ভয়ংকর রাত !

Words
430
Reading
2 min
5y

railway-508568.jpg

ভয়ংকর রাত


মাঝে মাঝে ছোট বেলায় যখন ভুতের গল্প শুনতাম তখন ভয় লাগতো। যদিও এখন আর তেমন ভয় লাগে না কিন্তু তবুও মাঝে মধ্যে যদি কোনো ভুতের মুভি দেখি তখন যদি ঐসব চিন্তা ভাবনা মাথায় আসে তখন হালকা হালকা ভয় লাগে। তবুও যদি একা একা থাকি তাহলে একটু একটু ভয় লাগে। ছোট বেলায় নানু রাতে ঘুমানোর সময় মাঝে মাঝে কিছু গল্প বলতো। কেউকেটা ছিল ভয়ংকর আবার কয়েকটা ছিল মজার। ভয়ংকর বলতে আমার সময় অনেক ভয় লাগতো যেহেতু ছোট ছিলাম তাই।

গতবার যখন বাড়িতে গিয়েছিলাম তখন নানু আমাকে ঠিক আগের মতোই একটা গল্প বলে। গল্প বললে ভুল হবে , আচ্ছা যাই হোক , আসলে আমাদের গ্রামের বাড়িতে চারি পশে অনেক গাছ পালা থাকতো। তখন আমার বয়স নাকি মাত্র ৬ মাস ছিল। ওই দিন নাকি আম্মু আর নানু মিলে আমাকে নিয়ে আম্মুর নানু বাড়িতে গিয়েছিলো মানে নানুর বাবার বাড়িয়ে গিয়েছিলো। তারপর ওই দিনই আবার বাড়িতে ফিরার কথা ছিল কিন্তু গিয়েছিলো আসতে আসতে।

আসলে আমাদের বাড়িতে যাওয়ার পথে কবরস্থান পরে। আর সেই কবরস্থানটা অনেকেই বলে যে তেমন ভালো না। অনেকেই অনেক কিছু দেখেছে ওখানে , আর সেই জন্য বেশির ভাগ মানুষ সন্ধ্যার সময় ওই জায়গা থেকে একটু দূরে দূরেই থাকতো। কিন্তু আমরা ইচ্ছা করলেও সেই জায়গাটাকে এড়িয়ে যেতে পারতাম না। কারণ ঐটা আমাদের বাড়িতে যাওয়ার একমাত্র রাস্তা ছিল। আর ঐদিন তো বললামই আসতে আসতে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিলো।

তারপর যখন ওই কবরস্থান দিয়ে পার হয় তখন নাকি আমি ভয় পেয়েছিলাম তারপর আর সারারাত চোখ খুলিনি। আরো কত কিছু , যে এই হোক। ওই ঘটনাটা শুনার পর আমার একটু ভয় লেগেছিলো। সত্যি বলতে এখনো যদি বাড়িতে যাই তখন রাতের বেলা আমি ইচ্ছা করেই বাইরে বের হইনা। কারণ বাইরে বের হলে অনেক দূরে নিয়ে যায় ওরা। হাটতে হাঁটতে কখন যে এত দূরে চলে যাই টের ও পাই। তারপর আমি ই ভয় পাই , এত অন্ধকার দিয়ে কি হাটা যায় ? পরেও ওরাই আমাকে ওদের ২-৩ জনের মাঝে করে হাটে যাতে ভয় না পাই !

আসলে কি ছোট বেলা থেকেই সব সময় আলোর মধ্যে থেকে অভ্যাস। আমাকে ঢাকায় রাত ২ টা বাজলেও এমন অন্ধকার হয়না। যাই হোক , আমি এখনো অন্ধকার কে অনেক ভয় পাই। যত আলো হবে তত সুন্দর হবে আমার কাছে।

মাঝে মাঝে ভাবি , কত মজা কত আনন্দ করি বন্ধুদের সাথে। এখনকার মতো কি আবার এই দিন গুলোর মতো মজা করতে পারবো। তার আগে সব থেকে বড় কথা হলো বেঁচে থাকবো কিনা সেটার কোনো গুরান্টি নেই। আবার ওদের মধ্যে কি সবাই বেঁচে থাকবে নাকি সেটার ও কোনো ঠিক ঠিকানা নেই। যাই হোক , আমাদের সময় নিজেদের মরা বাঁচার চিন্তা আগে করতে হবে। আর সব সময় মানুষ যাতে মনে রাখে তেমনই ভালো কাজ করে যেতে হবে যাতে মৃত্যুর পরও অমর হয়ে থাকতে পারেন !

ভয়ংকর রাত ! | Ecency