গত কয়েকদিন আগে রেজাল্ট দেয়ার পর আমাদের কলেজ এ ভর্তি হওয়ার জন্য ডাক চলে আসে। প্রথম প্রথম তো একটু ভয়ে ভয়ে ছিলাম যে নতুন একটা জায়গায় নতুন সবার সাথে খাপখাইয়ে চলতে পারবো কিনা। কিন্তু কলেজে ২-৩ দিন ক্লাস করার পর সব কিছু যেন চিনা হয়ে গিয়েছে।
এখন সংকোচ বোধটা কেটেগিয়েছে। বন্ধুদের কথা যদি বলি তাহলে মোটামোটি অনেক গুলো বন্ধুই হয়েগিয়েছে কিন্তু কেউই আমাদের এলাকার না। সবাই অন্যান এলাকা থেকে। যদিও একজনকে পেয়েছিলাম কিন্তু সে আমাদের এলাকার পাশের এলাকায় থাকে। আচ্ছা যাই হোক, আমাদের কলেজ এ সব ছেলে মেয়ে আলাদা।
অর্থাৎ কলেজ এ ছেলেরা আলাদা আর মেয়েরা আলাদা। সত্যি কথা বলতে আমি খুশি হয়েছি অনেক। কারণ আমি ছোট বেলা থেকে যত স্কুল এ পড়েছি সব গুলোতে ছেলে মেয়েরা একসাথে ছিল। যেটা আমার কাছে একদম বিরক্ত লাগতো। আসলে সত্যি কথা বলতে আমি একটু অন্তর্মুখী টাইপের। সেই জন্য মেয়ের সামনে দাঁড়াতেও লজ্জা লাগে। কথাটা শুনতে একটু অদ্ভুত লাগছে তবুও এটা সত্যি। আচ্ছা এইসব কথা এখন বাদ দেই। স্কুল এ যখন ছিলাম তখন আমাদের বাসা থেকে স্কুল তেমন একটা দূরে ছিল না। প্রতিদিন আমার একটা বন্ধু এসে আমাকে নিয়ে যেত। কিন্তু যখন কলেজ এ উঠি তখন সব কাজ নিজে একাই করা লাগছে।
প্রথম যেদিন কলেজ এ যাই সেইদিন আব্বু সাথে গিয়েছিলো। প্রায় সকাল ৬ তার দিকে ঘুম থেকে উঠে তারপর নাস্তা না করেই বেরিয়ে পড়ি , এত সকালে কিছুই খেতে ইচ্ছা করছিলোনা। তারপর আবার বাসা থেকে বেরহতেও দেরি করে ফেলেছিলাম। কলেজ এ যেতে যেতে প্রায় ১ ঘন্টার মতো লেগেগিয়েছিলো। আমি চিন্তায় ছিলাম প্রথমদিনই না আবার দেরি করে ফেলি।
কলেজ এ পৌঁছে গিয়ে দেখি আমাদের সব গ্রুপ এর শিক্ষার্থীরা একসাথে ৪০২ নম্বর রুম এ আছে। পরে আব্বুকে নিচে রেখে ক্লাস এ যাই , গিয়ে শুনি আমাদের নাকি মোবাইল ফোন এ SMS দিয়ে বলে দেয়া হয়েছে আজকে ক্লাস শুরু হবে ১০ : ৩০ থেকে। মানে , আরো ৩ ঘন্টা পর আমাদের ক্লাস শুরু হবে। তো , এখন তো অপেক্ষা ছাড়া আর কোনো উপায়ও নেই।
আমি ভেবেছিলাম আব্বু হয়তো বাসায় চলে গিয়েছি। কিন্তু না , আব্বুও ক্যান্টিনে বসে বসে অপেক্ষা করছিলো আমাদের ক্লাস শেষ হওয়ার। কিন্তু আজকে ক্লাস ছিল না। আজকে ছিল ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম ছিল। প্রোগ্রাম শুরু হয় প্রায় ১০ : ৩০ এ। তখন আব্বুকে দেখি আমাদের ১১ তলটাতে বসে আমাদের প্রোগ্রাম দেখছে।
সব মিলিয়ে প্রথম দিনটা এতটাও খারাপ যায়নি কিন্তু ঐদিন বাসে করে আসার সময় এটাই ভাবছিলাম যে এখন আর আমার পথের সাথী কেউ হবে না। একাই পথচলা শিখতে হবে , যদিও এখন সবাইই তাদের নিজের পথ নিজেই চলতে শিখবে।