আমাদের সবার জীবনে অনেক ফ্রেন্ড তৈরী হয়েছে। কিন্তু কেউ মনের মতো হতে পেরেছে আবার কেউবা হতে পারেনি। তেমনি আমার জীবনে অনেক বন্ধু তৈরী হয়েছে কিন্তু হাতে গুনা কয়েকজন মনের মতো হতে পেরেছে। আসলে আপনি যেরকম আপনি সেই রকম বন্ধু পেতে চাইবেন কিংবা সেই রকম বন্ধু সাথে চলতে চাইবেন। এটাই নীতি। আমি ছোট বেলা থেকেই ঢাকায় এসে পড়ি বলে এত বন্ধু বান্ধব তৈরী হয়নি। কিন্তু প্রথম যখন ঢাকায় আসি তখন একটা ছেলের সাথে পরিচয় হয়। সেই ছিল আমার জীবনের সর্বপ্রথম বেস্ট ফ্রেন্ড। আমি জানিনা আজ সে কেমন আছে ! কিন্তু এখন আমি ওকে আমার বেস্ট ফ্রেন্ডদের তালিকার প্রথম স্থানে জায়গা দিয়ে রেখেছি। সে প্রায় ৬ মাস আগে ঢাকা এসেছিলো। তারপর ওর সাথে আর তিনদিন কথা হয়েছিল। তাই এখন বলতে পারছিনা ও কেমন আছে।
ওর নাম নিলয়। আমি যখন ঢাকায় আসি তখন আমরা আমাদের বাসার দুই তলায় একজন আন্টি থাকতো। ওদের বাসার পশের বাসাটা ছিল। নিলয়দের বাসা। যখন আন্টিদের বাসায় যেতাম তখন আমি আর ও একটি গাড়ি দিয়ে খেলতাম। তারপর আস্তে আস্তে করে ওদের সাথে আমাদের সম্পর্ক দৃঢ় হতে থাকে। ওর বাবা ছিল একটা পুলিশ। সে তার ছেলেকে অনেক ভালোবাসতো। নিলয়ের বাবা যখন কিন্তু কিনে দিতো তখন ও আমাদের সাথে সেটা শেয়ার করে খেত। খাওয়াটা বড় কথা নয় , সে যে আমাকে খেতে বলে সেটাই সব থেকে বড়। ওর সাথে আমার সম্পকটা প্রায় ৭ বছর ছিল। তারপর ওর নানু মারা যাবার পর তার নানা বাড়িতে একা হয়ে যাবে তাই নিলয় আর তার মা দুই জন দেশে চলে যায়। আর তার বাবা ঢাকায়ই থাকে। এভাবেই সে আমার কাছ থেকে অনেক দূরে চলে যায়।
ও যেদিন ঢাকা ত্যাগ করবে সেই দিন আমার মনটা অনেক খারাপ হয়ে গিয়েছিলো। হওয়াটা স্বাভাবিক। যার সাথে প্রায় ৭ বছর ধরে বন্ধুত্ত ছিল তাকে ছাড়া চলাটা একটু কষ্ট করে হয়ে যায়। সেও অনেক কষ্ট পিয়েছিলো। আমাকে সারাটাদিন ম্যাসাজ দিতো আর বলতো অনেক মিস করছি। তখন আমার যেন বুক ফেটে কান্না আসত। কিন্তু নিরীহর মতো শুধু কষ্টই পেয়ে গিয়েছিলাম কিচ্ছু করার ছিলোনা।
১ বছর হলো নিলয় বাড়ি চলে গিয়েছে । আমার যে বাসায় থাকি সে বাসার উপর একটা ছেলে আছে। সে দুই দিন আগে বাসায় ইন্টারনেট কানেকশন নিয়েছে। আমার তো মাথা খারাপ। কিভাবে তার কাছ থেকে ইন্টারনেট নেয়া যায় । কিন্তু সে ছিল অনেক কিপটা , মানে যাকে দিবে তাকে সব দিয়ে দিবে আর যাকে দিবেনা তাকে কিচ্ছুই দিবেনা। কিভাবে জানি তার সাথে আমার কথা হয়। আসলে সে সব সময় একা থাকতো। তাই সে আমাদের সাথে কথা বললে বা আমার কাছে আসলে অনেক মজা পেত। তার মা ছিলোনা। সে ২ বছর থাকতেই তার মা মারা গিয়েছে।
কিছুদিন কেটে গেল সে আমার বাসায় আসে খেলে , কথা বলে। একদিন আমি বললাম যে একটু wifi পাসওয়ার্ড টা দিতে সে বলল আমি জানিনা আমার আব্বু জানে। আমি আর কিছু বলিনি। তার পরদিন সকালে সে এসে বলল ফোনটা দে। আমি দেয়ার পর সে wifi কানেক্ট করে দিলো। আমার মনে হয় সেই সেই রাতের অনুতপ্ত হয়েছে যে কেন সে আমাকে না করেছে। সকাল বেলা তার এই মনুভাব দেখে আমি অনেক খুশি হই এবং তাকে জড়িয়ে ধরি এবং সেও আমাকে জড়িয়ে ধরে। আস্তে আস্তে সে আমার অনেক ভালো বন্ধু হতে লাগলো। কিন্তু তার বাবা চাকরির মেয়াদ প্রায় শেষ। তার বাবা বিটিভিতে কর্মরত ছিল।
ডিসেম্বর মাসে তারা বাসা ছেড়ে দেশে চলে যাবে। তখন থেকেই আমার যেন অনেক কষ্ট হতে লাগলো। কিন্তু সেই আগের মতোই এখন মেনে নিতে থাকি। আমি যেমন কষ্ট পেতে থাকি তেমনি ও অনেক কষ্ট পেতে থাকে। যেদিন তারা চলে যাবে সেই দিন সকালে সে বলে আজ রাত ১২ টা বাজে তারা রওয়ানা হবে। কিন্তু আমি সেদিন ১১ বাজে ঘুমিয়ে যাই। তখন আম্মু আমাকে ডাকদিবে তখনি সে বলে থাক আন্টি দিক দিতে হবে না। কিন্তু আম্মু আমাকে ডাক দেয়, আমি উঠে দেখি তার চোখ পানিতে টলমল করছে। আমি আর কোনো কথা বলিনা শুধু তাকিয়ে থাকি।
আমি আমার জীবনে দুই জন ফ্রেন্ডকেই হারিয়েছি। কোনো জানিনা আমার সাথেই এই রকমটা হলো। যাই হোক আমি ওদের জন্য সব সময় দোয়া করবো যাতে তারা যেখানেই থাকুকনা কেন অনেক ভালো থাকে। আমি যেই যেই দিন গুলোতে তাদেরকে হারিয়েছে সেই সেই দিন গুলো আমার জীবনে সবচেয়ে কষ্টের দিন হিসাবে আখ্যায়িত করে রাখবো।
Image.Source :- PIXABAY