ভয়ংকর একটি ঝড়ের রাতের গল্প
ওই দিন বিকালের দিকে আমরা সবাই মিলে দাদু বাড়িতে যাই। আসলে আমরা বাড়িতে গেলে শুধু নানোর বাড়িতেই থাকি। তাই ওই দিন আমরা সবাই মিলে দাদু বাড়িতে ঘুরতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয় , তখনি আকাশটা অনেক মেঘাছন্ন হয়ে ছিল , তবুও সেটার তোয়াক্কা না করেই আমরা বেরিয়ে পড়ি। সেখানে পৌঁছানোর আগেই বৃষ্টি শুরু হয়ে গেয়েছিল। তারপর আমরা আরেকজন আত্মীয়এর বাড়িতে আশ্রয় নেই। উনারা আমাদের এত পরিচিত ছিলেনা , আমি যতটুকু জানি !
তার অনেক্ষন পর দেখি বৃষ্টির কোনো থামা থামি নেই। সেই প্রথম থেকে যে ভাবে পড়েছে ঠিক এখনো সেই ভাবেই পড়ছে। আর আমরা এমন একটা জায়গায় ছিলাম যেটা আমাদের নানু বাড়িও যাওয়া যায়না দাদু বাড়িও যাওয়া যায়না। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর আম্মু বললো এখন এভাবে বসে থাকলে হবে না। কিছু একটা করতে হবে। তারপর আমরা চিন্তা করি কোনো একটা অটো দিয়ে আবার বাড়িতে ফিরে যাবো !
অনেক খুজার পর পাশের বাড়ির একজন আঙ্কেল কে ঠিকরলো সে আমাদেরকে নিয়ে বাড়িতে যাবে। আসলে কেউ যেতে চাচ্ছিলোনা , আর এত বড় ঝরে কে জেনেশোনে তার ক্ষতি করতে চাইবে? যাই হোক , এই এত বড় ঝড়ের মধ্যেও আমরা বেরিয়ে পড়লাম তখন রাত বাজে ৯ টা। বাড়ির জন্য সেটা গভীর রাত।
যখন আমরা মাঝরাস্তায় তখন দেখি প্রচন্ড বৃষ্টিতে আমাদের পুরু শরীর ভিজে যাচ্ছে। অনেক কষ্ট করে অটো এর পর্দাটা ধরে রেখেছি। কিন্তু তাতেও পুরো শরীর ভিজে গিয়েছিলো। আসে পশে তাকিয়ে দেখি বাড়িগুলোর টিন আরেকটু হলেই উড়িয়েনিয়ে যাবে। আর তখন কারেন্ট ও ছিলনা , তখনকার পরিবেশটা নরকের মতো লাগছিলো।
যাই হোক অনেক কষ্টে বাড়িতে ফায়ার ছিলাম সেই দিন। পরদিন শুনি সেই ঝরে কালকে রাতে নাকি ৫ যান মারা গিয়েছে। কারো উপরে কারেন্টের তার পরে , আবার কারো উপরে টিন আসে পরে ছিল। আমার সাথে সেই বাজে অভিজ্ঞতা হয়েছিল সেটা যেন কারো সাথে না হয়।