My Blockchain Journey

Words
693
Reading
4 min
Listen
Play
6y

২০১৭ সালের অক্টোবরে সন্ধান পাওয়া স্টিমিট সার্ভারে আইডি বানাই। সবার পোস্টে শত শত ডলার দেখে আঁতকে উঠি। এতো টাকা দেখে স্বপ্নে বিভর হয়ে যাই। এই বুঝি টাকার খনি পেলাম। কে পায় আমাকে। ধীরে ধীরে বুঝতে পেলাম ভোট দিতে হয়। ভোট দিলেই টাকা। নিজেই একটা ভোট দেওয়ার সাথে সাথে ০.০১ SBD পাইলাম। ভাবটা এমন মুই কি হনু রে। তারপর আহা কত প্লান কত কি আরো কয়েকজনের আইডি বানায় দিলাম। প্লান ছিল নিজেরাই নিজেদের ভোট দিব। তখনও ভোটিং পাওয়ার সম্পর্কে আইডিয়া ছিল না। এভাবে ধীরে ধীরে অনেক কিছুই বুঝতে পারলাম। ধীরে ধীরে যেমন শর্টকাটে কোটি পতি হওয়ার স্বপ্ন ভেঙ্গে গেলো ঠিক তেমনি কাজের আগ্রহ কমে গেলো।

তবে এভাবেই কিছুদিন টুকটাক কাজ করছি। কিছু কামাই করছি। এক সময় 1 SBD সমান 14 US ডলার হয়েছিল।

কিছু টাকাও জমা হল। অনলাইনে একটি ওয়েবসাইটে সেল দিয়ে বিকাশে টাকা তুলবো। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস পুরা ৫০০০ টাকার পুরো টাকাটাই মেরে দিল। হৃদয় ভেঙ্গে চুরমার। সেই ভাঙ্গা চুরা হৃদয় নিয়ে আর কি কাজ করা যায়?

কিন্তু সেই সময়ের সহযাত্রী mspbro@mspbroridoykhan22@ridoykhan22 এদের হৃদয় শাহ্ সিমেন্টর মত মজবুত। মচকাবে কিন্তু ভাঙ্গবে না। এদের ধৈর্য্য কিন্তু আমার মত টুটাফুটা না। এরা নিয়মিত কাজ করেই চললো। অনেক কিছু শিখলো অনেক কিছু জানলো। এরা মাঝে মধ্যেই আমাকে বলতো কাজ করতে। আমি টুকটাক অসময়ে ঢুকলাম আইডিতে টু মেরে আবার চলে যেতাম।

এই তো এবার চলে আসলো হাইভ। তাদের বলাতে আবার ঢুকে পরলাম। সেই ভাঙ্গা হৃদয়কে জোরা লাগানোর চেষ্টা। স্বপ্ন বুনতে দোষ কি?

আবার কাজ শুরু করলাম। bdcommunity@bdcommunity এর একটি ভোটে প্রাণ ফিরে পেলো যেমনটা শীতের ভোরে শিশির ভেজা ঘাস স্নিগ্ধতা এনে দেয়। বিডি কমিউনিটির ডিসকোর্ড চ্যানেলে যোগ দিলাম। অনেক ভাই ব্রাদার্সের সাথে কথা পরিচয় হলাম টুকটাক কথা বললাম।

linco@linco ভাই shuvo35@shuvo35 ভাই ও sourovafrin@sourovafrin ভাইকে পার্সোনালি নক করলাম। অনেক কিছু জানলাম। একটাই কমন প্রশ্ন ভাইদেরকে করলাম ভোট পাওয়ার নিয়ম কি। এটা মনে হয় প্রতিটা নতুন সদস্যদের কমন প্রশ্ন। উত্তর ও কমন, কোয়ালিটি কনটেন্ট লিখলেই ভোট পাওয়া যাবে।

আমাদের নতুনদের জন্য খুব কঠিন কাজ কোয়ালিটি কনটেন্ট তৈরী করা। এখন কোয়ালিটি কনটেন্ট তৈরী করতে হলে তো উপন্যাসিক টাইপের কিছু জ্ঞান থাকতে হবে তাই না?
গল্প কবিতা লেখার মত রোমান্টিকতা থাকতে হবে তাই না?
টেকনোলজিতে দক্ষ হতে হবে তাই না? ফটোগ্রাফার হতে হবে?
ভিডিও এডিটিং এর ও দক্ষ হতে হবে?
FB_IMG_1559332763568.jpg
image Source: My Fb wall

আচ্ছা উপন্যাস গল্প কবিতা এসবেই বেছে নিই? কিন্তু প্রেম না করলে নাকি উপন্যাসিক হওয়া যায় না। গল্প কবিতা গান নাকি ভিতর থেকে আসে না। রোমান্টিকতা থাকে না। আর যদি দু একটা ছ্যাঁকা খায়ে ব্যাকা হওয়া যায় তাহলে নাকি আরো কঠিন সব শব্দ প্রয়োগ হয়।

এখন মদ্দাকথা হল ভালো উপন্যাস কবিতা গল্প লিখতে হলে প্রেম করতে হব। ভাবনা এখন প্রেমের মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছে। ভাবছি ক্যান্ট পাবলিকের স্কুলের সামনে গিয়ে পারফিউম মেরে দাঁড়িয়ে থাকবো। সুন্দরী সুন্দরী রমনী কয়েকজনকে টার্গেট করে প্রেম প্রস্তাব দিব। তারপর দু একজনের পক্ষ থেকে জুতা পেটা হয়তো খেতে হবে। হোক না তাতে কি? কিন্তু প্রেম করতেই হবে। হাইভের জন্য যদি দু চারটা জুতা পেটাই না খাইলাম তাহলে কেমন হাইভিয়ান? কত সিনিয়র ভাইয়েরা এভাবে জুতা পেটা খেয়েই কবি সাহিত্যিক হয়ে গেলো।

অনেক কষ্ট করে হয়তো একজন প্রেমিকা ম্যানেজ করবো। কম আর বেগ পেতে তো হবে না। না হয় ১৫০০ টাকা দিয়ে এপেক্স হতে ঈদে কেনা নতুন স্যান্ডেলটা পুরো ক্ষয় করে ফেলবো রমনীদের পিছে ঘুরতে ঘুরতে।

এদিক আবার শুধু স্কুলের সামনেই প্রেমিক খোঁজার কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। সমান তালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

সাদিয়া, মারিয়া, এঞ্জেল মেঞ্জেল কত কি নামের আপুদের টার্গেট করতে হবে। দুই একটার সাথে ফেবুকে প্রেমও হয়তো জমিয়ে যাবে। আবার সেখানে বিচিওয়ালা আপুও পাওয়া যাবে 🤦‍♂️ এভাবে হয়তো প্রেম একদিন জমিয়ে ফেলবো। তারপর ক্যান্টের কোন একটা সুন্দরী রমনী অথবা ফেসবুকের শত শত বিচিওয়ালা আপুর মধ্যে হতে মেহজাবিন টাইপের সত্যি কারের একজনের সাথে হৃদয় মিলিয়ে দিব। দিলের মধ্যে নতুন ফুল ফুটাবো। সুভাশ ছাড়বো সর্বাঙ্গে। প্রেমিকাকে নিয়ে এদিক সেদিক ঘোরাফেরা করবো। মাঝে মধ্যে ছেলে পেলেদের চোখ রাঙ্গানি সহ্য করবো। এভাবেই হয়তো প্রেম জমে খির হয়ে যাবে।

অনিক গল্প জমা হবে। কখনো আবেগ উতলায়া লেখা দেখি করবো আবার কখনো বিবেক দিয়ে জ্ঞান বিতরণ করবো। আবার কখনো আবেগ আর বিবেকের সংমিশ্রনে ইমোশনাল হয়ে লেখা লিখিও চলবে। প্রেমিকার ঠোঁটের প্রথম চুম্বনের অনুভুতি লিখবো। অনেক অনেক ভোট পাবো অনেক অনেক টাকা ইনকাম করবো। সব বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে প্রেমের সমাাপ্তি ঘটিয়ে বিয়ের পিড়িতে বসবো। তারপর দুটা ফুটফুটে বাচ্চা হবে। তাদেরকে এইসব গল্প শুনাবো।

আহা! জীবন সত্যিই যদি এমন হয়?

My Blockchain Journey | Ecency