আমি বিশ্বাস করি মানুষ নিজের ভাগ্য নিজের পরিবর্তন করতে পারে। কিন্তু আবার অনেক সময়ত এমনও হয় তার অজান্তেই অনেক বড় একটা কিছু তার ভাগ্যে চলে আসে। মানুষ যেমন তার ভাগ্যকে পরিবর্তন করতে পারে তেমনি তার অজান্তেও অনেক বড় কিছু তার ভাগ্যে লেখা ছিল যেটা সে কল্পনাও করতে পারেনি। আমি আজি এমনি একটি গল্প বলবো যেটা সত্যি একটা ঘটনার উপর নির্ভর করে তৈরী করা হয়েছে। গল্পটা এই রকম যে একটা বস্তির ছেলে তার পরিবারকে হারিয়ে আমেরিকা চলে গিয়েছে কোনো এক দম্পত্তিদের জীবনে। এই কাহিনীর উপর নির্ভর করে একটা ফিল্ম তৈরী করা হয়েছিল। ছবিটির নাম - The lion (2016) .
গল্পের প্রথমে দেখানো হয় যে ইন্ডিয়ার কোনো একটা গ্রামে মা তার দুই ছেলেকে নিয়ে থাকতো। যেহেতু তারা গরিব ছিল তাই তারা একটা ভাঙা বাড়িতে থাকতো।পরিবারের ছোট ছেলেকে নিয়েই এই গল্পের কাহিনী। ছোট ছেলেটির নাম ছিল সারু। চারু ছিল ৫ বছরের একদিন শারুর বড় ভাই সকাল বেলা কাজে বের হলে শারু তার পিছু নেয়। এবং সেই দিনে শারু তার বড় ভাইকে বলে তাকে কালকে সকালে জিলাপি কিনে খাওয়াতে। তখন তার ভাই বাদ করেছিল যে তাকে সকালে জিলাবি খাওয়াবে। সেই কথা বলার পর শারুর বড় ভাই শারুকে বলে সে যেন এখানে ঠিক ঠাক স্টেশনে বসে থাকে সকালে তার ভাই আসে তাকে নিয়ে যাবে। কিন্তু শারু তার কথা না রেখে একটা ট্রেনে গিয়ে ঘুমিয়ে পরে। এই ট্রেনটি ছিল ফাঁকা , কোনো যাত্রী ছিলনা।
সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখে শারু কলকাতায় চলে এসেছে। কিন্তু সেখানে সবাই বাংলায় কথা বলে সরু তাদের কথা বুঝতে পারছিলোনা। তাই কেউ তাকে সাহায্যও করতে পারেনি। এভাবেই প্রায় দুই দিন কেটে যায়। সে রাত হলে স্টেশনে ঘুমিয়ে পরে এবং দিনের বেলা এখানে সেখানে ঘুরে বেড়ায়। একদিন একটা সংস্থা আসে তাকে নিয়ে যায় এবং সেখানে তারা সব অনাথ শিশুদের সাহায্য করে। কিন্তু ৩ মাস হয়ে যায় শারুর পরিবারের কোন খবর নেই। একদিন ওই সংস্থার একজন মহিলা এসে বলে , আমেরিকার একটা দম্পত্তিরা শারুকে নিয়ে যেতে চাচ্ছে তাদের বাড়িতে। তখন যদিও শারু ছোট ছিল কিন্তু এতটাও ছোট ছিলোনা যে সে এখনকার সব ঘটনা ভুলে যাবে।
অনেক দিন কেটে যায় শারু সেখানে নিজেকে মানাতে শুরু করে। একদিন শুরু অনেক বড় হয়ে যায়। তখন তার নিজের বিসনেস ছিল সে এখন নিজেকে কাজে কর্মে বেস্ত রাখতে শুরু করে। একদিন তারা সবই মিলে একটি পার্টির আয়োজন করে সেখানে শারুর ইন্ডিয়ান ফ্রেন্ড ও ছিল। সেই সময় একজন ফ্রেন্ড সেখানে জিলাপির আয়োজন করে এবং শুরুর মনে পরে যায় , তার বড় ভাই তাকে ওয়াদা করেছিল তাকে জিলাপি খাওয়াবে। তখন সে অনেক ডিপ্রেশনে চলে যায় তার আসল পরিবারের কথা ভেবে !
তখন সে গুগল মেপ এ খুঁজতে থাকে কিন্তু ইন্ডিয়া ছিল অনেক বড় একটা রাষ্ট্র তাই সেখানে একটা গ্রামকে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। এভাবেই শারু ১ বছর ধরে খুঁজতে থাকে। কিন্তু কোনো লাভ হল না। তার কিছুদিন পরে তার কাটা ইন্ডিয়ান বন্ধুর কাছ থেকে হেল্প নিয়ে সে কষ্টে তার গ্রামকে খুঁজে বের করে। এবং সেই সেখানে চলে আসে। তখন তার পালক মা বাবা কষ্ট পায়। কিন্তু শারু তাদেরকে বুঝায় যে সে খুব শীঘ্রই ফিরে আসবে। যখন সে তার গ্রামে চলে আসে তখন সে তাদের ঘরকে খুঁজে বের করে কিন্তু সেখানে কেউ থাকেনা এখন। তখন শারু একজন বৃদ্ধ লোককে তার পরিবারের কথা জিজ্ঞেস করলে সে কোনো উত্তর না দিয়ে তার মায়ের কাছে নিয়ে যায়।
শারু তার মাকে চিনতে পেরে জড়িয়ে ধরে কানতে থাকে। তার মার বিশ্বাস ছিল যে শারু তার কাছে কোনো একদিন ফিরে আসবেই। তারপর শারু তার বড় ভাইয়ের কথা জিজ্ঞেস করলে তার মা বলে সেই রাতেই তার বড় ভাই ট্রেন একসিডেন্টে মারা যায়। মানে তার মা একরাতে দুই ছেলেকে হারিয়েছিল। একমাত্র উনার বেদনা সন্তান হারা মায়েরাই উপলব্ধি করতে পারবে।
আমি এই কাহিনীটি দ্বারা সেটাই বুঝতে চেয়েছি যে ভাগ্য নিজেরই পরিবর্তন করা লাগে কিন্তু অনেক সময় আপনি ভাগ্যের সাথে না থাকলেও ভাগ্য আপনা সাথে থাকবে। এই গতি কোনো বানানো গল্পনা এটা ইন্ডিয়ার একটা গরিব ছেলের জীবন কাহিনী থেকে নেয়া হয়েছে। আমি ছবিটি আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। যখন শারু তার মাকে খুঁজে পায় তখন আমার শরীরের লোম দাঁড়িয়ে পড়েছিল। যারা এই ছবিটিকে দেখেছে তারাই এটার আসল মজা অনুভব করতে পেরেছে।
Image source : Pixabay