আমাদের ডাক্তার সাহেব বেশ কয়েকটা কাজের বুয়া পাল্টাইছে। এমনিতেই কাজের বুয়া পাওয়া খুব কঠিন। তবে এবারের বুয়া দেখতে সুন্দর। উজ্জল শ্যামলা বর্ণের। ফেস কাটিং ভালো। কামুক দৃষ্টি। চলা ফেরার মধ্যে আকর্ষণ রয়েছে।
যাই হোক ডাক্তার সাহেব রুমে শুয়ে শুয়ে গল্পের বই পড়ছে। বুয়া আসলো ঘর ঝাড়ু দিতে। নতুন বুয়াকে দেখে একটু নড়ে চড়ে বসলো।
বুয়ার কাজ শেষে যাওয়ার সময় ডাক্তার সাহেব চোখ দুটো 😳 বার করে দেখছে।
ধূর কি ভাবছেন আপনারা? তেমন কিছু না উনি দেখছেন বুয়া যাওয়ার সময় দরজা টেনে দিয়ে যাচ্ছে কিনা। এর আগের বুয়া গুলোকে এই কারণেই বাদ দিয়েছিল।
ডাক্তার সাহেবের এভাবে দেখাতে বুয়া মাথা পিছনের দিকে ঘুড়িয়ে তাকিয়ে বললো স্যার এভাবে তাকিয়েন না মোর হাউজবন্ড আছে।
এই কথা শুনে ডাক্তার রিতিমত হতভম্ব। হালকা শুকনো কাশি দিয়ে বইয়ের দিকে তাকালো।
বুয়া আবার বলে উঠলো তয় হেতে আমার খবর নেয় না। শুভ দা ভাবতেছিল বুয়ার তো দেখি চরিত্রে সমস্যা আছে। পরখনে ভাবছিল না ভূল ভাবছি হয়তো।
বুয়া এবার কাছে আসে নিজে নিজেই বলে উঠলো মোর সোয়ামি ভালো না। অন্য মাইয়ার দিকে বদ নজর দেয়। একবার বেটারে ঝাড়ু পিটা করছিলাম। তারপর থেইকা ব্যাটায় আমার লগে থাকে না।
কাছে চেয়ার টেনে বসে অদ্ভুত শিহরিত কন্ঠে মায়া মিসিয়ে বলে:
স্যার জানেন, মোর বুকে বহুত কষ্ঠ। দুই বছর থাইকা সোয়ামির আদর কি জিনিস জানি না। সেই দুই বছর আগে সোয়ামির আদর পাইছিলাম।
শুভ দা গলা খেকরিয়ে বললো, তো বিয়ে সাদী করলেই পারেন?
বুয়া আরেকটু এগিয়ে আসে শুভদার চোখে চোখ রেখে ঠোঁট দুটো আলগা করে।
শুভদা বুক ধস ধস করে। লা হাওলা পরে আর মনে মনে ভাবছিল মিয়া খলিফার মত অঙ্গভঙ্গি করে কেন?
-- বুয়া চোখে মুখে কামুকতার ছায়া। আলগা করে কইলো, দেন না আইনা।
-- হালকা চেপে যায়ে, কি দিব?
-- বুয়া আপনার মত টাগরা টগবগে জোয়ান ছেলে খুইজ্জা।
-- শুভ দা থতমত গোলায়, ওওও, খুঁজে পাইলে জানাবো।
এরোই মধ্যে স্যার হতে মামা ডাকা কখন শুরু করছে দাদা টেরোই পাই নিই।
-- ভুরু উপরে তুলে মাথা একটু নাড়িয়ে বলে মামা বাসা খালি।
শুভ দা হুম খালি, তো?
-- মামা আমারে কেমন লাগে সত্যি কইরা কোন। বুক ফুলিয়ে ঘন ঘন নিঃশ্বাস নিচ্ছে।
শুভ দা বইয়ের দিকে তাকিয়ে। না সব ঠিক আছে। ভালোই।
-- মামা তাকান এইদিকে। আমার বুক কেমন জানি শব্দ করে। দেখেন তো একটু নাইরা দেখেন।
-- শুভ দা হিরা ভাবীর কথা ভাবলো। আবার একটু বদ চিন্তা ভাবনা কাজ করছে। তারপর আবার ভাবছে একটু শুকনা কাশি দিব নাকি ধমক দেই। আবার মাথায় ঘুরছে নাকি নারে দেখি জিনিসটা কেমন।
শয়তান রীতি মত চাপে ধরছে ওয়াসওয়াসা দিচ্ছে শুভদাকে। কয়েক সেকেন্ড ব্রেইন থেমে ছিল। তারপর শুভদার ব্রেইন সক্রিয় হল। শুভ দা আবার বুদ্ধিমান মানুষ। ব্রেইনের কথা বেশি শুনে। ব্রেইন বলে উঠলো। না শুভদা না। তুমি এখন ম্যাচিউর। নিজের স্ট্যান্ডার্ড বজায় রাখো। সুযোগ পাইলেই পাক হানাদার বাহিনীর মত ঝাঁপিয়ে পর না।
-- শুভ দা। একটা ধমক দিয়া কইলো। ঐ বুয়া। মাথা ঠিক আছে? কুকাম করার জন্য তোমাকে রাখি নাই।
-- মামা আপনার নজরেই তো আমাকে.....
--শুভ দা, চুপ বেয়াদব মহিলা। ভাগেন এইখান থেইলা। পটলা পটলি বাধেন। আর যাওয়ার সময় দরজা টানে দিবেন।
বুয়া খুব হাসলো। হাসতে হাসতে মাথা মাটিতে ঠ্যাক খাবে এমন অবস্থা।
-- মামা আপনে খুব ভালা মানুষ।
-- শুভ দা। একটু হতচকিত হয়ে, মানে?
-- @hiramoni ভাবী আছে না? উনিই আমারে এইখানে হায়ার করছে। আপনার চরিত্র ঠিক আছে কিনা পরীক্ষা করার জন্য।
-- অ্যা......... মনে মনে ভাবছে বাচলাম। সংসার ভাঙ্গে খান খান হয়ে যেতো। একটা মাইর ও মাটিতে পারতো না।
আপনি ওকে পাইলেন কই?
আমি না উনিই আমাকে পাইছে। ধরেন উনি লাইনে আছে। কোমরের ভাঁজ হতে ফোন বার করে হাতে ধরায় দেয়।
ফোনের স্ক্রিনে নাম নাম্বার ও ছবি স্পষ্ট ভেসে উঠেছে। আর মনে মনে @shuvo35 ভাবছে এ যাত্রায় বেঁচে গেলাম।