ডাক্তারের দুরবস্থা

Words
313
Reading
2 min
Listen
Play
6y

ডাক্তার সাহেবের বেজায় মন খারাপ। কি যেন বীর বীর করে বকছে। বুঝলাম না ডাক্তার সাহেবের আবার কি হল।

তো ডাক্তার সাহেবকে একটু বাজিয়ে জানতে পারলাম। ডাক্তার সাহেবের চেম্বারের বাহিরের বাতি আর গত কাল জুতা চুরি হয়ে গেছে। তাই তো চেম্বারের বাহিরের অংশটা ভুতুরে পরিবেশ বিরাজ করছে। যাক লাইট আর জুতা চুরি হওয়ায় টাকা পয়শার একটা বড় বেগ পোহাতে হচ্ছে। এমনিতেই করোনা কাল। লোকজনের করোনার ভয়ে দাঁতের ব্যাথাও কমে গেছে। তাই একটু আয় রোজকারেও ভাটা পরেছে।

Screenshot_20200621-010756_Brave.jpg

যাক এই দূর্দিনে একজন চেম্বারের দিকে এগিয়ে আসছে। ডাক্তার সাহেবের অনুমান করতে একটুও দেরি হল না যে তার কাছেই আসছে। যাই হোক বল্টুর দাঁতে প্রচুর ব্যথা। বল্টু দাঁতের ব্যথায় কুপকাত। দাঁতের ব্যথায় বল্টুর খাওয়া দাওয়া বন্ধ। খাওয়া দাওয়া বন্ধ থাকলেও বেচারার বাকি সব প্রাকৃতিক কাজ কিন্তু বন্ধ নেই। মাঝে মধ্যে বায়ু দূষণ ও করছে। ডাক্তার সাহেবের চেম্বারের পরিবেশটা পুরোই ভারী হয়ে গেলো। তারপরেও ডাক্তার সাহেব জানতে চাইলো বল্টুর কি সমস্যা।

Screenshot_20200621-011052_Brave.jpg

বল্টু তার পান খাওয়া লাল দাঁত গুলো বার করে চোয়ালের ৩২ নম্বর দাঁতটি দেখিয়ে বললো স্যার গত কাল মরন খাউন মানে কাঙ্গালী ভোঁজ খেতে গিয়েছিলাম। অনেক খেয়েছি কিন্তু শেষের হাড্ডিটা চাবাতে গিয়ে কি হল বুঝলাম না। সেই যে ব্যাথা শুরু হল আর সারে না। ব্যাথার চো*নে হাড্ডিটা খাওয়া শেষ করতে পারি নিই এমনকি আজকে ব্রাশ ও করতে পারছি না।

ডাক্তার সাহেব সব কিছু শুনে প্রেসক্রিপশন লিখে দিচ্ছে সেই সময় বল্টু
-- স্যার আরেকটা সমস্যা
--- ডাক্তার সাহেব, কি সমস্যা।
-- বল্টু, আমি কাল দাওয়াত খাওয়ার পর থেকে দশ বার টয়লেটে গিয়েছি। একেবারে পাতলা মুসুর ভাল বার হচ্ছিল। এখনো একটু চাপে ধরে আছি। যদি কিছু ওষুধ দিতেন।

ডাক্তার সাহেব হালকা মাথা নাড়িয়ে এমডিস আর সেলাই লিখে দিয়ে প্রেসক্রিপশন বল্টুর হাতে বাড়িয়ে দিলেন।

প্রেসক্রিপশন বল্টুর হাতে পাওয়ার সাথেই বিকট শব্দ হল। কিছু বুঝার আগেই বল্টু আর কোন দিক না দেখেই সোজা দৌড়। পিছনে বল্টুর সাদা পায়জামাটা নিমেষেই হলুদ বর্ন ধারণ করলো। আমি @Shuvo35 দাদাকে বললাম দাদা আজ আর আড্ডা দেওয়া হল না। নাক চেপে এদিক সেদিক না দেখেই চলে আসলাম।

ডাক্তারের দুরবস্থা | Ecency