স্কুল জীবন শুরু হবার পরপর ছবি আঁকা বলে কিছু আছে বুঝতে পারলাম। তাও আবার বাংলা, ইংরেজি, গণিতের মত ছবি আঁকাও আলাদা একটা বিষয়। অন্যসব বিষয়ের মত ছবি আঁকারও আলাদা পরীক্ষা দিতে হয়। হুম ১ম ক্লাসেই বুঝলাম কিভাবে? ভালো কথা ১ম শ্রেণীর অর্ধবাষিক পরীক্ষার রেজাল্টের পর যখন রেজাল্ট খারাপ হয় তখন বোলসিলো ছবি আঁকাতেও ভালো করতে পারসনা?? তখন বুঝতে পারলাম এটাও ভালো করার আলাদা একটা বিষয়।
তারপর অন্যসব পড়ার মত ছবি আঁকাও শুরু করলাম। এভাবেই আমার জীবনে ছবি আঁকার জীবন শুরু। তারপর থেকে সব পরীক্ষাতেই ছবি আঁকার পরীক্ষায় ভালো করতাম। যখন ৪র্থ অথবা ৫ম শ্রেণীতে ছবি আঁকা আরো ভালো করার জন্য আলাদাভাবে ড্রইং স্কুলে ভর্তি হলাম। ছবির আঁকার স্কুলে যাবার পর থেকেই ছবি আঁকাটা আরো বেশি ভালো লাগতে শুরু কোরলো। তারপর থেকে জীবনে ছবি আঁকার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা... হয়েছিলাম ৩য় স্থান অধিকার। তারপর থেকে জীবনে ছবি আঁকা কে আলাদা জগত করে নিলাম।
সময়ের ধারাবাহিকতায় ৫বছর ড্রইং স্কুলে ছবি আঁকা শিখলাম। তবে সত্যি কতটা শিখতে পেড়েছি তা হয়ত নিজেও জানি না। তার কারণ বলতে পারি কখনো স্কুলের বাইরের জীবনে ছবি আঁকার প্রতিযোগিতায় অংশ না নেয়া বলতে পারি। তবে হে যতটা শিখেছিলাম তা দিয়ে সর্বোচ্চ ২য় হতে পেরেছিলাম। প্রথম হবার মতো শিখতে পাড়িনি বুঝতেও পারলাম। তবে ততোদিনে ছবি আঁকা শিক্ষার গুরুত্ব বাসায় আর কারও কাছেই গুরুত্ব পেলো না। থেমে গেলো ছবি আঁকার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, তারপর নিজের মতো করে ছবি আঁকা চালিয়ে নিতে শুরু করা। বিজ্ঞান বিভাগে পড়ার জন্য প্রেক্টিকেল পরীক্ষার ছবি গুলো ভালো আঁকতে পারতাম। ছবি আঁকতে ভালো লাগে তাই বন্ধুরা বললে তাদের প্রেক্টিকেলের ছবিগুলোও আমি এঁকে দিতাম। এভাবে পাড় হয়ে গেলো ৫টি বছর। ততোদিনে ছবি আঁকাটা ভালো লাগলেও আর আগের মতো আঁকার মন মানোসিকতা ছিলো না।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরের বছর আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলা বিভাগের পথ চলা শুরু হয়। তখন মাঝে মাঝেই ভাবতাম আরেকটা বছর আগে চারুকলা বিভাগ খুললে হয়তো আমি চারুকলা বিভাগেই পড়তাম।
এবাবেই শেষ হোলো জীবন থেকে ছবি আঁকার যাত্রা। তবে অবশ্য ৫মাসের মতো একটা ড্রইং স্কুলে ছবি আঁকা শিখাতাম। বলা যায় ছবি আঁকা আমার ড্রইং স্কুলের মাধ্যমেই শেষ হয়। এভাবেই হলো আমার জীবনের ছবি আঁকার অধ্যায়।