ঈদের আনন্দ
ছোটবেলায় জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিন ছিল দুই ঈদের দিন। কাল সেই ঈদের দিন। কিন্তু আজ কোনো অনুভতি নেই। থাকতো যদি সাথে বন্ধুরা থাকতো। কিন্তু বন্ধু ছাড়া সব মাটি। সারা দিন ঘরের কোনায় বসে থেকে থেকে বেশি কিছু করা যায় না। আমার গত বছরের কথা আজ মনে পড়ছে। কি কি করেছিলাম সেই দিন। চানরাতের দিন ভেবেরেখাচিলাম কি কি করা যায় ঈদের দিনে।
মনে আছে চাঁন রাতের দিন রাতেরবেলা আমরা সবাই মিলে পার্টি দিয়েছিলাম। আসলে আমরাদের এত টাকা বাজেট ছিল না , তাই ছোট খাটো একটা পার্টির আয়োজন করেছিলাম। সেখানে আমরা ৭ জন ছিলাম। এই রকম বন্ধুদের সাথে পার্টি আর কোনো দিন করিনি। তাই আমাদের আনন্দটা বলে বুঝতে পারবোনা। আর যদিও আমরা প্রতি ঈদে বাড়িতে যাই , কিন্তু আমি প্রথম ১-২ দিন ঘরথেকে বের হইনা। কারণ বের হলে বাড়ির সব মানুষ প্রশ্নের পর প্রশ্ন করতেই থাকে।
ঈদের দিন সকাল বেলা আমরা বন্ধুরা বন্ধুরা মিলে সবার আগেই ঈদগা মাঠের উদ্দেশ্যে বের হয়ে যেতাম। যদিও পৌঁছাতে পৌঁছাতে সব থেকে দেরিতেই পৌঁছাতাম। কারণ বন্ধুদের সাথে একটু হাঁটলে আরেকটু দুষ্টোমীই করতাম। আস্তে ধীরে রিলাক্স এ পৌঁছাতাম। কিন্তু পরে গিয়ে রিলাক্স করার মজা বুঝা যেত যখন নামাজ শেষ হতো সবার পরে আমাদের বের হতে হতো !
ঈদের দিন গত বছর আমি আর আমার বন্ধুদের সাথে "চোরঙ্গী " ঘুরতে গিয়েছিলাম। "চোরঙ্গী" আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় ১ ঘন্টার পথ। আমরা সবাই বিকাল ৩ টার দিকে বের হয় , ৪ টা বেজে জায় পৌঁছাতে পৌঁছাতে। আমরা মোট ৬ জন ছিলাম একটা অটো ভাড়া করে আমরা রওয়ানা দিয়েছিলাম। সেখানে জায়গাটা এত সুন্দর ছিলাম আমি বলে বুঝতে পারবোনা। আমার কাছে ওই জায়গাটার একটা ছবি আছে !
তারপর সন্ধ্যা ৭ টার দিকে আমরা বাড়ির উদ্যেশে রওয়ানা হয়। কোরবানির এদের সময় আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা বিকালের দিকে আমাদের সাথে ঘুরতে যেতে পারেনা। কারণ তাদের তখনও দুপুরের খাওয়া দাওয়া শেষ হয়না। কিন্তু গত বছের প্রায় সবাই ছিলাম ঘুরতে যাওয়ার সময়।
আরো অনেকেই ছিল কিন্তু আমি ততোটা তাদের সাথে কথা বলিনা তাই আর বন্ধুরাও তাদেরকে যাওয়ার জন্য কিছু বলেনি। আসলে কেয়েকজন অপরিচিত থাকলে কেমন অন্যরকম অন্যরকম লাগে তাই হয়তোবা তারা তাদেরকে ঘুরার কথা কিছু বলেনি।
আসলে আগে যে রকম মজা লাগতো এখন তার অর্ধেকও লাগেনা। যদি বন্ধুদের সাথে থাকতাম তাহলেও কত না মজে হতো। আজকে ঈদের দিনে বেকারের মতো বসে থাকা সেই আমি। মাঝে মাঝে আমরা চান রাতের দিন বাজি ফুটাই। আর আমাদের বাড়ির আসে পাশের যে মানুষ গুলো বাজি ফুটালে আমাদের বকে তাদের বাড়ির সামনে গিয়েই বাজি ফুটিয়ে উমা ধুম দূর শুরু করি।
পর দিন তারা আমাদের ডেকে জিজ্ঞেস করে কে করছে কিন্তু আমরা অন্যদের নাম দিয়ে বেঁচে যাই , আর যার নাম বলি সে আমাদের এলাকায় থাকে না তাই আর ওদেরকে জিজ্ঞেস ও করতে পারেনা।