নয় মাস গর্ভে ছিলাম মায়ের। জন্মের পর সর্বপ্রথম মায়ের শরীরের উষ্ণতা পাওয়ার সাথে সাথে যেই লোকটি মাথার উপর ছাদ হয়ে দাড়িয়ে ছিল তিনি হলেন বাবা। জানিনা প্রথম কবে বাবার আঙ্গুল স্পর্শ করেছিলাম। কবে প্রথম এই আঙ্গুল ধরে হেটেছিলাম। তবে এই আঙ্গুল ধরেই প্রথম হাটা শিখেছি, দেখেছি মহান আল্লাহর সৃষ্টির এই সুন্দর পৃথিবীকে। এখনো উপভোগ করছি এই পৃথিবীকে। সত্য কি সেটা তো বাবা মা'ই শিখিয়েছিল। বাবা ও মায়ের কাছেই দেখেছি ন্যায় ও আলোর পথ, যে পথ সত্য দেখায়। তাদের কাছেই শিখেছি এ পথে চলা।
গত কাল নাকি বাবা দিবস ছিল। সত্যি বলতে প্রতিটি দিনেই আমার কাছে বাবা ও মা দিবস। বাবা ও মা কে একটি দিনের মধ্যে আবদ্ধ রাখতে চাই না। বাবা হাড়ানোর আর্তনাত এখনো কাঁদায়। গভীর রাতে বাবা যে হৃদয়ের অনেক কাছে চলে আসে। বাবার ছেড়ে চলে যাওয়ার চতুর্থ বছর চলছে। ৪-১২-২০১৬ রবিবার সকাল ৯:২০ - ৯:৩০ মিনিটের মধ্যে বাবা আমার মায়ের কোলেই শেষ নাশ্বাস ত্যাগ করেন।
• বাবা চলে গেছে তিনটি বছর আগে রেখে গেছে অনেক স্মৃতি, দিয়ে গেছেন অনেক অনেক ভালবাসা, চিরতরে জন্য ঋনী করে গেছেন অনেক স্বপ্ন। জানিনা বাবার এই স্মৃতি গুলো অক্ষত রাখতে পারবো কিনা, জানিনা এই ভালবাসার প্রতিদান কিভাবে দিব, কতটুকু দিতে পারবো, জানিনা বাবার এই স্বপ্ন গুলো কতটুকু বাস্তবায়ন করতে পারবো। তবে এতটুকু বলতে পারবো বাবা আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি, চেষ্টার কোন ত্রুটি রাখছি না। বাবা এখনো তোমাকে স্পষ্ট দেখতে পাই সেই আগের মত। চোখ বন্ধ করলেই এখনো দেখতে পাই ঠিক যখন যেখানে যেভাবে দেখতে চাই।
• আব্বু পেশায় ছিলেন একজন রেলওয়ে কর্মচারী। রেল কে খুব বেশি ভালবাসতেন। রেল সম্পর্কে কোন খারাপ কিছু শুনতে চাইতেন না।
• বাবার সম্পর্কে কি আর বলবো। বহু গুণে গুনান্মিত ছিল বাবা। বাবা একজন ভালো ভলিবল খেলোয়ার, টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়ন ও ভালো দাবারু ছিল। আমি বাবার কাছে দাবা খেলাটাই শুধু শিখেছি।
• বাবা সুন্দর আর্ট করতেন। সুযোগ পেলেই সব সময় প্রকৃতিকে নিজের কলম আর খাতায় নিয়ে নিতেন।
• হাত দিয়ে কাঠের সুন্দর সুন্দর ফুলদানি খেলনা সবেই বানাতে পারতেন।
বাবার মৃত্যুর ছয় মাস আগেই বাবা অসুস্থ হোন। তবে আমি ভাগ্যবান যে আমি বাবার একটু সেবা করার সুযোগ পেয়েছিলাম। বাবাকে জোর করে খাওয়াতাম। নিশ্চয়ই ছোট থাকতে বাবা আমাকে জোর করে খাওয়াতো।
তবে বাবার মাথায় হাত বুলানো শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে হাত বুলানো সব সময় অজুহাত খুজতাম। আর বাবার শরীরে মাথায় আহত বুলানোর ফিলিংসটা আসলে বলে ও লিখে বোঝানো সম্ভব না। থাক না সেটা একান্তই। তবে ঐ যে বাবার শরীরে হাত বুলিয়ে আদর করা এটা একদম কবরে শোয়ানো পরেই শেষ হয়েছিল। সর্বশেষ হাত বুলিয়ে আদর করেছি আমিই। আর বেশি কিছু লিখতে চাই না।
বাবা, ওপার থেকে ছায়া হয়ে থেকো, একাকী রোদের উত্তাপে যেনো আমি পুড়ে না যাই। সব বাবাদের জন্য রইলো বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা। প্রত্যেক বাবা তাঁর প্রিয় সন্তানের মমতায় মমতা ছড়িয়ে থাকুক, আগলে রাখুক আজীবন। প্রত্যেক সন্তান যেন তার বাবা ও মাকে দিক সর্বোচ্চ সেরা ভালবাসাটি উপহার।নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ ক্ষমাশীল। হে মহান আল্লাহ তায়ালা, তবোমার কাছে ফরিয়াদ করি বাবার সকল গুনাহ মাফ করে বাবার কবরের আজাব থেকে মুক্ত করে দাও। সবাই দোয়া করবেন আমার বাবার জন্য। বেহেসতো নাসিব করুন আমার বাবাকে। আমিন।।