আমার ধারনা, মানুষের জীবন যখন সাধারণ গতিতে চলে তখন তার দ্বারা অসাধারণ কিছু করা সম্ভব হয় না। প্রয়োজনটাই যে থাকে না! আমার যদি চাহিদা অনুযায়ী সব কিছুর ব্যবস্থা থাকে তবে কীসের এতো ঠেকা যে আহামরি কিছু করে ফেলবো? আমি কোচিং, স্কুল, ব্যাচ, হোম টিউশন মিলিয়ে সকাল আটটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত পড়ানো নিয়ে ব্যস্ত থাকি। মাঝে দুই ঘন্টার গ্যাপ থাকে অবশ্য। সেটাও গোসল করা, ভাত খাওয়া আর হালকা বিশ্রাম নিতে না নিতেই কেটে যায়। এতো কামলা দিয়ে আমার কাঁচা পয়সা রোজগার হয় যদিও, কিন্তু মনের ভেতরে একটা অপূর্ণতা থেকে যায়। মনে হয়, কতো কিছুই না বলার আছে মানুষকে। বলার অবসরটাই নেই শুধু। গুছিয়ে চিন্তা করার অবসরটাই চাই কেবল।
তো যা বলছিলামঃ এই যে আমার এমন ছ্যাড়াব্যাড়া অবস্থা, এ দিয়ে কি আসলে ভালো লেখা সম্ভব? অনেকের পক্ষেই হয়ত সম্ভব, অনেকে হয়ত লিখছেনও। আমি হতভাগা পারছি না। এতো মানসিক পরিশ্রম করে বাসায় ফেরার পর মগজ হ্যাং হয়ে থাকে। বাসায় আসলে পরে শরীর এলিয়ে ফেইসবুকিং বা চ্যাটিং করার মতো শ্যালো কাজগুলোই বরং আরাম লাগে। তাছাড়া, যেহেতু আমার স্ত্রী-সন্তান আছে, তাই তাদেরকেও কিছুটা সময় দিতে হয়। বই পড়তে শুরু করলে ক্লান্তিতে ঘুম এসে যায়, মুভির বেলাতেও তথৈবচ! যেখানে বই পড়া বা মুভি দেখায় মনোযোগ পাওয়া এতো কঠিন সেখানে ভালো মানের লেখা উৎপাদন করা বোধহয় আপাতত অসম্ভব। আবার যদি সব ছেড়েছুড়ে দিয়ে ঘরের দরজা আটকে লেখা শুরু করি সেক্ষেত্রে দুটো সমস্যা হবার আশঙ্কাঃ
১। সংসার চলবে না
২। জোর করে আর যাই হোক, ভালো লেখা আসবে না।
আমার ধারণা, ভালো লেখা আসে অন্তর থেকে। যেহেতু এখানে লিখে টাকা পাওয়া যায়, আর আমার যদি অন্য কোনো উপায় না থাকে, তাহলে আমি হয়ত লিখবো। নিজের উপর অনেক চাপ পড়বে, কিন্তু আল্টিমেটলি সেটা কতোদিন আমাকে সাসটেইন করতে সাহায্য করবে সে ব্যাপারে আমি ঠিক নিশ্চিত নই। তাই, সব ছেড়ে দেয়ারও সাহস নেই আমার।
এই অবস্থায় লিখায় মনোযোগ দেবো, নাকি সুদিনের অপেক্ষায় বসে বসে অপেক্ষা করবো সেটা বুঝতে পারছি না।
এই লেখাটা একদম অন্তর থেকে আসছে। এখানে কোনো ফরমায়েশি ব্যাপার নেই। কিছুদিন আগে নীল গেইম্যান এর মাস্টারক্লাস করার চেষ্টা করছিলাম। তো তার লেখার ঘরটা দেখে আমার মাথা খারাপ হবার যোগাড় হয়েছিলো। আপনাদেরকে জিনিসটা দেখাই।
Image link:
https://www.wellappointeddesk.com/2014/07/neil-gaimans-writing-shed/
আহ্! এই নীরবতা আর এমন পরিবেশ পেলে কি চমৎকার লেখাই না লিখা সম্ভব।
সবার সুস্বাস্থ্য কামনা করছি।