শীতকাল এমন একটা মাস যে সময় কোনো প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া কোনো মানুষ ঘর থেকে বের হয় না। সেই শীত কালেই গ্রামের ছেলে মেয়েরা খেলতে বের হয়। মানুষ যখন ঘর থেকেই বের হতেই নারাজ অন্যদিকে ছোট ছোট বাচ্চারা তাদের খেলা নিয়ে ব্যাস্ত। আমিও ছোট বেলা এইরকম ছিলাম। তখনই যেন আমার স্বাধীন ছিলাম। মুক্ত পাকির মতো যখন ইচ্ছা তখন খেলা ধুলা দৌড়া দৌড়ি সব করতে পারতাম। আমি আজকে আমার শৈশবে কাটানো শীতের সকালের স্মৃতি তুলে ধরার চেষ্টা করবো। আমার কাছে মনে হয় ছোট বেলার স্মৃতি গুলো সব একই হয়ে থাকে।কোনো জানিনা আমার আমার শৈশবের সব স্মৃতিগুলোই মনে করতে পারি। যখন আমি একা থাকি তখন আমি আমার স্মৃতি গুলো মনে করতে থাকি। সেই স্মৃতি গুলো আমার জীবনের সাথে ওতোপ্রতো ভাবে জড়িয়ে গেছে।
আমার যখন ৫ বছর তখন আমি ঢাকায় চলে আসি। সেই সময় এতটাও বড় হয়নি। কিন্তু সেই সময়কার স্মৃতি গুলোও আমার এখন মনে আছে । যখন ঢাকায় আসি তখন একটা জেলখানার মতো মনে হয়েছিল , না ছিল সেই মনোরম পরিবেশ আর না ছিল আমার একটা বন্ধু। তারপর আমি অনেক অসুস্থ হতে থাকি তার কিছু দিনপর আমাকে আর আম্মুকে কিছু দিনের জন্য আব্বু বাড়িতে দিয়ে আসে। প্রায় ৫ মাস দেশে ছিলাম। তখন যেন আমি একটা নতুন জীবন পেয়েছিলাম।
প্রায় প্রত্যেক বছর আমরা পরীক্ষার পর দেশে যাই। তখন থাকে ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে এবং শীত শুরুও হয় তখন । তাই এখন মাঝে মাঝে সেই দিন গুলোকে আবার ফিরে পাই। সকাল ৬ টায় উঠে আগে মুখটা ধুয়ে চা নাস্তা খাবার পর বেরিয়ে যাই বন্ধুদের সাথে তারপর আবার ১০ টার দিকে বাড়িতে ফিরি। ততক্ষনে নানুর পিঠা রান্নাও হয়ে গেছে। এসে খেয়ে একটু রেস্ট নিয়ে আবার বেরিয়ে পড়ি। আমরা শীতের সময় সকালে বেশিরভাগ ব্রিজ গিয়ে বশে থাকি। সবাই মিলে গল্প করে যে কার গাছে হামলা করা যায়। হামলা মানে চুরি। কিন্তু আমি চুরি করার সময় থাকি না বরং ওরাই চুরি করে ।
সেই সময় সবাই অনেক মোটা মোটা গরম কাপড় পরে থাকি। তখন অনেক শীত থাকে বাড়িতে। অন্যদিকে রাতের বেলা ঘুমানোর সময় লেপ গায়ে দিয়ে ঘুমাই। লেপ বলতে তোষকের মতো মোটা আরেকরকম তোশক। সেই সময়টাই যেন সেই বছরের সবচেয়ে সুন্দর আর আনন্দের মুহুর্থ। আমি আমার শৈশবকে অনেক ভালোবাসি। সেই দিন গুলোকে আমি আমার জীবনের ডাইরিতে রঙিন করে রাখবো। আজকে আমার লেখা এখানেই শেষ করলাম। ধন্যবাদ সবাইকে।