Sympathy নয় empathy ই সমাজ পাল্টে দিবে।

Words
450
Reading
2 min
Listen
Play
6y

একজন মানুষ রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে, হঠাৎ পা পিছলে পড়ে গেলো।আপনি সেটা দেখলেন। মানুষ হিসেবে আপনার তার প্রতি মায়া লাগবে।আহ্ লোকটা পড়ে গেলো!এবং আপনি চলে গেলেন,, এই বিষয় টাকে বলে sympathy অর্থাৎ সহানুভূতি। কিন্তু আপনি যখন নিজেকে তার জায়গায় রেখে চিন্তা করতেন।তার অবস্থানে নিজেকে দাঁড় করিয়ে দিতেন।

IMG_20200622_163003.JPG

""আরে আমি যদি এভাবে পড়ে যেতাম তাহলে আমার কেমন ব্যাথা লাগতো!" এটা যদি আপনি ভাবতে পারেন, তাহলেই কেবল মাত্র পড়ে যাওয়া লোকটাকে তুলতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিবেন।আর এই বিষয় টাকেই বলা হয় Empathy বা সহমর্মিতা। তখন আর কারো পড়ে যাওয়া দেখে আপনি হেসে উঠবেন না।এমপ্যাথি বা সহমর্মিতার মাধ্যমে সমাজে মিলেমিশে থাকা যায় আর ভালোবাসার সম্পর্ক মজবুত ও চিরস্থায়ী করা যায়।

ডাক্তারের কাছে ব্যাথায় কাথরানো রোগী আসলো,আর ডাক্তার থাকে সামনে বসিয়ে রেখে ফোন নিয়ে বিজি,,
ডাক্তার যদি তাকে রোগীর জায়গায় বসিয়ে তার ব্যাথা অনুভব করতো, তাহলে তাকে অবহেলা করার সুযোগ থাকতো না।

বাসের সিটে আপনি বসে আছেন,এমন সময় এক প্রতিবন্ধী লোক বাসে উঠল এবং সে সিট পাই নি,আপনার মধ্যে যদি এমপ্যাথি থাকে তাহলে আপনি নিজে আপনার সিট ছেড়ে তাকে বসতে দিতেন।

91177d70-6104-11e9-9376-75ef49d867c1_800_420.png

ভালোবাসার সম্পর্কের মধ্যেও এমপ্যাথি অতি প্রয়োজন।
আসলে ভালবাসার সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘সহমর্মিতা’ বলতে কী বোঝায়? প্রথমেই বলে নেয়া ভাল যে, এই ‘সহমর্মিতা’-কে কখনোই ‘সহানুভূতি’ কিংবা ‘সমবেদনার’ সঙ্গে গুলিয়ে ফেলার সুযোগ নেই। আসলে সহমর্মিতা এমন একটি উপলব্ধি যার মাধ্যমে দু’টি মানুষ পরস্পরকে আরও গভীরভাবে অনুভব করতে এবং একে-অন্যকে আরও ভালভাবে বুঝতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।

শুধুমাত্র প্রেমের সম্পর্কই নয় পারিবারিক সম্পর্ক, প্রতিবেশী এমনকি সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে সহমর্মিতার গুরুত্ব অপরিসীম।

এমপ্যাথি একটা পূণ্য

বলা হয়ে থাকে যে, পৃথিবীর প্রত্যেকটা মানুষই যদি পরস্পরের প্রতি সহমর্মী হত তবে পৃথিবী সত্যিই একটা সুন্দর জায়গায় পরিণত হত। কিন্তু যেহেতু পৃথিবীব্যাপী সহমর্মিতা ছড়িয়ে দেয়ার কাজটা একটু দুঃসাধ্যই বটে। তাই ছোট পরিসরে নিজ থেকেই শুরু করা যাক। এই গুণের চর্চা হবে সত্যিকারার্থের এক ‘পুণ্য’।

বিভক্তি নয় চাই সংযুক্তি

কখনও কখনও ঝগড়া থেকে তিক্ততা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, যুগলরা একে-অপরের মুখ পর্যন্ত দেখতে চান না। যেমন- কখন সন্তান নেয়া উচিত এই তর্কে না গিয়ে অনেকেই খাবারের মেনুতে কী থাকছে, এমন ছোটখাট বিষয় নিয়ে তুমুল ঝগড়ায় মেতে ওঠেন। এসব ছোটখাট ব্যাপারে সামান্য একটু ছাড় দিলেই বরং সম্পর্ক মধুর হয়।

পরস্পরকে গুরুত্ব দিন

যখন আপনি আপনার প্রিয়জনের প্রতি সহমর্মি হতে শিখবেন তখনই কেবল আপনি তার হৃদয়কে ভালবাসায় ভরিয়ে তুলতে পারবেন। আপনার ভালবাসার মানুষের পেশাকে নয়, বরং ওই মানুষটিকে গুরুত্ব দিলে তা আপনাদের দু’জনের জীবনকেই আনন্দে ভরিয়ে তুলবে।

ভাল দিকগুলো খোঁজার চেষ্টা করা

যখন আপনি সঙ্গীর প্রতি সহমর্মি হতে শিখবেন তখন আপনি নিজের পাশাপাশি তার মধ্যে থাকা ভাল দিকগুলো খুঁজে বের করতে পারবেন। সঙ্গীর আচরণগুলোকে বোঝার মাধ্যমে আপনি তার নিজস্ব জগতে প্রবেশের আনন্দ পেতে পারেন। যা নিঃন্দেহে উভয়পক্ষের জন্য মঙ্গলময়।

ধৈর্য ধরতে শেখায় সহমর্মিতা

সহমর্মিতার উপলব্ধি উভয়পক্ষকেই ধৈর্য ধরতে শেখায়। এ বিষয়ে কোনোরকম বিতর্কের সুযোগ নেই। মেজাজ হারিয়ে উল্টোপাল্টা না বকে বরং সঙ্গীর বক্তব্যের বিষয়বস্তুকে ঠাণ্ডা মাথায় এবং ভদ্রোচিত উপায়ে বোঝার চেষ্টা করুন।

ধন্যবাদ

Sympathy নয় empathy ই সমাজ পাল্টে দিবে। | Ecency