হঠাৎ যখন বৃষ্টি পড়া শুরু করে,তখন রাস্তাঘাটে একটা সাধারণ বিষয় লক্ষ্য করা যায়।মানুষজন দৌড়াদৌড়ি শুরু করে কোনো আশ্রয়ের খুঁজে যেখানে গেলে সে ভিজবে না।যেহেতো হঠাৎ বৃষ্টি,সুতারাং কোনো পূর্ব প্রস্তুতি থাকে না।মানে কোনো ছাতা থাকে না।তাই কেউ হয়তো কোনো দোকানের সাটারের নিচে,কেউ কারো ঘরের বারান্দায় আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করে।এতোসব লোকের মাঝখানে কিছু মানুষকে দেখা যায়,তারা সংখ্যায় গোটাকয়েক,তারা দৌড়াদৌড়ি করে না,হুড়াহুড়ির মধ্যে নাই।বৃষ্টি পড়ার আগে রাস্তায় তারা যেভাবে হেঁটে যাচ্ছিলো,বৃষ্টি পড়ার পরও সেভাবেই হেঁটে যাচ্ছে।বৃষ্টির পানি থেকে শরীর বা শরীরের কাপড় চোপড় বাঁচানোর কোনো ইচ্ছা তাদের নেই।তারা প্রকৃতির এই আকস্মিক পরিবর্তনে বিচলিত হয় না।তারা কিছুটা আবেগী ধরনের।প্রেকটিকেল বিষয়গুলো তাদের বেশি টানে না।বৃষ্টি পড়লে কাপড় ভিজে যাবে,সেই কাপড় শুকাতে হবে এই ধরনের চিন্তা-ভাবনায় তাদের আসে না।
আমিও কিছুটা ঐ ধরনের।একবার হলো কি,ডাবল টেকার বাসে করে কলেজ থেকে বাসায় ফিরছি।বাস রেললাইনের ঠিক মাঝবরাবর যখন আসলো তখনি সামনের সিগনাল টা ফেলে দিলো।তখন বাস মাঝখানে আটকে পড়লো।ঐদিক দিয়ে ট্রেন হুইসেল দিচ্ছে, কাছে চলে এসেছে।সবাই ভয়ে হুড়াহুড়ি করে বাস থেকে নামা শুরু করলো,কয়েকজন বাস থেকে নামতে গিয়ে নিচে পড়ে গেলো,পড়ে জানতে পেরেছিলাম,একজনের হাতও ভেঙে গিয়েছিলো।ড্রাইভার প্রচুর চেষ্টা করছে সামনে বা পিছনে যাওয়ার জন্য। সব যাত্রী নেমে গেলো,কিন্তু আমি না
মার কোনো প্রয়োজনবোধ করলাম না।নামতে হবে না হলে দূর্ঘটনা ঘটতে পারে এমন কোনো চিন্তা আমার আসলো না।আমার কাছে বরং বিষয়টাকে উত্তেজনাপূর্ন একটা মূহুর্ত বলে মনে হচ্ছিল।আমি বসে বসে মানুষের হুড়োহুড়ি,ড্রাইভারের প্রাণপণ চেষ্টা এগুলো উপভোগ করছিলাম।কিন্তু আমি বাস থেকে নামা দূরে থাক সিট থেকেও উঠি নাই।এরপর অবশ্য বাস দ্রুত লাইন ক্রস করে সামনে চলে যায়,আর কোনো দূর্ঘটনা ঘটে নাই।
কিন্তু আমি আমার এই স্বভাবটা আবিষ্কার করলাম যে বিপদে বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে হুড়োহুড়ি আমার ধারা হয় না।এসব কিছুকে স্বাভাবিক বলে মনে হয়।
কিন্তু এই স্বভাবটা ভালো না।মাঝেমধ্যে বাস্তবিক বিষয়েও চিন্তা করতে হয়। না হলে বিপদে পড়তে হয়....