সড়ক পথের মত নৌপথেও অরাজকতা চলছে বহুদিন ধরেই। নৌ দুর্ঘটনায় প্রাণহানী যেন স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হচ্ছে দিন দিন। প্রতিদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে যাত্রীবাহী ট্রলার ডুবি। এখন মিডিয়াও ক্লান্ত হয়ে গেছে। বড় বড় জাহাজগুলো নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতায় নামে। দ্রুত গন্তব্যে পৌছতে নিজেরা বেপরোয়া প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়, প্রবল ঢেউয়ে নদীতে চলাচলরত অন্যান্য যানবাহন আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করে।
আজ লঞ্চ দুর্ঘটনায় দুপুর পর্যন্ত মারা গেছে ৩০জন। এই সংখ্যা আরও বেশী। ছোট্ট লঞ্চ মর্নিংবার্ডকে ময়ূর ২ নামের একটি বড় লঞ্চ পেছনে থাকা বিপদজনকভাবে ধাক্কা দিলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে মন্ত্রী আশঙ্কা করছেন, এটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে।
এর আগে
১৯৮৬ সালে ৪২৬ জন
১৯৯৩ সালে ১৮৩ জন
১৯৯৪ সালে ৩০৩ জন
২০০০ সালে ৫৫৩ জন
২০০২ সালে ২৯৭ জন
২০০৩ সালে ৪৬৪ জন
২০০৪ সালে ৮১ জন
২০০৫ সালে ২৪৮ জন
২০০৬ সালে ১৯ জন
২০০৭ সালে ২০২ জন
২০০৯ সালে ২৬০ জন
২০১৪ সালে ৪৩ জন
আরো অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে
ছোট নৌকা, বড় নৌকা, পণ্যবাহী ট্রলার, বাল্কহেড, বোলগেট, ওয়েল ট্যাঙ্কার কেউই নিয়ম মেনে চলেনা। চলে যে যার ইচ্ছামত। মালিকপক্ষ আর প্রশাসনের যৌথ সিন্ডিকেটে জিম্মি সবাই। নদীতে টহলরত নৌ পুলিশের প্রধান আগ্রহ ও কাজ কি তা নদীপথে পণ্যবহনকারীরা ভালোই জানেন। তারাই বলতে পারবে তাদের কাজ কি।
আজ নৌ দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে দেড় লাখ করে টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। অনেক টাকা তো। যেখানে সড়ক দুর্ঘটনায় ২০/২৫ হাজার টাকা পাইতো সেই হিসেবে ৭/৮ ভাগ টাকা বেশি পাচ্ছে।
যে দেশে গোগলস এর দাম ৫ হাজার, বালিশের সরকারি দাম ৫ হাজার টাকা, পর্দার দাম ২লাখ, সরকারি কর্তারা ফোন কেনার জন্য বরাদ্ধ পান ৭০হাজার টাকা, ওই দেশে দরজা ও জানালাহীন অন্ধকার ঘরে বালিশ ছাড়া ঘুমন্ত বেসরকারি ব্যক্তির দাম দেড় লাখ টাকা, নেহায়েত কম নয়। শুধু তো পাঁচ বছর পর পর ভোটেই দিতে হয়।