হ্যালো,
আসসালামু আলাইকুম ওযা রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ, আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন ও সুস্থ আছেন। আমাদের দেশের সকল ঋতুর মাঝে সবচেয়ে পছন্দের ঋতু হোলো শীতকাল। আর তাই স্বাভাবিকভাবেই মনে প্রশ্ন আসে কেনো পছন্দ, শীতকালে এমন কি ঘটে এবং কি করি শীতের সময় ইত্যাদি আনেক কিছু। আমরা সাধারণ ভাবে গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ ও হেমন্তকে মোটামুটি গরম কাল বলতে পাড়ি এবং শীত ও বসন্তকে শীত কাল ভাবতে পাড়ি। যদিও বসন্তের শুরুতে শতের শেষ সময় এবং আবার গ্রীষ্ম কালের শুরুর সময়ও ধরা যায়। যার ফলে আমরা সারা বছরকে গ্রীষ্মকাল ও শীতকাল হিসেবে দুটি সময়কালে ভাবতে পাড়ি এবং বলতে পাড়ি - আমাদের দেশে ১২ মাসের ৮ মাসই গরম তাপমাত্রা, বন্যা, খড়া ও ঝড়-বৃষ্টি লেগেই থাকে। আর বাকী ৪ মাস এসব সমস্যাগুলো না থাকায়, আমাদের বেশির একাংশ মানুষের কাছে শীতকাল একটু বেশি ভালো লাগে। তবে আমার কাছে শীতকাল ভালো লাগার যথেষ্ঠ্য কারণ রয়েছে।
আমরা জানি, প্রত্যেক মানুষের জীবনে খারাপ সময়ের পড়ে ভালো সময় অথবা ভালো সময়ের পড়ে খারাপ সময় আসে। আমাদের জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এভাবেই ভালো ও খারাপের আগমন হয়। ঠিক তেমনি, গ্রীষ্মকাল ও শীতকালের মাধ্যমে প্রকৃতিক সৌন্দর্যের ভালো সময় ও খারাপ সময়ের দৃশ্যও আমরা দেখতে পাই। পৃথিবীর নিয়ম অনুযায়ী প্রকৃতিতে গ্রীষ্ম ও শীতের আগমন এবং বিদায়ের ধারাবাহিক পক্রিয়া চলমান। যার মাধ্যমে আমরা প্রতি বছর দেখতে পাই, শীতের আগমনের মাধ্যমে গাছগুলো যেনো তাদের পুরোনো পাতা জেড়ে ফেলে নতুন পাতার জন্মের মধ্য দিয়ে সবুজ প্রকৃতিকে অনন্য সুন্দরভাবে সাজিয়ে তোলে।
অবশ্য শীতের আগমন যেমন একাংশ মানুষের জন্যে নতুন বিনোদনের মাত্রা যোগ করে, ঠিক তেমনিভাবে দরিদ্র ও অসহায় একটি বিশাল অংশের মানুষের জীবনের জন্য দুঃখ ও কষ্টের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। অতীতের শীতগেুলো বলতে বাধ্য করে, শীত যেনো দরিদ্র মানুষের জীবনে এক বড় অভিসাপের ন্যায় প্রতি বছর তাদের জীবনে হানা দেয়। আর এমন দৃশ্য আমাকে প্রতিবছর তাদের পাশে অল্প হলেও সুখ নিয়ে দাঁড়াতে বাধ্য করে। আপনারাও হয়তো যার যার জায়গা থেকে দরিদ্র অসহায় মানুষগুলোর পাশে যেয়ে সাধ্য মতো সুখ বিতরণের চেষ্ঠা করেন। সত্যি বলছি এভাবে মানুষের জন্য নিঃস্বার্থ উপকারের মাধ্যমে আত্মতৃপ্তি পাওয়া যায়।
শীতের আগমনের সাথে আমরা আনন্দ ও বিনোদনের এক ভিন্ন মাত্রার প্রকাশ দেখতে পাওয়া যায়। যেমন বলতে হয় - শীতের আগমনে সারা দেশ উৎসবের মৌসুমে পরিণত হয়, যার বাস্তবিক দৃশ্য আমরা শহর ও গ্রামে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে দেখা যায়। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হোলো শীত আসলেই, আমাদের কৃষকের ঘরে ঘরে নতুন চালের বিভিন্ন ধরনের পিঠা বানানোর ধুম পড়ে যায়। তাছাড়াও শহর ও গ্রামে বিভিন্ন জায়গায় পিঠা মেলা বসে , যেখানে আমাদের দেশের হরেক রকমের মজার পিঠাগুলো পাওয়া যায়। আর শীতকাল হোলো কৃষকদের জন্য ফসল তোলার এক অসাধারণ আনন্দের সময় ।
তাছাড়াও শীতকাল আমাদের ভিন্ন ভিন্ন ফ্যাশনের সুযোগ করে দেয়, যেমনটা আমাদের দেশের তরূণদের মধ্যে ভালোভাবে দেখা যায়। অবশ্য আমার নিজেরও শীতকালের ফ্যাশনগুলো ভালো লাগে। আর শীতের সময় দেশের বিভিন্ন জায়গায় কনসার্ট, মেলা ও ভ্রমণের আয়োজন করা হয়। যা সত্যি আমাদের জীবনে এক ভিন্ন মাত্রার ভালো লাগার সৃষ্টি করে। বার্বি কিউ পার্টি শীতের সবচেয়ে পরিচিত দৃশ্যে দেখা যায়, যা আমি নিজেও বেশ কয়েক বছর অত্যন্ত আনন্দের সাথে করে আসছি পরিবার, বন্ধু ও ছোটভাইদের নিয়ে। আগুন জালিয়ে সন্ধার পড়ে বন্ধুদের নিয়ে গানের মাধ্যমে শীত উপভোগের চমৎকার অনুভুতিগুলোর পুনরাবৃত্তি শীতকালেই পাওয়া সম্ভব।
সুদূর সাইবেরিয়ান অতিথি পাখির জাকগুলো ঘুরে বেড়ায় জলে ও আকাশে , এমন সুন্দর দৃশ্যগুলো শীতকাল ছাড়া দেখার যে কোনো উপায় নেই। কুয়াসা ভেজা সকালে খেজুরের রস খাওয়া ও গরম চায়ের সাথে সময় কাটানোর দৃশ্যগুলো অনেক ভালো লাগার ছিলো। আর এই ভালো লাগার সময়গুলো পাবার জন্যে প্রিয় শীতকালের অপেক্ষার দিনগুনে যাওয়া।
ধন্যবাদ।