শীতের একটি সকাল
অনেক আগে থেকেই ডিসেম্বর মাসে আমাদের বাড়িতে প্রতি বছের মেলা বসে। আগে যদিও প্রতিবছে যাওয়া হতো কিন্তু এখন আর প্রতি বছর যাওয়া হয়না। আমি যখন ছোট ছিলাম আমার আজো মনে আছে সেখান থেকে গিয়ে সব সময় গাড়ি কিনতাম।
গত বছর আম্মুকে অনেক কষ্টে মানিয়ে বাড়িতে গিয়েছিলাম। তাও মেলার ২ দিন পর। আর আমাদের মেলা সব মিলিয়ে ৫-৬ দিনের মতো থাকে। আসলে এখন সেই দিনগুলোকে অনেক অনেক মিস করি। সেই দিন গুলোকে যদি আবার ফিরিয়ে আনা যেত !
গত বছর যখন গিয়েছিলাম তখন ছিল ডিসেম্বর মাস। মানে তখন পুরোপুরি শীত কাল। জেহান শীতের সকালকে উপভোগ করতে পেরেছি তেমনি মেলাকেও উপভোগ করতে পেরেছি। মেলায় গিয়ে মনে হয়েছিল সেই আগের দিন গুলোকে আবার ফিরে পেয়েছি। আর যদি ওই দিন গুলোর সকালের কথা জিজ্ঞেস করেন তাহলে তো মনে বলবো ওই রকম পরিবেশ অন্যান্য ঋতুতে পাওয়া যাবেনা। পরিবেশ বলতে আমি সুন্দর্যকে বুঝতে চেয়েছি।
আসলে আমাদের বাড়ি থেকে সামান্য দূরে বিশাল বড় ধান ক্ষেত আছে। সেখানে গেলে চারি দিকে শুধু ক্ষেত আর ক্ষেত। সকালে উঠে যখন সেখানে যাই। মনটা যেন পরিবেশটার সাথে সাথে সন্ত হয়ে যায়। এত সুন্দর দৃশ্য আর কোথায় খুঁজে পাওয়া হবেনা।
সকাল বলতে সবসময় না , মাঝে মাঝে যখন ফজরের নামাজ পড়তে যাই তখন কয়েকজন মাইল সেখানে একটু হাটতে যাই। আর বেশির ভাগ সময়তো ৮ তার আগে ঘুম থেকে উঠা হয়না। আসলে সকাল বেলা গ্রামে প্রচন্ড পরিমানে ঠান্ডা থাকে।
যেইদিন বাইরে ঘুরতে যাই সেই দিনটা আমার কাছে মনে হয় অনেক ভালো যায়। আর যদি দেরিতে উঠি তাহলে অলসতা অলসতা করেই সারাদিন পার হয়ে যায়। তাই আমি হ্যাঁহসম্ভব চেষ্টা করি যাতে সকাল সকাল ঘুম ভেঙে যায়।
যখন সকাল সকাল উঠি তখন বাইরে থেকে আসার পর দেখি নানু আমার জন্য নাস্তা রেডি করেছে। আর সেই সময় আব্বু আম্মু সবাই ঘুমে। আমি নাস্তার পর পর এ বেরিয়ে যাই। আবার যখন ১০ টার দিকে আসি দেখি নানু আমাদের জুন পিঠা তৈরী করে রেখেছে। আগে যে নাস্তা করেছিলাম সেটা শুধু আমার জন্যই ছিল।
আসলে আমার কাছে মনে হয় গরম কাল থেকে শীতকাল বেশি সুন্দর। কারণ শীতের সকাল এমন এমন প্রবেশের সৃষ্টি হয় যেটা গরমের দিনে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। বিশেষ করে যে সময়টা শিশিরের কোন গুলো মাঠের ঘাসের পাতার উপর পরে পুরো মাঠটা যেন শিশির ভেজা হয়ে যায়।
আসলে অনেক মজা হয় শীতের দিন। যেমন রাতে তেমন দিনের বেলা। প্রতি বছরই টুর্নামেন্ট হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্য বসত বাড়িতে যাওয়া হয়না সব সময়। কিন্তু আমি যথা সম্ভব চেষ্টা করি আম্মুকে মানানোর জন্য চেষ্টা করি। আর বাকিটা সম্পূর্ণ আল্লাহ হাতে।
যদি বাড়িতে না যাই তখন শুধু ঘরের একটা কোনায় ঝাপটি মেরে বসে থেকে সেই দিন গুলোকে মনে করা ছাড়া আর কিছুই করার থাকেনা !