শৈশবের স্মৃতি গুলো এমন একটা স্মৃতি যেটা আমাদের সারাজীবন মনে থাকে। আমি কোনো দিনও সেই দিন গুলোকে ভুলতে পারবোনা। তখনকার সময় গুলো ছিল একটা সীমাবদ্ধের ভিতরে, বলতে একটা নিয়ম মাফিক অনুযায়ী । সব সময় রুটিনের নিয়ম অনুযায়ী চলতাম।কারণ একটু পর পরই আম্মু আমার খোঁজখবর নিতো । কিন্তু আজকে কাউকে নজর রাখা লাগেনা। আমার এই কথাটা বলার কারণ আম্মুর সেই ধমকি গুলো এখন মিস করি। ধমকি শুনতেও যেন ভালোই লাগতো। কিন্তু আজআর ধমকি দেয়া লাগেনা। নিজের কাজ নিজেই করে ফেলি।
আমার শৈশব গুলো তুলনামূলক ভাবে অনেক নিয়ম অনুযায়ী কেটেছে। কারণ আমার মা আমাকে অনেক নিয়মমাফিক সব কাজ করিয়েছে। যেমন : যদি বিকালে ৪ টার দিকে খেলতে বের হতাম তখন থেকেই ঠিক ১ ঘন্টা পর মানে ৫ টা বাজে পড়তে বসাতো। তারপর ১ ঘন্টা পড়িয়ে ছাড়তো। কিন্তু তখনতো প্রায় সন্ধ্যা হয়ে যেত তাই বিকালে এত বেশি খেলতে পারতামনা।
আগে আমরা ছেলে মেয়ের ভেদা ভেদ বুঝতামনা। তখন সব একসাথে বউ বউ খেলতাম 🤭 . তখনতো বিয়ে কি সেটাই বুঝতাম না। শুধু বউ বউ না আরো অনেক খেলা খেলতাম যেগুলোর নামও মনে নাই। কিন্তু আগে যে ছেলে মেয়েদের মধ্যে মিল ছিল এখন আর একটুও নেই। মনে হয় কেউ কাউকে চিনে না। কারণ এখনকার সমাজ ছেলে মেয়েদের একসাথে দেখতে পছন্দ করে না। তাই মনে হয় ছোট বেলায় যা করেছি সেটা আর কোনো দিনও ফিরে আসবেনা।
আমার ছোট বেলার অনেক গল্প আছে। কোন হাস্যকর আবার কোনটা দুঃখের। আমি যেমন ছোট বেলায় গ্রামে বড় হয়েছি। তেমনি আমি আম্মুর থেকে নানুকে বেশি ভালোবাসি। একদিন আমার নানু তাদের বাবার বাড়িতে যাবে তখন আমাকেতো নিয়ে যেতে পারবেনা। কারণ সেটা অনেক দূরে ছিল। তাই বাড়ির কিছু প্রতিবেশী দেরকে বলে আমাকে ধরে রাখতে যাতে আমি নানুর পিছে পিছে না যেতে পারি। আমার মনে আছে সেই দিনটার কথা। আজো ভুলিনি সেই বুক ফেটে কান্না আশার দিনটা।
আজ যদিও ছেলে বন্ধুদের সাথে মিল রয়েছে , কিন্তু সেই দিন গুলো আর নেই। কেউ এখন একত্রিত হতে পারিনা। কেউ কেউ তাদের পড়াশুনা আবার কেউ কেউ তাদের দৈনন্দিন জীবনের কাজ কর্ম নিয়ে ব্যাস্ত থাকে। যাতে করে কেউ আমরা একে অপরকে সময় দিতে পারিনা। কিন্তু যখন ঈদে বাড়ি যাই তখন সবাই একসাথে আবার সময় কাটাতে পারি। তাই অন্যান্য সময় থেকে ঈদের সময় ঢাকায় ফিরে আসতে বেশি কষ্ট হয়।
Image source: Pixabay