ছয় বছর আগে পরিচয়। মিষ্টি চেহারা এক দেখাতেই ভালো লাগা। সেই থেকে ভালোবাসা।
মিষ্টি মধুর হাসি বুকের মধ্যে ছন্দ তুলে। ঠিক গালের মধ্যে ছোট্ট একটা টোল। কাজল কাল কেশ পেছন থেকে দেখলে সব কিছুই ঘন কালো কেশ দিয়ে ঢাকা। চুলের মধ্যে অন্য রকম সৌন্দর্য রয়েছে।
ঠোঁটের ফাঁকে ফাঁকে ধীর গতিতে বার হওয়া এক একটা শব্দ হৃদয়ের গভীরে ছোঁয়া দেয়। আর যখন বলে ভালো বাসি তোমাকে প্রিয় তখন পৃথিবীর সকল জঞ্জাল ভূলে গিয়ে শুধু তার মধ্যেই হাঁড়িয়ে যাই।
কত প্রেম কত ভালোবাসা সব যেন একজনের জন্যই। রূপের নেই কোন অহংকার আর এটাই হয়তো সবার থেকে বেশি ভালোবাসতে বাধ্য করেছে।
ছয়টি বছর পার করেছি সপ্তম বছরে পা দিয়েছি। অনেক আশা দিয়েছি। অনেক আশা ভেংঙ্গেছি। অভিমান করেছে বহুবার ফিরে তাকিয়েছে বার বার।
ছয়টি বছরে ছয় হাজারের ও বেশি আশা দিয়েছি ভেঙ্গেছিও অনেক। পূরন যে করি নিই তা কিন্তু নয়। তবে তা খুবই অপ্রতুল্য ও যতসামান্য। কিন্তু এটা তো ভালোবাসা। ভালোবাসার কাছে কতোই আশা পরাজিত।
সবার মতোই আশা ছিল ভালোবাসার প্রথম অধ্যায়ের শেষ পরিনতি বিয়ে করে দ্বিতীয় অধ্যায়ের সূচনা করবো। সুন্দর একটি সাল অংকের হিসেবে খুব সহজ দুই শূন্য দুই শূন্য (২০২০)।
তবে ঐ যে মধ্যবিত্তদের একটিই বাঁধা। ভালোবাসার অভাব নেই। আশার ও অভাব নেই। চাহিদারও অভাব নেই। তবে শুরু থেকেই দুজনের চাহিদা নেই বললেই চলে। শুধু অভাব রয়েছে অর্থের। মধ্যবিত্ত পরিবার গুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সমস্যা যেন সময়ে অসময়ে হিমালয়ের রূপ ধারণ করে। কষ্টে মষ্টে নিজেকে ছন্দের মধ্যে নিয়ে আসলেও। বৈশ্বিক মহামারি কোভিডের হানা যেন সব আশা ভেঙ্গে চুরমার করে দেয়। আশার আলো কাল বৈশাখী ঝড়ের সাথে কালো মেঘে যেন ঢেকে যায় । সব কিছুই যেন থমকে দাঁড়ালো। দুশ্চিন্তার ছায়া গ্রাস করে ফেলেছে। যত সামান্য ইনকাম করতাম তাও আর নেই। এখন পরিবার চালানোর টেনশন মা আর আপুর ওষুধ প্রতিদিনের খড়চ হিমসিম খেতে হচ্ছে। তার উপর বিয়ে? ভাবা যায়? এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতে সামনে। সব আশা স্বপ্ন যেন দুঃস্বপ্নে রূপ নিল নিমেষেই। রাতের গভীরতা যেন কুরে কুরে খাচ্ছে। এখন আর সান্তনার বানীও সহ্য হয় না। ফোনের বিপরীত হতে আশা সান্তনার শব্দ গুলো কুইনিনের মত তিক্ত হয়ে আসছে।