ঘটনাটি খুব বেশিদিন আগের কথা না। এক আন্টি ও আংকেলের কাছ থেকে তাদের সাথে ঘটে যাওয়া ভয়ংকর অভিজ্ঞতা। শুরুতেই বলে নেই আংকেল, আন্টি ও তাদের ৩ বছরের ছোট্ট সন্তান নিয়েই তাদের পরিবার। তারা একটা বাসায় ভাড়া থাকতেন। একদিন আন্টি আংকেলকে বললেন তাদের সন্তান বড় হচ্ছে, খরচও দিন দিন বাড়ছে...। জমানো টাকার সাথে কিছু টাকা ব্যবস্থা করে পাড়লে একটা নিজেদের জন্য ফ্ল্যাট নিতে বলে। আংকেলে নাম না বলতে পাড়ায় তার জন্য ছদ্মনাম মনে করি আনোয়ার সাহেব। আনোয়ার সাহেব ভেবে দেখলেন আর বললেন দেখি পাড়ি নাকি।
তিনি বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করে পড়ে খবর পান ঢাকার মিরপুরে একটি রেডি ফ্ল্যাট বিক্রী হবে, তাও আবার কম টাকার মধ্যেই। তিনিও সময়মত ফ্ল্যাট কিনে নেন ও নতুন বাসায় ওঠেন। তার পর শুরু হলো ঘটনা। আন্টি বাসার কাজ করতেন যখন তখন শুনতেন তার পিচ্চি কার সাথে যেন কথা বলছে। আন্টি বাবুর কাছে যেয়ে দেখে বাবু একা একা খেলছে আর কথা বলছে। আন্টি বাবুকে জিজ্ঞেস করে তুমি কার সাথে কথা বলছো বাবা। বাবু আন্টিকে বলে আমি একটা টুপি পড়া বাবুর সাথে খেলছি, মা তুমি যাও। পরের দিনও একই ঘটনা আন্টি কাজ রেখে বাবুর কাছে এসে দেখে বাবু গতদিনের মতই খেলছে আর কথা বলছে। আন্টি বাবুকে জিজ্ঞেস করতেই বাবু বলে আমি একটা টুপি পড়া বাবুর সাথে খেলছি, তুমি আসলে বাবু আমার সাথে কথা বলে না চলে যায়। আন্টি চিন্তায় পড়ে গেলো, পড়ে আনোয়ার সাহেবকে সব বলে। আনোয়ার সাহেব বলেন এসব কিছু না তুমি পাড়লে বাবুকে সবসময় তোমার পাশে রাখবে। এভাবেই কয়েক দিন কেটে গেলো। আনোয়ার সাহেবের কথামত আন্টি বাবুকে সবসময় সামনে রাখতেন। একদিন আন্টি বাবুকে খেলতে দিয়ে বিপরীত দিকে কাত হয়ে শুয়েছিলেন, একটু ঘুমও আসবে আসবে করছিল। তখনই আন্টির মনে হলো ভাড়ি কিছু তার পিঠের ওপর বসে আছে আর বাবু আগের মতো কথা বলছে। আন্টি পেছনে ফিরতে চাইলে বাবু বলে ওঠে মা তুমি নড়লে বাবুটা পড়ে যাবে। সেদিন রাতেই সবাই যখন শুয়ে পড়েন, হটাৎ শুনতে পায় কেউ ডাইনিং রুমে জগ থেকে গ্লাসে পানি ঢালছে, আন্টি ভয় পেয়ে গেলো। পড়ে আনোয়ার সাহেবকে সব বলেন। তখন আনোয়ার সাহেব বাড়ির কেয়ার টেকার ও বাড়ির পাহারাদার মুরুব্বির কাছে জানতে চান, এ বাড়িতে কোন সমস্যা আছে নাকি জিজ্ঞেস করেন? কেয়ার টেকার সোজা সুজি বলেন এ বাড়িতে কোন সমস্যা নেই। আনোয়ার সাহেব বলেন দেখেন আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে আপনি সত্যি কথা বলেন। পড়ে অনেক ভয় দেখানোর পড়ে তিনি বলেন আমার মালিককে জানাবেন না দয়াকরে। উনি আমাকে কাউকে বলতে নিষেধ করেছিল।
তার বলেন আসল কথা, এখানে আগে মাদরাসা ছিলো, আর ওই মাদরাসার এক ছোট বাচ্চাকে পড়তে না চাওয়ায় এক স্যার অনেক মারেন। আর ছোট বাচ্চাটা ওই সময় মারা যায় মাদরাসাতেই। তারপর থেকে এই মাদরাসা অনেক চেষ্টা করেও পড়ে চালাতে পাড়েনি বিভিন্ন সমস্যার জন্য। মাদরাসার ছাত্ররা বোলতো একটা ছোট বাচ্চা এসে সবাইকে ভয় দেখাতো। পড়ে তাই জায়গার মালিক মাদরাসা না রাখতে পেড়ে এই বাড়ি করেন ও ফ্ল্যাট করে বেঁচে দেন।
এসব শোনার পব আনোয়ার সাহেবও আর বেশি দিন ওই ফ্ল্যাটে ছিলেন না, উনিও এটা পড়ে বেঁচে দেন। পড়ে তাদের আর কোন সমস্যা হয়নি।