কয়েকদিন ধরে লক্ষ্য করছি কেমন জানি অন্যরকম আচরণ করছে , প্রায় ৩ দিন ধরে কথা হয়না। হয়তো ভেবেছিলাম অসুস্থ হবে। হ্যা , ঠিকই ধরেছিলাম , জ্বর এসেছিলো। ওকে অনেক বার ম্যাসাজ দিয়েছিলাম তখন , পরে কোনো সারা পাইনি তাই অন্য একজনকে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তখনি জানতে পারলাম যে জ্বর এসেছে , আচ্ছা যাই হোক যে দিন এসেছিলো ঐদিনই কেমন কেমন অদ্ভুত আচরণ করেছিল , আমি ভেবেছিলাম জ্বর থেকে মাত্র সরল হয়তো মন মেজাজ ভালো না। ওই সারাটাদিন আমার সাথে এমন ভাবেই কথা বলে যদিও আমি কিছু মনে করিনি।
আচ্ছা তারপর দিন , আমাদের বাড়িতে একটা অনুষ্ঠান ছিল। ভেবেছিলাম ওকে দাওয়াত দিবো , কিন্তু দেখি ওর নাকি আবার জ্বর এসেছে , তখন ওর জন একটু একটু চিন্তা হতে থাকে। যদিও এটা ছিল সাধারণ জ্বর। আচ্ছা যাই হোক , ঐদিন আম্মুকে বলেছিলাম যে ওর আবার জ্বর এসেছে। তখন আম্মু বলে যে কালকে ওকে দেখতে যাবে। চেয়েছিলাম আমিও সাথে যাবো কিন্তু আম্মু বিকালের দিকে যাবে তখন তো আমি বাসায় থাকি না , পড়তে যেতে হয়। যদিও আম্মুকে বললে আম্মু সকালের দিকেই যেত কিন্তু আমি আর তেমন কিছু বলিনি।
কালকে যখন আম্মু গিয়েছিলো তখন নাকিও মুটামুটি সুস্থ হয়ে গিয়েছে। তখন আমিও দেখলাম আমার মেসেজ গুলার উত্তর দিয়েছে। কিন্তু .... আচ্ছা যাই হোক , হয়তো শরীর খারাপ লাগছে তাই এমন করছে , আমি তেমন বেশি গুরুত্ত দেইনি। শুধু জিজ্ঞেস করেছিলাম যে কেমন আছে আর এখন জ্বর গিয়েছে কিনা। তখন বলে যে শরীর মোটামোটি ভালো আছে আর জ্বরও এখন আর নেই। পরে আরো অনেক গুলো প্রশ্ন করেছিলাম কিন্তু ওই কথা গুলোর উত্তর কেমন ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে উত্তর দিয়েছে।
সত্যি বলতে আমার একটু খারাপ লেগেছিলো , অনেক দিন পর কথা বলছি তবুও কেমন জানি বিরক্ত বোধ করছে। আসলে আমি ছোট বেলা থেকে অনেক লাজুক , যেমন কেউ যদি আমার দ্বারা বিরক্ত হয় তাহলে আমি তাকে সারাজীবনেও কোনো পাত্তা দিবো না , অর্থাৎ জেনে বুঝে বিরক্ত করবোনা, আর সে যেই হোক। ওই কথা গুলো শুনার পর আমি আর কোনো কথাই বলিনি আর সত্যি বলতে ও আমার এই অভ্যাসটা সম্পর্কে জানে। তাও জেনে বুঝে এমন করেছে। হয়তো এখন সে আস্তে আস্তে অনেক কিছু শিখছে ।
আজ প্রায় ৩দিন কোনো কথা নেই। তার মধ্যে আম্মু গিয়েছিলো ওদের বাসায় , তখন আম্মু বলেছিলো আমাকে সাথে নেয়ার জন্য কিন্তু আমিই মানা করি। আসলে আমি ওর সামনে সামনিই হতে চাইছিলাম না। তারপর ঐদিন আম্মু আসে বলে যে ওনাকি এখন পুরোপুরি সুস্থ। আমি সত্যি কল্পনাও করতে পারিনি তার মধ্যে এমন পরিবর্তন হবে। হয়তো আজ না হয় কাল নিজের ভুল গুলো বুঝতে পারবে। আর মাঝে মাঝে আপনাকে অন্যের খুশির জন্য নিজের খুশির বিসর্জন দিতে হয়। এটাই নীতি , কিছু পাওয়ার জন্য আপনাকে কিছু হারাতে হবে।