনেক নারীরা বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত। মহান চিকিৎসা পেশায় নারীদের অংশগ্রহণ কম নয়। তাদের অনেকেই প্রথিতযশা। তাদের অনেকেই পেশাগত জীবনে কম খ্যাতি অর্জন করেন নিই। কিন্তু কৈ তাদের কেউতো এত বিত্য বৈভবের অধিকাররী হতে পারেননি।
বৃষ্টি ভেজা আল্ট্রা থিন স্যরি আল্ট্রা মর্ডান কতগুলা ছবি ফেসবুকের হোমপেজে ভাসছে, সে কি চাহনি ! সেই চাহিনীর ভিতরে লুকিয়ে আছে কতগুলো ভয়ংকর চরিত্র।
সেই কলংকিত সাবরিনার কথা সবাই জানেন। ইতিমধ্যেই সব গণমাধ্যম ও সামাজিক গণমাধ্যম গুলোতে তার উদাম দেহ সহ জায়গা করে নিয়েছে।
কার্ডিয়াক সার্জন হিসেবে ডা. সাবরিনা চৌধুরীর একটা সাক্ষাৎকার পড়েছিলাম। ৪-৫ বছর আগের কথা। কোন পত্রিকা ঠিক মনে পরছে না। পত্রিকার হেডলাইন হতো- 'মহৎ পেশার মহান মানুষেরা'! তাদের কথা বার্তা শুনলে মনে হতো এইমাত্র আল্লাহর ওলি নেমে এসেছে ! সেই সাবরিনায় হচ্ছে এই সাবরিনা।
স্টুডেন্ট লাইফে সিনেমায় অভিনয় করতে চেয়ে প্রডিউসারদের পেছনে পেছনে ঘুরেও হয়তো সঠিক জায়গায় শ্রম না দিতে পেরে ব্যার্থ এই সাবরিনারা এখন ঠিকই বুঝে গেছেন কোথায় শ্রম দিতে হয়, কিসের বিনিময়ে কিভাবে কাজ পাওয়া যায় !
এদের মত ভালো মানুষ নেই। টিভি-পত্রিকায় সাক্ষাৎকার দিয়ে গরিব আর মানবতার জন্য সাবরিনারা নিজেদের বিলিয়ে দেয়ার কথা বলে ক্ষমতাবান কারো খাটে কাপিয়ে দেয় !
একবার ভাবুন আজ তার এই অর্জনের বিনিময়ে তাকে কতটা উজার করে দিতে হয়েছে। কতটা উজার করে দিয়েছে নিজেকে?
এক মাত্র ঐ শুয়োরের পাল গুলো ভালো বলতে পারবে যারা তাকে এই সুযোগ করে দিয়েছে। যারা তার দেহের প্রতিটা ভাঁজ ইঞ্চি ইঞ্চি অংশ স্পর্শের বিনিময়ে নিজের শততা, নীতি নৈতিকতা, দেশ প্রেমকে বিলিয়ে দিয়েছে। আর তার সেই স্বামী যে তাকে ব্যবহার করেছে। এমন চরিত্রহীনকে আর যাই হোক সুন্দরী বলা বেমানান। খুব ভদ্র ভাষায় হলেও এদের পতিতা বলা যেতে পারে।
এদের সংখ্যা কিন্তু কম না। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এরা গড়ে উঠে। মূল হোতারা থাকে পর্দার আড়ালে। হিসেব নিকেশের বনি বোনা না হলে এরা হয়ে যায় বলি কা বাখরা। তখন সাবরিনা, পাপিয়া আর সাহেদের মত দুই একজন থলের বিড়াল বার হয়ে আসে।
এ এক আজব দেশের গজব কাহিনী !
কেউ টাকা, কেওবা রুপের বিনিময়ে, যে যেভাবে পারছে তাদের ক্ষমতার দাপটে টেকা বড় দায় হয়ে যায়।
আমার কথা শুনতে একটু কটু শোনালেও সত্য হচ্ছে, আমাদের দেশে সব ক্ষেত্রেই সুন্দরী মেয়েদের চেহারাকে তাদের ৫০% যোগ্যতা হিসেবে ধরা হয়। বাকি ৫০% তাদের মাঠে-খাটে শ্রম দিয়ে বাগিয়ে নিতে হয় !
আর ডা. সাবরিনার আর পাপিয়াদের মত শত শত সাবরিনারা আর পাপিয়াদের রূপ আর শ্রমের সমন্বয় ঘটিয়ে অপরাধের রাজত্ব করে যাবে।