আমাদের দেশ ৬ ঋতুর দেশ। আমাদের দেশে পর্যায়ক্রমে একের পর এক ঋতু চলতে থাকে। আর মধ্যে একটি ঋতু হলো বর্ষা। সেই সময় রাত দিন অজস্রে বৃষ্টি ,আর অলসতার মাঝে কাটে দিন গুলো। কেউ পছন্দ করে আবার কেউ করে না কিন্তু বর্ষার শেষে প্রকৃতির দিকে তাকালে মনে হয় তারা নতুন এক জীবন পেয়েছে। সেটা উপলব্ধি করা যায় একমাত্র গ্রামে বসে। কারণ গ্রাম ছাড়া ওই প্রকৃতি কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। বর্ষার সময় অনেক তাদের অলসতা কাটাতে পছন্দ করে কিন্তু সেই অলসতাকে কাটিয়ে উঠা অনেকটা কঠিন হয়ে পরে। কেউ কেউ হয়তোবা জীবিকা নির্বাহের জন্য বাইরে যেতে হয় তখন সে পরে মহা মুশকিলে।
আমাদের দেশ মধ্যবৃত্ত দেশ। তারা বেশির ভাগ সময় জীবকে নির্বাহের জন্য নানা রকম কাজ করে থাকে। কিন্তু এই বর্ষাকালে তারা বাড়ির বাইরে বের হতে পারেনা। আর যদিও বের হয় তাহলে বৃষ্টির পানির কারণে নানা রকম অসুখে ভুগে। সব কিছুরই ভালো এবং খারাপ দিক রয়েছে। এই বর্ষা কারো জন্য আনন্দের আবার করো জন্যে অভিশাপ রূপে দাঁড়ায়। যদিও এটা একমাত্র আল্লাহর দান। তাই একে অভিশাপ রূপে না দেখে মাথা পেতে মেনে নেয়া উচিত।এটা অনেক জীবনও বাঁচায় , খরার মৌসুমে।
আমি গত বছর বাড়িতে বর্ষার সময় গুলো কাটিয়েছি। সেই সময় আমার অনেক অলসতা অনুভব হয়েছে। না ছিল সময় কাটানোর মতো কেউ , না ছিল ফোন ! আমার আম্মু আমাকে এসএসসি পরীক্ষার আগে মোর গেলেও ফোন কিনে দিবেনা। বৃষ্টির সময় জানালায় বসে বসে বৃষ্টি দেখতাম তখনকার আমার অনুভতি গুলো বলে বুঝানো সম্ভব না। আমি বাড়িতে গিয়ে প্রায় সারাদিন ঘুরে বেড়াই কিন্তু সেই ঘরে চুপ করে বসে থাকাটা একটু কষ্টই বটে। বৃষ্টির পরেও বাসা থেকে বের হওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি থাকে না। সম্পূর্ণ রাস্তা কাদায় ভর্তি। পা ফেললেই যেন পিছলা খাবো , সেই ভয়ে আর বেরই হইনা।
বৃষ্টির দিনে গ্রামে আমরা যখন সবাই একসাথে থাকি তখন সবাই মিলে বৃষ্টিতে ভিজি। যেটা আমি সবথেকে বাসি ভালোবাসি। মাঝে মাঝে সবাই মিলে ফুটবল নিয়ে বের হয়ে মাঠে গিয়ে খেলি। আবার মাখে মাঝে বৈশাখী ঝড়ের বৃষ্টির সময় আম কুড়াতে বের হই। যখন মাঠে খেলতে বের হই তখন একটা দৌড় দিতে গিয়ে আর না হয় ২ বার নিশ্চত পরে যাই। সবাই একজায়গায় দেড়াতে দৌড়াতে মাটি পিচ্ছিল হয়ে যায় এবং দৌড় দেয়ার সাথে সাথে পরে যায়। বৃষ্টি শেষে যখন পুকুরে গুসল করতে যাই তখন পুকুরের পানি বরফের মতো মনে হয়। বৃষ্টির পানিতে পুকুরের পানি ঠান্ডা হয়ে যায় ।
এমন অনেক উদ্ভিত রয়েছে যাদের পানি দেয়ার মতো কেউ নেই। তারা তো একমাত্র বৃষ্টির উপরেই নির্ভর করে। সেটা থেকেই তারা তাদের জীবন বাঁচায়। আমরা যেমন উপকৃত হচ্চি তেমনি অনেক উদ্ভিত ও তাদের জীবন বাঁচাচ্ছে। আমি যদিও বৃষ্টিকে এতটা ভালোবাসিনা তবুও এর উপকারের কথা চিন্তা করা উচিত। কিন্তু যদি একটু প্ৰকৃতির দিকে তাকাই তাহলে আমি সব কিছু ভুলে যাই। বৃষ্টি যেন প্ৰকৃতির বর্ণকে আরো বর্ণিত করে যায় !
বৃষ্টির দিনে আমি আজ যেখানে বসে রয়েছি যেখানে ঝড় হোক বা বৃষ্টি কোনো টের ও পাওয়া যায় না। বারান্দায় বসে বসে বৃষ্টি দেখি আর বাড়ির স্মৃতি গুলো মনে করতে থাকি। আমার জীবনের সেই দিনগুলো সবসময় স্মৃতি বিজড়িত হয়ে থাকবে। আর কি পাবো সেই দিনগুলো ! বন্ধুত্বের বাঁধনে বাধা দিনগুলো !
Image sourcePixabay