সবে কয়েকদিন হলো বাড়ি থেকে ঘুরে আসলাম। কত আনন্দ কত স্মৃতি সব কিছুকে ফেলে আবার যখন ফিরে আসার পালা তখন তো আর মন মানে না। বাধ্য হয়ে চলে আসতে হয়। কি জানি আবার কখন যাওয়া হবে , কিন্তু হ্যা , এটা নিশ্চিত যে ডিসেম্বর হওয়ার আগে আর যাওয়া হবে না। প্রায় ১ বছর। না না , মাঝে মাঝে তো আমরা ঈদের সময়ও বাড়িতে যাই। কিন্তু সব সময় না মাঝে মধ্যে। তখন হয়তো একটু আলাদা মজাই থাকে। কি জানি গত বছর তো যায়নি আবারো বোধয় যাওয়া হবে না কিন্তু আগেরবারের কথা ঠিকই মনে করতে পারবো। তখনের মতো মনে হয়না এই বার আর ঘুরা হবে। এখন তো সময় শুধু পুরোনো স্মৃতি গুলোকে মনে করার।
আগের বার যখন ঈদের সময় বাড়িতে গিয়েছিলাম তখন অনেক মজা করেছিলাম আর তখন ছিল কোরোনার সময়। সবাই একসাথে ছিলাম বাড়িতে। করোনা আমাদের যেভাবে একত্রিত করেছিল এটা হয়তো সারাজীবনে ও হতে পারতাম না যাক , যেটার খারাপ দিক রয়েছে সেটার ভালো দিকও রয়েছে। আর হ্যা , মারা যৌথ পরিবার নানা নাই মামা মামী সবাই একসাথে থাকি। দাদা দাদিরা আলাদা থাকে যদিও। আর হ্যা , আমরা যত বার বাড়িতে যাই তত বার নানুর বাড়িতেই থাকি। আমার তো এখন নানুর বাড়ির প্রতি আলাদা একটা টান হয়ে গিয়েছে। যেটা হয়তো জীবনেও মুছবেনা।
আর আমি ছোটবেলা থেকে নানু বাড়িতেই বড় হয়েছি। আর নানুর বাড়ি থেকেই আমার ঢাকায় আশা। আর সত্যি কথা বলতে আমি ছোট বেলা থেকে সব সময় নানু বাড়িতেই থেকেছি আর দাদু বাড়িতে যত বার গিয়েছি তত বার শুধু ঘুরার জন্য বা দাদা দাদুকে দেখার জন্য। কোনো সময়ই রাত কাটায়নি । আচ্ছা যাই হোক , আমি যদি দাদুর বাড়িতে যাই তাহলে কিন্তু ৪-৫ ঘন্টা না থাকে আসি না। ঐখানেও আমার কিছু বন্ধু আছে কিন্তু তেমন ঘনিষ্ঠ না। এমনেই দেখা হলে কথা হয় আরকি। আর ঘনিষ্ঠ হবেও বা কিভাবে। আমি তো ওই খানে থাকিই না। আর গেলেও মাত্র ১ দিনের জন্য।
সত্যি কথা বলতে মাঝে মাঝে ইচ্ছা হয় একেবারে দেশে চলে যাই কিন্তু আবার এই ঢাকার প্রতিও কেমন একটা ময় জন্মে গিয়েছে। আর এটা সত্য যে , আমি যখন গ্রামে যাই তখন ঘুরে ঘুড়ি করি ঠিক আছে কিন্তু ঐখানকার নিয়ম কানুন একটুও পছন্দ হয়না। সন্ধ্যা বেলায়ই উনারা সবাই ঘুমিয়ে পরে। অনেক তাড়াতাড়ি রাতের খাবার খেয়ে ফেলে। পরে সকাল হতে না হতে ক্ষুদা লেগে যায়। মানে একদম সব কিছু অগুছালো। তখন উপলব্ধি করতে পারি যে আমার ঢাকাই ঠিক আছে। আগে ভাবতাম বড় হয়ে চলে যাবো বাড়িতে কিন্তু এখন মোটেও এইসব চিন্তা করি না। কারণ আমি বাড়ির পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে চলতে পারবোনা।
কিন্তু তার মানেএই না যে আমি আমার জন্মভূমিকে ভুলে যাবো। সেই আগের মতোই ভালোবাসি এখনো। শুধু আমার পক্ষে এখন ওই পরিবেশে থাকা সম্ভব না। অভ্যাস হয়ে গিয়েছে এই পরিবেশে থাকতে থাকতে। গ্রামের পরিবেশ আর শহরের পরিবেশ সম্পূর্ণ আলাদা।