জ্যোৎস্না রাতে
জ্যোৎস্না হোক বা না অমাবস্যা কোনোটার ই মজা নেয়া যায়না এই ব্যাস্ত শহরে। জ্যোৎস্না রাতে চাঁদের আলোয় রাতটা আলোকিত হয়ে যায়। কিন্তু শহরের এত এত কৃত্তিম বাতি থাকতে এই চাঁদের আলো দিয়ে মানুষ কি করবে ? তার কারণেই আজ শহর বাসীরা জ্যোৎস্না রাতকে উপভোগ করতে পারেনা।
আর জ্যোৎস্না রাতকে উপভোগ করার জন্য গ্রাম ছাড়া আর কোনো জায়গা আছে বলে আমার মনে হয় না। যদিও বাড়িতে এখন ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ চলে এসেছে কিন্তু তবুও ঘনবসতি না থাকায় তেমন একটা আলোকিত থাকেনা গ্রাম গুলো।
বছর খানেক আগের কথা বাড়িতে গিয়েছিলাম যখন তখনই জ্যোৎস্না রাতকে উপভোগ করতে পারছিলাম। দিনের বেলা জেনেছি যে আজ রাত জ্যোৎস্না রাত। তখনি ভেবেছিলাম সেই রাতে কোনো একটা জায়গায় ঘুরতে যাবো। রাত্রি যখন হলো দেখি কারেন্ট ও চলে গিয়েছে। আর তখনি সব থেকে সুন্দর লাগছিলো পূর্ণিমার রাতটা।
যাইহোক কথা মতো আমরা আমাদের বাড়ি থেকে একটু দূরে ধান ক্ষেতের দিকে ঘুরতে গিয়েছিলাম। আসলে প্রথম প্রথম আমার অনেক ভয় লেগেছিলো। যেহেতো চারিপাশটা একদম নিস্তব্ধ। কোনো মানুষ নেই , ধান ক্ষেতের শুরুর দিক দিয়ে কিছু ঘর ছিল , কিন্তু আমরা তো ক্ষেতের মাঝখানে চলে এসেছি। ধান ক্ষেত্রেটা অনেক বড় ছিল। তাই আমরা শুধু মাঝখান থেকেই ঘুরে চলে এসেছিলাম।
আকাশে সাদা মেঘ মেঘগুলো কেমন ছিটিয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। আর তার মাঝখানদিয়ে সম্পূর্ণ চাঁদটা আলোকিত হয়ে রয়েছে। আর আমাদের রাস্তা সম্পূর্ণ দেখা যাচ্ছে। চাঁদের আলোর সাথে পৃথিবীর কোনো আলোর তুলনা হয়না। সেটা আমিও ওই দিন বুঝতে পেরেছিলাম।
চারি দিকটা একদম নিস্তব্দ। শুধু ওই দূরে গাড়ির ধরনের শব্দ শুনা যাচ্ছে তও শুনতে হলে অনেক খেলার করে শুনতে হয়। আর পিছনে গ্রামের দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে এখনো কারেন্ট আসেনি। একদম অন্ধকার চাঁদের আলোতে যতটুকু দেখাযাচ্ছে তত টুকুই , এর বেশি আর কিচ্ছু দেখা যাচ্ছে না।
এত নিস্তব্দ জায়গায় যদিও প্রথম প্রথম ভয় লেগেছিলো তার পর আস্তে আস্তে ভয়টা কেটেগিয়েছে। এত সোন্দর পরিবেশ যেন আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবেনা। ফিরে আসার সময় আমাদের বাড়ির পুকুরে দেখি পুরো চাঁদের প্রতিবিম্ব দেখাযাচ্ছে। মনে হচ্ছিলো যে পুকুরের নিচেই চাঁদটা রয়েছে।
আসলে আমরা বাড়িতে গেলেও সব সময় ৭দিন বা ১০ দিনের বেশি থাকি না। আর এর মাঝে সব সময় পূর্ণিমা ও হয়না। তাই গতবছরের সেই পূর্ণিমা রাতের দিনটা আবার ফিরে পাওয়া হয়তো অনেক কঠিন বেপার। তাই আমি সেই দিনটাকে সব সময় স্মরণ করে রাখবো !