Describe your best adda ever || ব্যবধান

Words
454
Reading
3 min
Listen
Play
6y

বয়স চলছে উনত্রিশ থেকে ত্রিশ ছুঁই ছুঁই । এক জীবনে তো আর কম মানুষের সঙ্গে পরিচয় হওয়া হয়ে উঠলো নাহ্ , রোজ নতুন নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয় তো হয়েই যাচ্ছে । তবে এতসব নতুন মুখের ভিড়েও,মনে পড়ে আমার সেই বিড়ি ভাগ করে খাওয়া বন্ধুদের কথা । যাদের মুখের ছবি এখনো মনে হয় চোখ বন্ধ করলেই,আমার মনের আয়নায় ভেসে ওঠে । এ যেন অদ্ভুত একটা টান, যেখানে লাগে না কোন কানেকশন,লাগেনা কোন প্রযুক্তি । জাস্ট শুধু চোখ বন্ধ করবেন আর ভাববেন সবাই এসে হাজির হবে আপনার মনের দরজায় ।


আমার কাছে প্রতিটা আড্ডায় বেস্ট ছিল , বন্ধু গুলো আমার জীবনে কতটা উপকারে আসছে তা বলবো না । তবে আমার শৈশব কালের মনের খোরাক তারা সম্পূর্ণ ভালোভাবেই মিটিয়েছে । বাস্তবতার সম্মুখীন হয়ে জীবনটা যেন একদম দুমড়ে-মুচড়ে গেছে । এখন সব আছে তবে মনের খোরাক সম্পূর্ণ করার মানুষগুলো আর নাই । হয়তো তারাও এখন ব্যস্ততা ও দায়িত্ব নামক কঠিন দুটো শব্দ কাঁধের উপর নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে । তাদেরও হয়তো নতুন মানুষ জুটে গেছে,হয়তো তারাও আজ কোন এক টং ঘরে বসে চা ফুঁকাচ্ছে আর সংসারের জ্যামিতিক সমীকরণ মেলানোর চেষ্টা করছে ।
অতীত মনে করে নিজের মনকে ভারী করতে চাই না । ভবিষ্যৎকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে,বর্তমানে যেটা ঘটছে । সেটা কে প্রাধান্য দেওয়া মানুষ আমি । খুবই সমসাময়িক একটা ঘটনা তুলে ধরবো, যেটা কিছুদিন আগেই ঘটেছিল আমার জীবনে ।
কোন উৎসব বা উপলক্ষ ছাড়া পুরাতন মানুষগুলোর সাথে দেখা হয় না বললেই চলে । উৎসবের সময় সবাই নিজ নিজ বাড়িতে ফিরিতো আর নিজ বাড়িতে ফিরলেই তখন পুরাতন মানুষগুলোর সঙ্গে দেখা হয় । কারণ তারাও আমার মত উৎসবের কারণে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরে ।
এইতো ঈদের আগের দিন সন্ধ্যাবেলা সবার সঙ্গে ঝিলের পাড়ে দেখা করেছিলাম । পাক্কা তিন ঘন্টা কাটিয়ে দিয়েছি, বুঝতেই পারেনি সময় কোন দিক দিয়ে গিয়েছে । এখন আর তেমন কেউ বিড়ি খায় না,দু-একজন সিগারেট খায় তাও আবার রুচি মাফিক । সবার মাঝে যেন একটা পরিবর্তন চলে আসছে,যেটা আড়াল করতে চাইলেও কেউ আড়াল করতে পারে না । দুরন্তপনা আর চঞ্চলতা কারো মাঝে নেই বললেই চলে। সবাই যেন ঝিমিয়ে গিয়েছে ।
তিন ঘন্টা সময় যে একদম বসে ছিলাম তা কিন্তু না, ঐ শোনা হইলো কার জীবন কিভাবে যাচ্ছে, কার বাবু কত বড় হইছে আর কার বউয়ের কয়মাস চলছে । সবই ঠিক আছে খালি বয়স গুলো বেড়ে গেছে সবার । তাই চিন্তাভাবনার পরিবর্তন চলে আসছে সবার মাঝে । এখন ভাবছি যে এই মানুষগুলোর সঙ্গেই কি আমার শৈশবের দিনগুলো কেটে ছিলো ! এবাবের আড্ডাটা বহুদিন মনে থাকবে ,সজীবের প্যান্ট না ফেটে গেলে হয়তো আড্ডার রসটাই আসতো না । এই প্যান্ট ফাটা সাময়িক সময়ের জন্য হলেও আমাদের মনে আত্মতৃপ্তি দিয়েছিল । যাইহোক বেচারা পরে অবশ্য রিক্সায় করে বাড়ি গিয়েছে ।
কালের বিবর্তনে সব যেনো এলোমেলো হয়ে গিয়েছে । এলোমেলো হয়ে গিয়েছে বন্ধুত্বের ধরন গুলো । সময় বড়ই নিষ্ঠুর, শুধু পরিবর্তন আর ব্যবধানই তৈরি করে । বেঁচে থাকুক পুরাতন মানুষগুলো সুন্দর এই পৃথিবীতে ।20200613_13530801.jpeg

Describe your best adda ever || ব্যবধান | Ecency