Story646637

srvoter(41)
Published in
#story
Words
2178
Reading
10 min
Listen
Play
8y

বিশ্বাস করো লক্ষিটি, রাস্তায় প্রচুর জ্যাম ছিলো তাই
আসতে দেরি হয়েছে!
কথাটা বলেই স্বপন নিরীহ দৃষ্টিতে ... শিশিরের
দিকে তাকিয়ে আছে। শিশির কিছু বলছে না। সে
রেগে বসে আছে। তার নাকে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমা।
চোখে অপেক্ষার ছাপ। তার পুরো চেহারাটা
লালচে হয়ে গেছে। রাগলে শিশির মেয়েটার এই
ব্যাপার গুলো হয়। স্বপন আবার বলল:- স্যরি..স্যরি..স
্যরি এই যে কান ধরছি। আর কখনো দেরি হবে না!
একথা শুনার পর শিশির কান্না শুরু করল। স্বপন অবাক
হয়ে বলল:- আরে তুমি কাঁদছো কেন? তারপর শিশির
আরো জোরে কান্না শুরু করলো। কান্নার শব্দ
বাড়তেই থাকলো... বাড়তেই থাকলো...
হঠাৎ করেই স্বপনের ঘুম ভেঙ্গে গেলো।
তারমানে সে এতোক্ষণ স্বপ্ন দেখছিল? ধ্যাত!
স্বপ্নটা কতো সুন্দর ছিল। কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার
হলো সে এখনো কান্নার শব্দ শুনতে পাচ্ছে।
বাইরে গিয়ে দেখলো তার মেয়ে নীরা তার
মাকে দেখবে বলে কাঁদছে। কোনো সাধারণ
কান্না নয়, কাচফাটা ধরণের কান্না। স্বপনের মনে
হচ্ছে নীরা আর কিছুক্ষণ কাঁদলে তার টেবিলে
রাখা কাচের গ্লাস, জানালার কাচ, সব ভেঙ্গে চিনির
দানার মতো হয়ে যাবে। স্বপনের বাড়াবাড়ি রকমের
ইচ্ছে করছে নীরাকে জোরে একটা ধমক
দিতে। কিন্তু ভুলেও সেটা করা যাবে না। সেটা
করলে নীরার কান্না হবে, দেয়ালফাটা ধরণের
কান্না। কান্নার শব্দে ফ্ল্যাটের চারপাশের দেয়াল
ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাবে। সকালবেলায় পত্রিকার
প্রথম পেইজে, বড় বড় হেডলাইনে ছাপা হবে
"চার বছরের শিশুর দেয়ালফাটা কান্নায়, ফ্ল্যাট ধসে
দুজন নিহত"। ভয়ংকর ব্যাপার। স্বপন বলল,
:- আম্মু ! আজ সারাদিন তোমায় কার্টুন দেখতে
দিলে কেমন হয়?
:- না..আ..আ..আ..।আমি কার্টুন দেখবো না, তুমি না
বলেছো কার্টুন দেখলে চোখ খারাপ হয়! আমি
আম্মুকে দেখবো।
:- আচ্ছা তবে কার্টুন বাদ! তোমায় যদি এত্তোগুলা
চকোলেট এনে দেই, তবে?
:- না...আ..আ..আ..। তুমি না বলেছো চকলেট
খেলে দাতে পোকা হয়! আমি আম্মুকেই
দেখবো। আম্মুকে নিয়ে এসো। এ্যা..এ্যা..এ্যা.
.
মেয়েটা আজকাল তার মায়ের মতো চালাক হয়ে
যাচ্ছে। সাধারণ টোপে কাজ হচ্ছে না। কঠিন
কোনো টোপ ফেলতে হবে। স্বপন বলল:
:- নীরা, তুমিতো জানো তোমার আম্মু আকাশে
থাকে। বললেই সে যখন তখন চলে আসতে
পারে না। তাকে তো আগে খবর পাঠাতে হবে।
.
নীরা এবার খানিকটা থামলো। মনে হচ্ছে এই
টোপে কাজ হয়েছে। সে নিজে নিজে
কতক্ষণ কি যেন ভাবলো। তারপর তার বাবার দিকে
তাকিয়ে বললো:- খবর পাঠাতে হবে?
নীরার কথা শুনে স্বপন মুচকি হাসলো। তারপর
নীরার চোখ মুছতে মুছতে বলল:-
:- হ্যাঁ, খবর পাঠাতে হবে। তুমি একটা কাজ করো।
তুমি নিজেই তোমার আম্মুর জন্য একটা চিঠি লিখে
নিয়ে এসো।
:- চিঠি?
:- হ্যাঁ চিঠি..আকাশে তো আর ফোন করা যায় না।
সেখানে চিঠিই লিখতে হয়।
.
নীরা দৌড়ে তার ঘরে গেল।বোধহয় সে চিঠি
লিখবে। স্বপন তার অফিসের জন্য তৈরি হচ্ছে। সে
ভাবছে, নীরা আজকাল তার মাকে ঘন ঘন দেখতে
চাচ্ছে। এভাবে কতদিন তাকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে রাখা
যাবে? পৃথিবীতে ভিন্ন ভিন্ন মানুষগুলোর ভিন্ন
রকম চাওয়া। নীরা ও পৃথিবীর মানুষগুলোর একজন।
আজ পর্যন্ত সে নীরার কোনোরকম চাওয়া
অপূর্ণ রাখেনি। কিন্তু শত ইচ্ছে স্বত্বেও, সে কি
নীরার এই শখ পূরণ করতে পারে? পৃথিবীতে
মানুষের সবরকম শখ কি পূরণ করা সম্ভব? সে কি তার
স্ত্রী শিশিরকে ফিরিয়ে আনতে পারে? সে কি
নীরাকে বলতে পারে, নীরা তোমার মা,
আমাদের কাছে থেকে অনেক দূরে চলে
গেছে। সেখানে গেলে কেউ ফিরে আসে
না। কিংবা চাইলেও ফিরে আসতে পারে না। তোমার মা
আমায় খুব ভালোবাসতো। আমার জন্মদিনে সারাদিন
আমায় উইস করতো না। রাতে যখন বাড়ি ফিরতাম তখন
দেখতাম; আমাকে চমকে দেয়ার জন্য চোখে
কাজল দিয়ে, নীল শাড়ি পড়ে, সামনে ইয়া বড় এক
কেক নিয়ে অপেক্ষা করছে। প্রতিদিন সকালে
অফিসে যাওয়ার সময় আমার কপালে চুমু খেতো।
ভরা পূর্ণিমায় ছাদে গিয়ে আমার সাথে গল্প করতো।
কখনো কখনো খুব রাগও দেখাতো। ঘুম
থেকে উঠতে না চাইলে আমার উপর পানি ঢেলে
দিতো। দেরি করে ঘরে ফিরলে আধা ঘন্টা বাইরে
দাড় করিয়ে রাখতো। তবে তার রাগ ভাঙ্গাতে আমার
বেশি সময় লাগতো না। দুইটা ক্যাটবেরি চকলেট
আর কয়েকটা লালগোলাপ নিয়ে। তার সামনে
দাঁড়িয়ে বোকার মতো হাসলে, সে নিজেও রাগ
ভুলে আমার সাথে হাসিতে যোগ দিত। আজ
তোমার মা আমার কাছে নেই। সে থাকলে
তোমাকেও নিশ্চয়ই আমার মতো ভালোবাসতো।
.
স্বপন কাঁদছে। তার কান্না করা ঠিক হচ্ছে না। হঠাৎ
করে নীরা চলে এলে সে তার চোখের জল
দেখে ফেলবে। তারপর সেও কান্না শুরু করবে।
নীরা এই স্বভাবটা পেয়েছে তার মায়ের কাছ
থেকে। স্বপন তার চোখের জল মুছে ফেলল।
রুম থেকে বেরিয়ে নীরা বলল:
:- আব্বু, এই নাও চিঠি!
:- ওলে বাবা লে, আমার আম্মুটা আজকাল চিঠি লেখা ও
শিখে গেছে। তা কি লিখেছো?
আমি কি পড়তে পারবো?
:- না, এটা আম্মুর চিঠি। তুমি পড়বে কেন?
স্বপন হাসতে হাসতে বললো:- আচ্ছা, ঠিক আছে।
আমি পড়বো না। তবে এখন যে আমার যেতে
হবে আম্মু। তা না হলে এই চিঠি পাঠাবো কিভাবে?
তুমি সামিহা খালার সাথে খেলা করো। কেমন?
নীরা বিড়বিড় করে বলল: আচ্ছা।
স্বপন বেরুতে বেরুতে তার সামিহা খালা (কাজের
লোক) কে বলল:- খালা আমি যাচ্ছি, আপনি নীরার
দিকে নজর রাখবেন।
(২)
স্বপন অফিসে বসা। হাতে নীরার লেখা চিঠিটা।
তাকে ভীষণ রকম চিন্তিত দেখাচ্ছে। দরজার
বাইরে থেকে সুমু বলল:
:- স্যার, আসবো!
:- হু, আসো
:- কেমন আছেন স্যার?
:- আছি কোনোরকম, খারাপ না!
:- নীরা কেমন আছে?
:- ভালো।
:- আপনি কি কোনো কারণে চিন্তিত?
:- আমাকে তোমার চিন্তিত মনে হচ্ছে কেন?
:- অন্য সময় রুমে ঢুকলেই আপনি আমায় বসতে
বলেন। আজ বলেন নি। আমি কেমন আছি সেটাও
জিজ্ঞেস করেন নি। তাছাড়াও আপনার মুখটাও কেমন
জানি গম্ভীর মনে হচ্ছে।
:- সুমু তুমি বসো। আর হ্যাঁ..সত্যি বলতে আমি
ভীষণ রকমের চিন্তিত।
.
সুমুর প্রচন্ড ইচ্ছে করছে স্যারের চিন্তিত হওয়ার
কারণটা জানতে। জিজ্ঞেস করা উচিত হবে কিনা সে
বুঝতে পারছে না। এর মধ্যে সে অনেকগুলো
প্রশ্ন করে ফেলেছে। এমনিতে সে অফিসের
সবাইকে সবকিছু জিজ্ঞেস করতে পারে। কেউ
কখনো কোনো বিরক্ত বোধ করে না। সুন্দর
মেয়েদের উপর বিরক্তি দেখানো কোনো
কাজের কথা না। কিন্তু বিষয়টা তার স্যারের
ক্ষেত্রে অন্যরকম। সে তার স্যারকে দুটো
প্রশ্ন করলেই মনে হয়, যেন অনেক প্রশ্ন
করে ফেলেছে।স্যারকে সে অসম্ভব রকমের
পছন্দ করে। পৃথিবীর প্রায় সব ঘটনাই কারণ নিয়ে
ঘটে। কিন্তু সে কেন তার স্যারকে পছন্দ করে
তার কোনো কারণ আছে বলে সে মনে করে
না। সে স্যারের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত প্রায় সব
ব্যাপারেই আগ্রহ নিয়ে খোঁজ খবর নেয়। সুমু
খানিকটা ইতস্তত বোধ নিয়ে বলল:- আমি কি আপনার
চিন্তিত হওয়ার কারণটা জানতে পারি?
স্বপন বলল:- আমার মেয়ে নীরার সম্পর্কে তুমি
তো প্রায় সবই জানো। তার জন্মের সময় আমার
স্ত্রী শিশির মারা গেছে। তারপর আমিই তাকে লালন-
পালন করেছি। তার এই এতটুকু জীবনে কখনো
মায়ের অভাব বুঝতে দেইনি। আমি বিয়েটা পর্যন্ত
করিনি যদি না আবার তার সৎ মা তাকে কোনোরকম
কষ্ট দেয়। তবুও আজকাল সে তার মাকে দেখবে
বলে কান্নাকাটি করছে। এই দেখো, সে তার
মাকে একটা চিঠিও লিখেছে। সুমু চিঠিটা তার হাতে
নিলো। তারপর স্বপনকে বললো:- চিঠিটা কি আমি
পড়তে পারি? স্বপন খানিকটা ভেবে বলল:- এটা আমার
পড়া নিষেধ। কিন্তু তুমি চাইলে পড়তে পারো।
.
সুমু চিঠিটা পড়া শুরু করলো:
আচ্ছা আম্মু,
তুমি আকাশে থাকো কেন? আমার বান্ধবী ইনতির
আম্মুতো আকাশে থাকে না। স্কুল ছুটি হলে ইনতির
আম্মু তাকে নিয়ে যায়। সে তার আম্মুকে চুমুও খায়।
তুমি আমায় স্কুল থেকে নিয়ে যাওনা কেন? আমার কি
তোমায় চুমু খেতে ইচ্ছে করে না? আম্মু আমি
তোমায় দেখবো। তুমি তাড়াতাড়ি আসো।
ইতি
নীরা
.
চিঠি পড়ে সুমু কাঁদছে। স্বপন সামনে বলে
জোরে কাঁদতে পারছে না। কিন্তু সে কাঁদবে
কেন? সে তো নীরার মা না। সে তো সুমু। যার
এখনো বিয়ে হয়নি। পৃথিবীতে মেয়েদের মায়া
বেশি। তারা মায়ের জাত। মা হওয়ার আগেই একজন
মায়ের অনুভূতি তারা বুঝতে পারে। শত্রুপক্ষের
কারো বাচ্চা ও যদি তাদের সামনে কাঁদে, তাদের
ভীষণ খারাপ লাগে। কোলে নিয়ে কান্না থামাতে
ইচ্ছে করে। খুব সম্ভবত, মেয়েদের মগজের
চেয়ে হৃদয় কাজ করে বেশি। স্বপন বলল:
:- সুমু তুমি কাঁদছো কেন?
:- স্যার, নীরা খুব সুন্দর করে চিঠি লিখতে পারে।
:- সুন্দর চিঠি পড়ে কেউ কি কাঁদে?
:- জানিনা স্যার। আপনি কি চিঠিটা একবার পড়বেন?
:- পড়তে ইচ্ছে করছে, কিন্তু এই চিঠি আমার পড়া
নিষেধ!
:- একটা কথা বলব? স্যার।
:- হ্যাঁ বলো।
:- আমি কি একবার নীরার সাথে দেখা করতে পারি?
স্বপন মুচকি হেসে বলল:- কেন নয়? তাছাড়া নীরা
তোমায় পেলে খুশিই হবে। প্রতিদিন সামিহা খালার
সাথে সময় কাটাতে তার ভালো লাগার কথা না!
সুমুর খুব খুশি লাগছে। নীরার সাথে দেখা করবে
বলে সে এত্তো খুশি হচ্ছে কেন? নীরার মায়ায়
কি সে আটকে গেছে। একটা ছোট্ট চিঠিতে
এত্তো মায়া কি করে জড়ানো থাকে?
(৩)
কলিং বেল বাজছে। সামিহা খালা দরজা খুলতেই স্বপন
এবং সুমু ঢুকলো। নীরা সুমুকে দেখে একরকম
দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরলো। স্বপন বলতে
চাইলো:- নীরা ইনি সুমু, আমাদের
অফিসে......পুরো কথাটা বলার আগেই নীরা
বলতে শুরু করলো:- আম্মু তুমি চলে এসেছো?
এতদিন তুমি আসনি কেন? তুমি জানো আমি তোমার
জন্য কত্তো কেঁদেছি। কথাগুলো বলেই নীরা
কাঁদতে শুরু করলো। স্বপনের লজ্জা লাগছে।
নীরা সুমুকে তার মা ভাবছে। সুমু ব্যাপারটাকে
হয়তো সহজভাবে নাও নিতে পারে। সুমুকে তার
কিছু একটা বলা দরকার। কিন্তু এর আগেই সুমু
নীরাকে বলল:- আমি তো আসতাম ই। কিন্তু তুমি
তো আগে আমায় চিঠি লিখনি।
নীরা বললো,
:- আমি যদি চিঠি লিখি, তুমি কি আসবে?
:- হ্যাঁ, অবশ্যই আসবো।
:- জানো আম্মু! আমার দুটো বন্ধু আছে। টমি আর
মিমি। তাদের আজ বিয়ে!
সুমু অনেকটা অবাক হয়ে বলল:- তাই নাকি?
নীরা তার টেডিবিয়ারগুলো দেখাতে দেখাতে
বললো:- আম্মু, এটা হচ্ছে টমি আর এটা মিমি। এই মিমি,
আম্মুকে জিজ্ঞেস করতো ওনি কেমন আছে!
নীরার কথা শুনে সুমু হাসছে। নীরাও আজ খুব
হাসছে। তারা মা ও মেয়ের মতই বসে খেলছে।
আহা কত পবিত্র এই দৃশ্য। পৃথিবীতে এর চাইতে
পবিত্র দৃশ্য কি আরও আছে? দূর থেকে স্বপন
ঘটনাটা দেখছে। সে ভাবছে, কত দিন পর মেয়েটা
এমন মন খুলে হাসছে। নীরার জন্য এমন একটা মা
এনে দিতে পারলে ভালো হতো।
(৪)
রাত এগারোটা। নীরার প্রচন্ড জ্বর এসেছে।
সে একটু পর পর আম্মু আম্মু বলে প্রলাপ বকছে।
স্বপন কি করবে বুঝতে পারছে না। এতরাতে
সুমুকে ফোন করাটাও ঠিক হবে বলে মনে
হচ্ছে না। শেষে কোনো উপায় না পেয়ে
ফোন দিল।
:- হ্যাঁ! সুমু?
:- জ্বি স্যার, বলুন। কোনো সমস্যা হয়েছি কি?
:- ইয়ে..মানে.. আসলে, নীরার খুব জ্বর। সে বার
বার আম্মু বলে ডাকছে। কি করব কিছুই বুঝতে পারছি
না।
:- আমি এক্ষুণি আসছি!
কিছুক্ষণের মধ্যেই সুমু চলে এলো। একয়েক
দিনে সে নীরার মায়ায় বেশ ভালোরকম ভাবে
আটকে গেছে। সুমু নীরার মাথায় জলপট্টি দিচ্ছে।
হঠাৎ নীরা বললো:
:- আম্মু, আমি খুব কি পঁচা?
:- নাতো, তুমি পঁচা হবে কেন? তুমি মিষ্টি একটা
মেয়ে।
:- তাহলে, তুমি আমার সাথে থাকোনা কেন?
:- ইয়ে, মানে নীরা, তোমার তো এখন জ্বর।
তুমি আগে সুস্থ হও তারপর বলবো।
.
জ্বর খানিকটা কমে যাওয়ায় নীরা ঘুমিয়ে পড়েছে।
সুমুর যাওয়া উচিত। যদিও তার খুব ইচ্ছে হচ্ছে নীরার
পাশে বসে রাতটা কাটিয়ে দিতে। তার মাথায় হাত
বুলিয়ে দিতে। কিন্তু সে অধিকার কি তার আছে?
সে স্বপনকে বলল:
:- স্যার আমায় যেতে হবে
:- চলো তোমায় পৌঁছে দেই!
.
নিজর্ন শহুরে রোড। নিয়ন আলোর
ল্যামপোষ্টগুলো যেন কারো অপেক্ষায়
দাড়িয়ে আছে। স্বপন কার ড্রাইব করছে। সুমু পাশে
বসা। সুমু বলল, স্যার আপনাকে একটা কথা বলা হয় নি।
স্বপন বলল:- কোন কথা? উত্তরে সুমু বললো:-
আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। সামনের শুক্রবার
আমার বিয়ে। কথাটা শুনেই স্বপন গাড়ী ব্রেক
করলো। সুমু বললো:

  • স্যার কোনো সমস্যা?
  • না.... ঠিক আছে।
    গাড়ি আবার চলতে শুরু করলো। সুমুর বিয়ের কথা
    শুনে স্বপনের খারাপ লাগছে। তার মনে হচ্ছে,
    নীরা তার মাকে পেয়েও হারিয়ে ফেলছে। কিন্তু
    সে কিছুই করতে পারছে না। তার বলতে ইচ্ছে
    করছে:- "সুমু, তুমি বিয়েটা করো না। তুমি বিয়ে
    করলে, নীরা তার মাকে কোথায় পাবে?
    তারচেয়ে ভালো তুমিই না হয় নীরার মা হয়ে যাও!"
    কিন্তু স্বার্থপরের মতো একথা বলা কি ঠিক হবে?
    সুমুর তো বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। হতে পারে
    পছন্দের কারো সাথেই তার বিয়ে হচ্ছে।
    সুন্দরী মেয়েদের পছন্দের কেউ থাকাটা
    দোষের কিছু না।
    অপরদিকে সুমু ভাবছে, ইস্ স্যার যদি মাত্র একবার
    বলতো:- সুমু তুমি তো জানো, নীরার একজন মা
    দরকার। ঠিক তোমার মতো আদর্শ মা। তুমি কি তার মা
    হতে পারো না?
    সুমুর প্রচন্ড রকমের বলতে ইচ্ছে করছে, স্যার
    আমি যদি নীরার মা হই, তাহলে আপনার কি কোনো
    আপত্তি আছে? কিন্তু, একজন মেয়ে হয়ে
    নিজের বিয়ের প্রস্তাব কি সে নিজে দিতে পারে?
    তাছাড়া স্যার তাকে নীরার মা হিসেবে অনেক
    পছন্দ করে, কিন্ত তার স্ত্রী হিসেবে কি পছন্দ
    করবে? দুজন এসব ভাবতে ভাবতে গাড়ী সুমুর
    বাসার সামনে চলে আসলো।
    (৫)
    শুক্রবার সকাল। একটা কৃষ্ণচূড়া গাছ। তার নিচে একটা
    বেঞ্চ। একপাশে স্বপন অপর পাশে সুমু বসা। সুমু
    বলল:
    :- আমায় কি জন্য ডেকেছেন?স্যার!
    স্বপন খানিকটা ইতস্তত হয়ে বলল: সুমু, যদিও
    কথাগুলো আরো আগেই বলতে চেয়েছিলাম।
    কিন্তু তুমি ব্যাপারটাকে কিভাবে নেবে, তাই ভেবে
    আর বলা হয়নি!
    :- কোন ব্যাপারটা?
    :- তুমি আবার কষ্ট পাবে নাতো?
    :- আহা! আপনি আগে বলুন না!
    :- সুমু, তুমি কি নীরার মা হয়ে সারাটা জীবন আমাদের
    পাশে থাকতে পারো না? এতে কি তোমার খুব
    বেশি ক্ষতি হয়ে যাবে?
    .
    কথাগুলো শুনে সুমু কতক্ষণের জন্য থ হয়ে
    রইলো। সে নিজের কানকে বিশ্বাস করতে
    পারছে না। চোখে জল বইছে । অতি খুশিতে ও
    মানুষের চোখে জল আসে। খুব সম্ভবত এটা
    সেই জল। স্বপন বলল:
    :- তুমি কাঁদছো কেন?
    :- জানিনা!
    :- জানিনা মানে? আমি কি খুব খারাপ কিছু বলেছি?
    :- না!
    :- তবে?
    :- আপনার মুখ থেকে ঠিক এই কথাগুলো শুনার
    জন্যই, আমি এত্তোদিন অপেক্ষায় ছিলাম!
    :- মানে?
    :- আমি নীরার মা হতে চাই। আর আপনাদের
    ভালোবেসে সারাটা জীবন কাটিয়ে দিতে চাই।
    আপনি কি জানেন, অফিসের প্রথম দিন থেকেই
    আমি আপনাকে কতটা পছন্দ করি? নীরা কে আমি
    কতটা ভালোবাসি, সেটা আপনি কি বুঝতে পারেন না?
    .
    সুমুর কথা শুনে স্বপন ভীষণ রকমের চমকে
    গেল। এর আগে সে কখনো এমনভাবে
    চমকেছে বলে, মনে করতে পারছে না।
    দুচোখে বিস্ময় নিয়ে বলল:- তাহলে তোমার
    বিয়ে?
    সুমু হাসতে হাসতে বলল:- কিসের বিয়ে? আপনার
    পেট থেকে এইকথা গুলো বের করতে বিয়ের
    কথা বলেছিলাম! হা..হা.. হা।
    .
    সুমু হাসছে। স্বপনের সামনে মেয়েটা এত্তো
    সুন্দর করে আগে কখনো হাসেনি। তার হাসিতে
    দুইটা রুপ মিশে আছে। একটা হলো নীরার মা
    অন্যটি তার স্ত্রী শিশির। স্বপন নীরার সব ইচ্ছে
    পূরণ করতে পেরেছে। তার অসম্ভব রকমের
    আনন্দ হচ্ছে। তার জীবনে এমন আনন্দ আরো
    একবার হয়েছিল। ছোটবেলায় তার বাবা যেদিন
    তারজন্য একটা মা এনে দিয়েছিলো!