অপেক্ষা।

Words
444
Reading
2 min
5y

দীর্ঘ ৩ বছর হয়ে গিয়েছে বাড়িতে যাওয়া হয়না। এখন কিছুদিন ছুটি পেয়েছি। যদি এখন যাওয়া না হয় তাহলে এই বছরেও মনে হয়না আর যাওয়া হবে। কিন্তু সব থেকে বড় কথা হচ্ছে আম্মু মোটেও রাজি না যাওয়ার জন্য। বলে যে প্রয়োজন হলে এই বছর আর যাবে না বাড়িতে কিন্তু এখন এই শীতের মৌসমে সে কোনো ভাবেই যাবে না। যেহেতো আম্মু বলে দিয়েছে সেহেতো এখন তো আর তার উপরে কথা বলা যাবে না। তো এখন একমাত্র পন্থা হচ্ছে তাকে রাজি করানো। কিন্তু কেমন জানি মনের মধ্যে একটা ভয় কাজ করছিলো। কারণ আম্মু ১ কথা ২য় বার শুনতে চায় না। আর যদি বলিও তাহলে পরে আমার উপর দিয়ে অনেক ঝড় যায়।

IMG_20220106_154900.jpg

Image source

তাই সত্যি কথা বলতে আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। তেমন বেশি একটা বলতাম ও না বাড়িতে যাওয়ার কথা। আর সত্যি কথা বলতে সময় ও তেমন ছিল না আর কিছুদিন পরই স্কুল খুলে ফেলবে। তখন তো আর ইচ্ছা করলেও যাওয়া সম্ভব না। ঐদিন সকালে নানু ফোন দিয়েছিলো। তখন আম্মুকে দেখি একটু চিন্তিত দেখা যাচ্ছে , আমি প্রথমে কিছু বলিনি পরে ঘন্টা খানিক পর যখন জিজ্ঞেস করি তখন আম্মু বলে যে আমাদের ২-৩ দিন এর মধ্যে বাড়ি যেতে হবে। যেহেতো আম্মুর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ছিল এটা , মানে এখন তো আম্মুর কোনো প্রয়োজনীয় কাজে যেতে হচ্ছে তাই আম্মু মেজাজ তখন খিট খিটে হয়ে ছিল। যদিও আমি আম্মুর সামনে একটু কষ্ট কষ্ট ভাব করে থাকি কিন্তু মনে মনে অনেক খুশি ছিলাম আমি।

আচ্ছা যাই হোক , ঐদিন রাতে দেখি আম্মু আমাদের গোছ গাছ করছে। মানে বাড়িতে যাওয়ার প্রস্তুত নিচ্ছে আরকি। তখন আস্তে আস্তে আমিও আমার গুছগাছ শুরু করে দেয়। কথা ছিল আরো ২-৩ পর যাবো কিন্তু এখন নাকি আরো তাড়াতাড়ি যেতে হবে। আমাদের আগামীকাল সন্ধ্যার মধ্যে সেখানে পৌঁছাতে হবে। সেহেতো আমাদের প্রায় সকাল ১০-১১ টার দিকে রওয়ানা হতে হবে সেই হিসাবে তো এখন তাড়াতাড়ি করে আমাদের গুছগাছ সেরে ফেলতে হবে।

পরদিন সকালেও আমরা বাড়িতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। আর এটা কিভাবে সম্ভব , আপনি যদি প্রস্তুতির জন্য শুধু একটা রাতই পান তাহলে আপনার পক্ষে একটু কষ্টকর হয়ে যাবে। যদিও এটা অনেক লম্বা কোনো জার্নি ছিল না তবুও যেহেতো গ্রামে যাচ্ছি মোটামুটি তো একটা গুছগাছ করতেই হয়। কথা ছিল ১০ টার দিকে বের হবো বাসা থেকে কিন্তু বের হতে হতে প্রায় ১২ টা বেজে গিয়েছিলো। আর যেহেতু হটাৎ করে যাওয়া হচ্ছে তাই বাস ছাড়া তো আর কোনো বিকল্প নেই। আর বাড়িতে পৌঁছাতে পৌঁছাতে প্রায় ৩ টার মতো বেজেগিয়েছিলো। গিয়ে একটু রেস্ট নিয়েই দেখলাম আম্মু আব্বুকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লো।

প্রায় রাত ৯টার দিকে বাসায় ফিরেছিল। আর আমার কথা যদি বলি আমি রীতিমতো অনেক খুশি ছিলাম। প্রায় ৩ বছর পর বাড়িতে যাওয়ার , স্কুল , কলেজ সব বন্ধ। সবাই এখন একদম স্বাধীন। এখন তৃপ্তি মতো সবার সাথে একটু আনন্দ করতে পারবো। আবার হয়তো সেই আনন্দের স্মৃতি গুলোকে নিয়েই ৩-৪ বছর কাটাতে হবে।

অপেক্ষা। | Ecency