যদি আপনি মনে করেন বিয়ার পর আপনার অঅঁঅয কোন সঙ্গী দরকার জামাই কিংবা বউ ব্যাতীত আপনার ইমশোনাল সাপোর্ট এর জন্য আপনার ছেলে বন্ধু কিংবা মেয়ে বন্ধুর প্রয়োজন হবে তাহলে বিয়া করার আগে হাজার বার ভাবেন না হলে অন্তত দুইবার ভাবেন। আর যদিও বা করেই ফেলেন তাহলে বিয়ে করলেও বাচ্চা কাচ্চা পয়দা করিয়েন না। সাংসারিক জীবনে অশান্তি নেমে আসবে। আপনারা মারামারি করবেন গুতাগুতি করবেন আর মাঝখানে বাচ্চাকাচ্চা গুলো তা দেখে মানসিক অসুস্থতা নিয়ে বড় হবে।
বিয়ে মানে শুধু শারিরিক সম্পর্ক নয়। বিয়ের সম্পর্ক একভাগ হইল শারীরিক, বাকি নিরানব্বই ভাগ হইল মানসিক। যদি মানসিক উপযোগ মুখ্য না হইত তাহল এক্সট্রা ম্যারিটাল এফেয়ার বা পরকিয়ার এর জন্য কোন রিলেশন ভাংগত না। সবাই মেনেই নিত।
অনেক মাস্টার্স পি এইচ ডি করা লোকজন বিয়া টিকাইতে পারে নাই, কারণ তাদের কাছে তাদের স্বামী কিংবা স্ত্রীর চেয়ে ইউনিভার্সিটির র্যাঙ্ক বা পদবী বড় ছিল। আমি এমনও কেইস জানি একই স্কুলে ফান্ড পাওয়ার পরও এক সাথে থাকে নাই, অন্য স্কুলে আর একজন চলে গেছে, কারণ পরিবারের চেয়ে র্যাঙ্কটাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। পরিবারের থেকেও বড় করে দেখেছে র্যাঙ্ক।
আর হিন্দি সিরিয়াল আর হিন্দি সিনেমা দ্বারা ব্রেইন ওয়াশড আপা'রা, আপনার জামাই হৃত্বিক রোশান এর মত স্মার্ট হবে না, তার একটা ছোটখাট ভুড়ি থাকবে, বড় ভুড়িও থাকতে পারে😛। সে বিয়া শাদীতে নাগিন ড্যান্স দিতে পারবে না, তারে নাচার জন্য হাত পা ছুড়াছুড়ি শুরু করলে মনে হবে সে ব্যায়াম করতেছে 😛। সে অডি গাড়ি চালাইয়া কাওরান বাজার কিংবা ওয়ালমার্টে বাজার করতে যাবে না। যদি তার রিক্সায় কইরা বাজারে যাওয়ার সামর্থ্য থাকে তাহলে সে রিক্সাতেই যাবে, যেদিন তার অডি 🚘 গাড়ির কিনার সামর্থ্য থাকবে সেইদিন সে অডিতে চইড়া পাব্লিক টয়লেট এ গিয়া মুইতা আসবে দরকার পরলে বাকিটাও সারে আসবে।
কোন ছেলেরে তার স্ট্যাটাস রেইজ করার জন্য দিনরাত প্যারা দিতে হয় না, পাশের বাড়ির ছেকরার উদাহরণ টানতে হয় না। এইটা তার ইন্সটিঙ্কট এই থাকে।
আপনার জামাই আপনারে নিয়া রসের আলাপ পাড়তে পারে না, কবিতা, গল্প লিখতে পারে না, মধুর মধুর কথা বলতে পারবে না। কারণ সে ভালো ছেলে।
সমস্যা নাই, ভাল ছেলেরা আপনারে নিয়ে সেকেন্ডে সেকেন্ডে রসের আলাপ করতে পারবে না। তার কাছে আপনার প্রতি লয়াল থাকাটাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় কবিতা, গল্প, উপন্যাস । যে আপনার জন্য সেকেন্ডে সেকেন্ডে কবিতা প্রসব করে, সে আর একজনের জন্যও করতে পারবে লজিক তাই বলে। এমন করেও তার হাজার হাজার উদাহরণও দেওয়া যাবে।
ভারতীয় সিরিয়াল বা মুভি গুলো আমাদের নারীদের অতিরিক্ত মাথা নষ্ট করছে। তারা শিখিয়েছে প্রতিটা নারীই রাজকন্যা, সুন্দরী, অপ্সরী, সুহাসিনী। তাদের জন্য কোন রাজ কুমার অপেক্ষা করছে। তাদেরকে কোন রাজ মহলের রানী বানিয়ে নিয়ে যাবে।
দিনশেষে আপনিও প্রিন্সেস না আমিও প্রিন্স না, আমরা ম্যাঙ্গো ম্যান। গল্প আর হিন্দী সিরিয়াল আর ছিনেমা থেকে বের হোন। বাস্তবতারে মেনে নিতে শিখেন।
আর পোলারাও এইটা শিখেন যে আপনার বউ এর ক্যাটরিনা কাইফ এর মত ফিগার হবে না। কম বেশি উচু নিচু থাকবেই। তার বয়স পঞ্চাশ হইলে তার ফিগার রেখা কিংবা হেমা মালিনীর মত থাকবে না, সময়ে হলে ঝুলে যাবে চামড়া। ডিজনীর প্রিন্সের এর মত সে সারাদিন আপনার সাথে লুতুপুতু আলাপ পাড়বে না।
প্রয়োজনে আপনারে তার সাথে রান্নাঘরে বইসা বাসন ধুইতে হবে, মরিচ কেটে চোখ ঘষতে হবে। মোটর সাইকেলের হেলমেট পরে পেঁয়াজ কাটঃ হবে। সে রান্না করার সময় তার পাশে দাড়াইয়া থাকতে হবে,সপ্তাহ শেষে কাপড় ধুইতে সাহায্য করতে হবে। কাপড়ের মচড়ায়ে পানি বার করতে হবে। ছাদে গিয়ে কাপড় লুকাতে দিতে হবে।
আপনি যেহেতু বিল গেটস এর পোলা না কিংবা সউদী কোন শেখ এর মাইয়া না, আপনারা যেহেতু দুইজনেই কমন ম্যান সুতরাং কমন ম্যান এর মত হাগতে শিখেন সরি বাঁচতে শিখেন। মাসে এক সপ্তাহ সুখে কাটাইলে বাকী তিন সপ্তাহ ভূতে কিভাবে এইটারো প্রিপারেশন নেন।