স্কাউট আন্দোলনের মহান প্রতিষ্ঠাতা লর্ড ব্যাডেন পাওয়েল বলেছিলেন, “পৃথিবীকে যেমন পেয়েছো তার চেয়ে একটু শ্রেষ্ঠতর রেখে যেতে চেষ্ঠা কর, তোমার মৃত্যুর পালা যখন আসবে তখন এই ভেবে শান্তি পেয়ো যে, সুন্দর এ পৃথিবীর জন্য কিছু করে যেতে পেরেছো।”
স্বার্থপর এই পৃথিবীতে একজন আরেকজনের ভালো কিছু দেখতে চায় না। সেখানে পৃথিবীর জন্য ভালো আর কি করবে? এমন তাচ্ছিল্য করে অনেকেই বলতে পারি।
আচ্ছা পৃথিবীর জন্য কিছু করা বাদ দেই আসুন নিজের জন্যই কিছু করি। একটা গল্প বলি। একদিন হঠাৎ এক বড় ভাইয়ের সাথে দেখা। চা খেতে বললো। চা খেতে খেতে হুট করে ভাই জিজ্ঞাসা করলো, তুমি এখন কি করতেছো মাহাবুব? প্রশ্নটি শুনলেই ভিতরে ছ্যাকাত করে উঠলো। চেহারায় মেঘ জমে যাওয়া অবস্থা। আসলে প্রতিটা বেকার ছেলের কাছে এই প্রশ্নের সম্মুখীন হওয়া টা খুব কঠিন।
চাকরী বাকরি কর না কেন?
এই বয়সে কেউ বেকার থাকে?
আর কত দিন?
এই ভাবে কি জীবন চলে?
এই সকল প্রশ্নের জন্য আত্মীয় স্বজনদের আগমন ঘটলে কাচু মাচু করে কোন মতে সালাম দিয়ে পাগার পার হতে হয়। আত্মীয় স্বজনদের বাসায় ও যাওয়া হয় না এইসব প্রশ্নের সম্মুখীন যাতে হতে না হয়।
যাই হোক ভাইকে আমার পরিকল্পনার কথা গুলো বললাম। চায়ের কাপে দুই চুমুক দিয়ে আবারো একটা উদ্ভট প্রশ্ন করে বসলো।
মাহাবুব কখনো জীবনকে দিনের অংকে কষেছো, জীবনে কতদিন বাঁচবে? দিনের কথা বলেছি, বছরের কথা কিন্তু বলি নিই। আমিও ফট করে বলে দিলাম কত আর আশি নব্বই হাজার দিন বাঁচবো। আমার এই উত্তর শুনে ভাই কি অট্টহাসি। আশে পাশের লোকজন ও মুখ দেখছে। ভাইয়ের হাসার রহস্য খোঁজার চেষ্টা করছে।
আশে পাশের লোকজনের দিকে ধেয়ান না দিয়ে পকেট থেকে ফোন বার করে ফোনের ক্যালকুলেটর বার করে আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো হিসেব কর। আমাদের গড় আয়ু ৬৫ বছর। ৩৬৫ দিনে এক বছর। তাহলে ৬৫ বছরে কতদিন হচ্ছে। ৩৬৫×৬৫=? ভূল হচ্ছে না তো, আবার হিসেব করে দেখি একই। রীতি মত আহাম্মক 🤦♂️। কি ভাবছেন আপনি? জি, মাত্র ২৩,৭২৫ দিন। এবার তোমার জীবনের বিগত দিন গুলো বাদ দিয়ে দেখো কতদিন হয়।
২৩৭২৫-৯১২৫(২৫বছর)=১৪৬০০, হুম মাত্র ১৪৬০০ দিন বাকি রয়েছে। তারপরে ভাই শুধু বলেই যাচ্ছে, আমি শুধু মনোযোগ দিয়ে শুনি।
মাহাবুব তুমি জীবনের মূল্যবান ৯১২৫ টা দিন ব্যায় করে ফেলেছো যা আর কখনো ফিরে আসবে না। আর বাকি অল্প কিছু সময় রয়েছে। তাই এখন আর ভাবার সময় নেই। ভাবলে ভাবতেই থাকবা কাজ আর হবে না। কাজ করতে হলে মাঠে নামতে হবে।
যা আছে তা দিয়েই শুরু করতে হবে। যেটা পারো সেটা দিয়েই শুরু কর। তুমি যদি সফল হতে চাও তবে শুরু কর। শুরু করাটাই হচ্ছে সফলতার প্রথম ধাপ। একবার সফল হলে হাজার ব্যর্থতা কেউ দেখতে যাবে না।
আমরা পড়াশুনা শেষ করতে করতে জীবনের ২৬-২৮ বছর পার করে দেই। তারপর গ্রাজুয়েশন শেষ করে চাকরীর খোঁজে আরো দুই তিন বছর পার করে দিয়ে ব্যর্থ হয়ে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে থাকি।
ভাগ্যকে দোষ দিয়ে কোন মতে জীবন চালানোর মত জব করি। এরেই ফাঁকে বিয়ে কিছুদিন পর বাচ্চা এভাবেই ৫০ টি বছর কেটে যায়। তারপর বার্ধক্য সাথে সারা জীবনের ব্যর্থতার গ্লানি শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তিরস্কার করতে থাকে। এই ব্যর্থতার গ্লানি আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকেও পিড়া দিবে। তাই পার্মানেন্ট সল্যুশনের দিকে এগিয়ে যাওয়া উচিত। উদ্দ্যেগক্তা হও তোমার পরবর্তী প্রজন্মের জন্য।
উপরের কথা গুলো ছিল সেই বড় ভাইয়ের। আচ্ছা প্রথমেই কি যেন বলছিলাম, ও আচ্ছা পৃথিবীর জন্য কিছু করে যেতে। পৃথিবী যেমন পেয়েছি তার থেকে ভালো কিছু দিয়ে যেতে। হুম পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কিছু করতে পারলে তারা একটি সুন্দর পৃথিবী উপহার দেবে।
আমাদের কর্মগুলো প্রজন্মের জন্য হতে হবে। আজ আমাদেরকে নব দিগন্তের সূচনা করতে হবে। পারস্পরিক সৌহার্দবোধ বজায় রেখে একে অপরকে সামনের দিকে এগিয়ে দিতে হবে।
উদ্ভুত যেকোনো সংকট সমাধানে উদারতার সাথে এগিয়ে আসতে হবে সকলকে।