আজ তুমি তালতলাতে তো কাল তুমি সাত তলাতেও উঠতে পারো এটা একদম পুরোটাই নির্ভর করে তোমার কর্মের উপর । কিন্তু সর্বক্ষেত্রে তোমার মানিয়ে নেওয়ার পরিবেশটা কিন্তু তোমাকে নিজের থেকেই তৈরি করতে হবে ।
যে মানুষটা আমি আগে সারাদিন শহুরে জীবন যাপনে অভ্যস্ত ছিলাম, সেই মানুষটা হুট করেই কিছুটা সময়ের জন্য গ্রামে গিয়ে নিজেকে গ্রামের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে ছিলাম । কোন কিছু মানিয়ে নেওয়ার মাঝে অবশ্য লজ্জাবোধ থাকতে নেই , মানিয়ে নেওয়া মানেই জীবন ।
আমার অবশ্য এসব নিয়ে মাথা না ঘামালেও চলে কিন্তু সব থেকে বড় ব্যাপার হচ্ছে,আমার সহধর্মিনী এক বাবার এক মেয়ে, যার কারণে তাদের জমির অংশ গুলো আমাকে দেখতে হয়, এজন্য আমার এবার নতুন করে একটা ভিন্ন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়েছে । ছবিতে আমার পিছনে যে মহিলাকে দেখতে পাচ্ছেন সে আর কেউ না, সে আমার প্রিয়তমা বউ । সে এতটাই পরিমাণ কাজ করেছে যে, সে রোদে পুড়ে একদম আমার মত কয়লা হয়ে গিয়েছে ।
তার অবশ্য এইসব কাজ আগে থেকে করার অভিজ্ঞতা ছিল কিন্তু আমার অভিজ্ঞতা এবার প্রথম,আমরা এবার কিছুটা সময়ের জন্য হলেও আমার শ্বশুর-শাশুড়িকে,আমি মানসিক ও শারীরিকভাবে কিছুটা সহযোগিতা করতে পেরেছি ।
ছোটবেলা থেকে একদম মফস্বল শহর অঞ্চলে বড় হয়ে উঠেছি যার কারণে এই কাজ গুলোর অভিজ্ঞতা আমার একদম ছিল না কিন্তু আজ যখন নিজে হাতেই কাজগুলো করেছি এবং নিজে যখন এই কাজগুলো চোখ দিয়ে খুব কাছ থেকে দেখেছি তখন আমার একটা ভিন্ন অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে । সত্যি গ্রামের মানুষগুলো অনেক পরিশ্রমী এবং তারা তাদের জীবিকার জন্য অনেক কিছু ত্যাগ স্বীকার করে । সেই প্রখর রোদ থেকে শুরু করে,ঝড় বাতাস সব কিছু তারা যেন মাথা পেতে নেয়, শুধুমাত্র তাদের জীবিকার জন্য ।
পরিশেষে স্রষ্টার অশেষ কৃপায় সবকিছু ভালোভাবেই সম্পন্ন হয়েছে এবং আশা করি এবারের এই অভিজ্ঞতা আমার আগামী কাজ গুলোকে অনেকটা সহজ করে ফেলবে ।
সত্যিই পরিস্থিতির সঙ্গে জীবনকে মানিয়ে নেওয়া একদম বুদ্ধি মানের কাজ । আজ যখন ছবিগুলো দেখছি আর গল্প লিখছি তখন সত্যিই নিজের ভিতরে একটা অসাধারণ অনুভূতি কাজ করছিল,আমি নিজের কাছে নিজেকে ধন্য মনে করছি যে, আমি এরকম একটা অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে পেরেছি ।
আপনার শিকড়কে আপনাকে মনে রাখতে হবে, এটা ভুলে গেলে আপনার চলবে না । যেহেতু আপনি এই বাংলায় জন্মগ্রহণ করেছেন, তাই কৃষিনির্ভর মানুষগুলোকে ও কৃষিকাজ কে আপনাকে শ্রদ্ধা করতেই হবে । ধন্যবাদ সবাইকে ।