হ্যালো আশা করি সবাই ভালো আছেন। আজ একটা চমৎকার দেশের রূপকথার গল্প লেখতে বসেছি। একটি সুন্দর সুজলা সুফলা অসম্ভব সুন্দর পৃথিবী নামক একটি বিশাল দেশ ছিলো। আর সেই সুন্দর পৃথিবীতে বসবাস করতো সৃষ্টিকর্তার সৃষ্ট শ্রেষ্ঠজীব মানুষ, সেই সব মানুষদের জীবনকে সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য সৃষ্টিকর্তা পৃথিবী নামের দেশটিতে আরও অনেক জীব-জন্তু, পশু-পাখি, গাছ-পালা পাহাড়-পর্বত, নদ-নদী ও বিশাল বিশাল সাগর-মহাসাগর সকল কিছুই দিয়েছিলেন। আর সেই মানুষেরা সুন্দরভাবে পৃথিবীতে বসবাস করতে করতে জ্ঞান বিজ্ঞানের মধু চাষের মাধ্যমে পৃথিবীতে আরও বেশি ভালো থাকতে চেষ্ঠা করছিলো !! আর সেই মধু চাষ পদ্ধতিতে সফল হতে দেখে মানুষের মনে অহকার ও লোভ সৃষ্টি হয়ে গিয়েছিলো । দুর্ভাগ্যবসত শ্রেষ্ঠজীব মানুষগুলো লোভ ও অহকারে বসীভুত হয়ে ভয়ংকর স্ক্রীন এডিকশন নামের রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়লো এবং রোগটি সমগ্র পৃথিবীব্যাপী বাতাসের বেগে ছড়িয়ে গিয়েছিলো ।
আর জ্ঞান বিজ্ঞানের গবেষণার মাধ্যমে জানা যায়, মানুষ তার মস্তিস্কের মাত্র ৪% থেকে ৫% ব্যবহার করতে পাড়ে এবং এই ভয়ংকর ব্যাধী মানুষের মস্তিস্কে এতোটাই প্রভাব বিস্তার করে ফেলেছিলো যে, মানুষের ব্যবহার্য ৪% বা ৫% এর মধ্যে বেশিরভাগই স্ক্রীন এডিকশন রোগে আক্রন্ত হয়ে পড়েছিলো এবং তা সত্যিকারভাবে মানুষদের স্বাভাবিক জীবন-যাপন পদ্ধতিকে নষ্ট করে দিতে শুরু করেছিলো। তবে পৃথিবী দেশটির মানুষেরা অনেক জ্ঞানী হলেও বুঝতে পাড়ছিলো না কিভাবে তারা স্বাভাবিক ও সুন্দরভাবে জীবন যাপন করতে পাড়বে?
তখন একজন মানুষ তাদের বলতে লাগলেন –হে মানুষেরা একজন মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সৃষ্টিকর্তার দেয়া নির্দিষ্ঠ কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য থাকে। আর সেসব দায়িত্ব ও কর্তব্যেএকজন মানুষকে যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন তার নিয়মেই পালন করতে হয়। আর তার জন্য একজন মানুষের যে পনিমাণ সময় ব্যবহার করে চিন্তা- ভাবনাকে কাজে লাগাতে হয় তার জন্যেও আমাদের মস্তিস্কের যতোটুকু ব্যবহার করা দরকার তা তো তোমাদের স্ক্রীন এডিকশন রোগ ধ্বংস করে দিচ্ছে। হে মানুষ তোমরা বুঝতেই পাড়ছো না যে, দৈনন্দিন জীবনে পিতা-মাতার সম্পর্ক থেকে জাবতীয় সকল সম্পর্ক তোমরা স্ক্রীন মিডিয়ায় দেখানো আর্টিফিশিয়াল নিয়মে যেভাবে পালন করছো এবং এভাবেই সকল কিছুর স্বাভাবিক নিয়মকে ধ্বংস করে করে তোমরা নিজেদের বিপদগ্রস্থ করে ফেলেছো।
নিজেদের যোগাযোগ মাধ্যমকে সহজ থেকে সহজতর করতে যে মহান জ্ঞানী মোবাইল আবিস্কার করেছিলেন , তিনি সুন্দর পৃথিবীর মানুষগুলোর বিপদগামী পথে আগানোর গতি দেখে নিজেই বলেছিলেন - সর্বোচ্চ ২ ঘন্টার বেশি মোবাইলের ব্যবহার, নিজেদের ভয়ংকর রোগে আক্রন্ত হবার একটা কারণ । তবে মানুষ তো আর শুধু মোবাইলের দিকেই তাকিয়ে থাকে না, আরও অনেক স্ক্রীনের দিকে তাকিয়ে থাকে – যেমন টিভি, ল্যাপটপ, কম্পিউটার ও আই প্যাড জাতীয় সকল কিছুর মাধ্যমেই এই স্ক্রীন এডিকশন রোগে আক্রান্ত হচ্ছিলো।
আর যার ফলশ্রুতিতে মানুষের চোখের সামনেই সৃষ্টিকর্তার তৈরি পারিবারিক, সামাজিক, পারিপার্শ্বিক ও বাস্তবিক জাগতিক সম্পর্কগুলো নষ্ট করে দিয়ে অহকারী ও লোভী মানুষের তৈরি আরর্টিফিশিয়ার বানিজ্যিক নিয়মের মাধ্যমে মানুষে মানুষে সম্পর্ক বুনে যাচ্ছিলো্ । মানুষের জীবন যাপন এমনটা দেখা যাচ্ছিলো যে, মানুষের ভালো থাকা বা খারাপ থাকা থেকে শুরু করে সকল ধরনের অনুভুতির আশ্রয়স্থল যেনো স্ক্রীন জাতীয় পণ্যগুলো পূরণ করার মহা ঔষধে পরিণত হয়েছিলো। আর এভাবেই মানুষ বুঝে না বুঝে নিজেদের বিপদ নিজেরাই ডেকে এনেছিলো। মানুষরা ভুলেই গিয়েছিলো এতোসব কিছু তাদের কাহজর জন্য তৈরি করেছিলো। অথচ মানুষ কাজের ফাকে একটু বিনোদন নিতে যেয়ে সারা জীবনের জন্য বিনোদনো পরিনত হয়ে গিয়েছে।
আর এভাবেই পৃথিবী নামের সুন্দর দেশটিতে শ্রেষ্ঠজীব মানুষেরা স্ক্রীন রোগে আক্রান্ত হয়ে ধ্বংসের সূচনা করেছিলো।
ধন্যবাদ।