বিএনপিকে বাইরে রেখে দেশে কোনো নির্বাচন হবে না বলে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, বিএনপিকে বাইরে রেখে সরকার নির্বাচনের ষড়যন্ত্র করছে।
রোববার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে ‘গণতন্ত্র ও উন্নয়নে তারেক রহমান’ শীর্ষক ওই আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভার আয়োজন করেন জিয়া পরিষদ।
আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. আব্দুল কুদ্দুস, জিয়া পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম সলিমুল্লাহ খান, বিএনপির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, ঢাকা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ।
কোন দলের জনপ্রিয়তা বেশি তা যাচাইয়ে একই দিনে রাজধানীতে সমাবেশ করতে আওয়ামী লীগের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন বিএনপির এই নেতা।
তিনি বলেন, “বিএনপির জনসমাগম দেখে আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন বিএনপি নির্বাচনে আসবে লাইসেন্স বাঁচাতে। কিন্তু আওয়ামী লীগকে আমাদের নেত্রীর কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। আসেন, পাশাপাশি সমাবেশের ডাক দেই। দেখেন, কোথায় লোক বেশি আসে।”
এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না মন্তব্য করে মির্জা আব্বাস বলেন, “এই সরকারের অধীনে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চক্রান্ত চলছে। আপনারা জানেন এখন তারেক রহমান সাহেবের বিরুদ্ধেও চক্রান্ত চলছে। যাতে তারা নির্বাচন করতে না পারেন এবং আরো অনেকের বিরুদ্ধেই চক্রান্ত চলছে যে যাতে তারা নির্বাচন করতে না পারেন।”
কিন্তু এই কথাটা হলো বাস্তব্তা যে খালেদা জিয়া, তারেক রহমান এবং বিএনপিকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশে আর কোনো নির্বাচন হবে না। যোগ করেন তিনি।
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপিকে বাইরে রেখে সরকার নির্বাচনের ষড়যন্ত্র করছে এমন অভিযোগ করে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্বাস।
মির্জা আব্বাস বলেন, “ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতির কারণে ডুবতে বসেছে দেশের অর্থনীতি। গত নয় বছরে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগও প্রমাণ করতে পারেনি সরকার।” এমন দাবি করে তিনি বলেন, “দেশের মানুষ তাদের নিজেদের প্রয়োজনেই তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনবে।”
দেশে যত দুর্নীতি হয়েছে তার অর্ধেকেই করেছেন রাজনৈতিক ব্যক্তিরা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্যের জবাবে মির্জা আব্বাস বলেন, “তাহলে বলবো, আপনারা দুর্নীতি বন্ধ করে দেন। বিএনপির কেউ দুর্নীতি করে না। আর যদি পান তথ্য প্রমাণসহ দেখাবেন।”
ইতিহাস মুছে দেওয়া যায় না দাবি করে তিনি বলেন, “আসলে ইতিহাস মুছে দিতে চেষ্টাও করা উচিত নয়। পাঠ্যপুস্তক থেকে জিয়াউর রহমমানের নাম মুছতে পেরেছেন। আওয়ামী লীগের কাউকেই জিয়াউর রহমানকে চেনা উচিত নয়। চিনলে অনেক কিছুই মেনে নিতে হবে।”
বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার না চালিয়ে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করার করার জন্য আওয়ামী লীগকে অনুরোধ জানান আব্বাস।