যেহেতু আজকে বন্ধের দিন তাহলে ভেবেছিলাম ঘুরতে যাবো। কিন্তু হঠাৎ করে আম্মু বলে যে আজকে আমাকে আম্মুর কাজে বাইরে আম্মুর সাথে যেতে হবে। ভেবেছিলাম ঘরটা যাবো কিন্তু পুরো দিনটাই এখন মাটি হয়ে যাবে। যাইহোক বলেছে তো এখন যেতেই হবে। যদিও আন্টির বাসায় যাবো। আর সেই আন্টি অনেক ভালো। আমাকে অনেক আদর করে। কিন্তু আমার আজকে প্ল্যান ছিল ঘুরতে যাবো বন্ধুদের নিয়ে। যাই হোক , বিকালের দিকে আম্মুকে নিয়ে বেরিয়ে যাই। সাথে নানু আর মামানীও আসে আমাদের সাথে !
যেতে যেতে প্রায় ঘন্টা খানিক এর মতো লেগে গিয়েছিলো। আর আজকে যাওয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল , আমরা ২ দিন পর ঢাকায় চলে আসবো। আর প্রতিবারই আন্টি আমাদের বলে তাদের বাড়িতে যেতে। আর উনি ছিল আমার আম্মুর ছোট্ট বেলার বান্ধবী। ছোট বেলায় উনারা একসাথেই বড় হয়েছে। এখন তো সবাই সবার নিজের স্বামীর বাড়িতে থাকে , তাই আমরা বাড়িতে গেলেও উনাদের দেখা পাইনা। আর সেই জন্যই আম্মুরা সবাই আজকে উনাদের বাড়িতে যাওয়ার প্ল্যান করেছিল !
যাইহোক , প্রায় দীর্ঘ ৩ বছর পর আমার আন্টির সাথে দেখা হয়। যাওয়ার পর তো উনি আমাকে জড়িয়ে ধরেছিল। আর বলসিলো তুই তো অনেক বড় হয়ে গেছিস। আসলে সত্যি বলতে আমার তখন একটু লজ্জা লজ্জা লাগছিলো। হুট্ করে একজন আপনাকে জড়িয়ে ধরলে আপনার তো একটু আজব লাগবেই। আচ্ছা যাই হোক , আপামর ভেবেছিলাম , যে রাতের মধ্যেই আবার বাসায় ফিরে এসব। কিন্তু আন্টি আমাদের এমন ভাবে ধরে রেখেছিলো , যে সেখান থেকে আশার মতো কোনো উপায়ই নেই।
আর সত্যি বলতে আমার একটুও মোট ছিল না। উনার বাসায় থাকার , কিন্তু আমি যদি আম্মুর মুখের উপর কথা বলি তাহলে আম্মু ওই খানে সবার সামনে কথা শুনানো শুরু করে দিবে। তাই বাধ্য হয়েও আম্মুর কথায় রাজি হতে হয়। আর কথা মতো আমরা সেখানেই রাত কাটাই। ভেবেছিলাম সকাল হলেই চলে এসব কিন্তু আন্টি বলে যে এত তাড়াতাড়ি গেলে নাকি কোনো গাড়িই পাওয়া যাবে না। তাই ভাবলাম ১১-১২ টার দিকে বের হবনী।
আচ্ছা যাই হোক , ওই দিন সকালে আমি ওর সাথেই একটু বাড়ির বাইরে বেরিয়েছিলাম ওদের গ্রামটা ঘুরে দেখার জন্য। আসলে সত্যি বলতে , আমি মনেহয় ভুল করেছিলাম বাড়ির বাড়ির বেরিয়ে। আমি ভাবতেও পারিনি এমনটা হবে আমার সাথে , বাড়ির বাড়ির বেরোতেই দেখো একটা মেয়ে ঠিক আমাদের পথের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে। যদিও প্রথমে ভেবেছিলাম অন্য করো জন্য হয়তো দাঁড়িয়েছে , তারপর দেখি না , সে ওর জন্য দাঁড়িয়ে ছিল। ,মেয়েটা আমাদের বয়সেরই ছিল। তার চোখের দিকে তাকালে তাকিয়ে থাকতেই মনে চাবে। তার চুক গুলো সব থেকে বেশি ভালো লেগেছে আমার।
তারপর সে আমাদের সাথেই হাটা শুরু করলো , যদিও তখন আমি শুধু চুপ করে তাদের বক বক গুলাই শুনছিলাম আর হাটছিলাম। আসলে আমার কাছে মনে হয়েছে সে মন থেকে অনেক ভালো , যদিও তার সাথে আমার বেশি কথাও হয়নি। তার কারণ একটু পরই আম্মু কল করে বাসাযা যাওয়ার জন্য , আমি চেয়ে ছিলাম তার সাথে কিছু সময় কাটাতে কিন্তু চেয়েও পারলাম না। কিন্তু আজো আমি তার চোখের সুন্দর্যটা মনে রেখেছি। হয়তো , আবার দেখা হবে কোনো এক সময় ।