আমাদের ছোটভাইদের জন্য (মানে বিংশ শতাব্দীর নতুন জেনারেশনের) আজ কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা জনাবো। দুদিন আগে কিছু ছোটভাই ফেইস বুক বা মেটা পেইজে তাদের একটি সমস্যার কথা শেয়ার করেছে। সমস্যা হোলো তারা তাদের স্কুল ও কলেজের মাঠে খেলতে সুযোগ পাচ্ছে না, তার কারণ জানা গেলো বিশ্ববিদ্যালয়ের বড়ভাইরা তাদের মাঠে না খেলে ছোটভাইদের মাঠে খেলতে শুরু করেছে। আর এর ফলে একটা বিশাল সংখ্যক ছোটভাইরা বড়ভাইদের সাথেও খেলতে পাড়ছে না এবং ধারাবাহিক খেলাধুলা থেকে দূরে সরে বিভিন্ন খারপ কাজের সাথে জড়িয়ে যাবার একটা ভয়ংকর সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে। আর ছোটভাইরা আরও উল্লেখ করে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম যদি ভুল পথে পা বাড়ায় তাহলে এসবের জন্য বড়ভাইরাসহ শিক্ষকরা দায়ী থাকবে বলে। আর এসব লেখা পড়ে খুব বেশি কিছু না হলেও ছোটভাইদের যে আজও মাঠ কেন্দ্রিক খেরাধুলা করার ইচ্ছে আছে এটা বোঝা যায়, আর এইটা একটা ভালো দিক বলা যায়।
বর্তমান যে সমস্যাগুলো পড়লাম ও জানলাম , তাতে বলতে ইচ্ছে করছে যুগ যুগ ধরেই এর চেয়ে বড় বড় সমস্যা এভাবে তরূণ প্রজন্মের জন্য ধারাবাহিকভাবে চলে আসছে। আর সত্য বলতে আমি ও আমাদের সমবয়সের বন্ধুরাও এসব দেখে ও সমাধান করেই বড় হয়েছি। আমদের সময়ের সমস্যাগুলির থেকেও আমাদের খেলাধুলা করার মনের শক্তির জোড় ছিলো অনেক বেশি শক্তিশালী, আর তাই আমরা সকল বাধা অতিক্রম করে হলেও খেলতে পেড়েছিলাম। যেমন এখনো মনে পড়ে, আমাদের সময় খেলাধুলা বন্ধ করার জন্য খেলার মাঠকে বারংবার লাঙল দিয়ে চাষ করে রাখতো এবং অবশ্য কিছু লাগাতো না প্রথম প্রথম। আমরা সেই চাষ করা জমিকে আবারও পাড়িয়ে পাড়িয়ে মাঠে রুপান্তরীত করতাম। আর এসব দেখে মাঝে মাঝে জমির মালিক বিভিন্ন ফসলেরও চাষ করতে শুরু করে শুধুমাত্র তরুণদের খেলা বন্ধ করার জন্যে। মজার বিষয় হোলো যে জমি চাষের উপযোগী না, সে জমিতে চাষ করলে যে তাদের খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি পড়বে ও এতে তাদের নিজেদেরই টাকার এবং সময়ের ক্ষতি এটা তাড়া দেরিতে হলেও বুঝতে পেড়েছিলো। আর যার ফলে আমরা একটা দীর্ঘ সময়ের জন্যে মাঠ পেয়েছিলাম এবং আমাদের খেলাধুলাও তাই ধারাবাহিক ছিলো।
ঠিক একই রকম সমস্যা কয়দিন পর দেখলাম আমাদের স্কুল ও কলেজের মাঠেও শুরু করলো। সেখানেও আমরা কোনো দুস্চিন্তা না করে সুন্দরভাবে চাষ করে দেয়া জমিকে আবারও মাঠ বানিয়ে নিলাম। সেই সাথে যেখানে যেখানে খোলা জায়গা পড়ে থাকতে দেখতাম সেখানেও ধীরে ধীরে ছোট ছোট মাঠ হতে শুরু হোলো। আমাদের সময়টা এমন ছিলো মাঠে খেলতে না পাড়লে সেটাকে আমরা খেলা মনে করতাম না, আর তাই আমাদের কাছে মাঠ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। ইচ্ছা শক্তি কতোটা প্রবল থাকলে সকল সমস্যাকে আমরা কিছুই মনে করতাম না তা নতুন জেনারেশনের জানা দরকার। এই কথাগুলো বলার কয়েকটা কারণ হোলো- যে মাঠে তারা খেলতে পাড়ছে না, সেই মাঠ ছাড়াও আরও অনেক মাঠ রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন কিছু মাঠে খেলাধুলা না করার কারণে সেই মাঠগুলো বর্তমানে একটু অনুপযোগী হয়ে আছে। কথা হোলো খেলার আগ্রহ যদি সত্যি থাকে তাহলে তাদের খেলার জন্য যথেষ্ঠ মাঠ আছে, কিন্তু তারা সেই মাঠগুলোকে খেলার মতো করে নিতে পাড়বে না । তাদের জন্য একটা সুপারম্যান আসবে আর তাদের মাঠ বানিয়ে দিবে, তারপর তারা খেলবে। বইসা বইসা মুভি দেখতে দেখতে জীবনটারে মুভি ভাবতে শুরু করে দিসে। বাস্তবতা ও বাস্তবিক জীবন কখনো এতো সোজা না এটা তরুণ প্রজন্ম ভুলতে বসেছে। একটা বার ভেবে দেখেছেন আমাদের নতুন জেনারেশন বয়লার মুরগির মতো শরীর ও অলষ মস্তিস্ক নিয়ে তারা বড় হচ্ছে। আমাদের মনে রাখা দেরকার কেউ আমাদের একটা দরজা বন্ধ করলে আল্লাহ আমাদের জন্য অসংখ্য দরজা খুলে দিবেন, তবে সেটা আমাদেরকেই খুঁজে বের করতে হবে।