যখন থেকে আমি "Cable car" শব্দের সাথে পরিচিত তখন থেকে আমার ক্যাবল কার নিয়ে অনেক কৌতূহল। কত বার গুগল সার্চ করে এর নাড়ী নক্ষত্র জেনেছি তার হিসাব রাখা হয়নি।ভিডিও ও দেখেছি বহুবার। তবুও এর প্রতি আকর্ষণ আমার বিন্দু পরিমাণ কমেনি, বরং আরও বেড়েছে।এই ঈদে আগে থেকে পরিকল্পনা সাজিয়ে রেখেছি গ্যান্তিং হাইল্যান্ড যাবো।
গ্যান্তিং হাইল্যান্ড মানে অবশ্যই ক্যাবলকার ভ্রমণ।পরিকল্পনা মতো ঈদের পরের দিন সাড়ে এগারোটা নাগাদ রওনা দিলাম। সরাসরি গ্র্যাব বুকিং। বাস দিয়ে গেলে মানহা কি করবে জানি না,কোনোদিন বাসে ওঠেনি তাই।যেতে এক ঘন্টার মতো সময় লাগবে।ত্রিশ মিনিট অতিক্রম করার পর আমরা পাহাড়ী রাস্তায় প্রবেশ করলাম। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তায় গাড়ি চলছে ঝড়ের গতিতে। আমি ভিডিও করায় ব্যস্ত।
যত সামনে এগুচ্ছে গাড়ির গতি কমতে শুরু করেছে।এবার গাড়ি খাড়া উপরের দিকে ওঠছে।আস্তে আস্তে আমরা মেঘের ভিতর ঢুকে গেলাম। অন্ধকারে গাড়ি এগিয়ে চলছে।কিছুই দেখাযাচ্ছে না।এই অন্ধকারে যেকোনো সময় ঘটতে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।তাও যেতে হবে।পৌঁছাতে হবে গন্তব্যে। তাই অন্ধকারে হাতরে চলছে গাড়ি।অবশেষে আমরা পৌঁছে গেলাম মেঘের রাজ্য গ্যান্তিং এ।
আমরা গ্যান্তিং হাইল্যান্ড রিসোর্টের কাছে নেমে ভিতরে প্রবেশ করলাম।এ এক আশ্চর্য মোহ মায়ার হাত ছানি।আপনার পকেটের টাকা কিভাবে ওদের ক্যাশ বাক্সে নেওয়া যায় এর সব রকম ফন্দি ফিকির ওদের জানা।আমি এটা করতে পছন্দ করি না বলে চলে আসবো, তার ব্যবস্থা এখানে নেই।একটা আপনার পছন্দ না তাতে কি হয়েছে।আরও হাজারটা ব্যবস্থা করা আছে।
এখানকার শব্দ আর লাইটিং আমার মাথার পোকা নাড়িয়ে দিচ্ছিলো। তাই তাড়াতাড়ি করে ক্যাবল কার এ উঠতে চলে গেলাম।ক্যাবল কার স্টেশনে গিয়ে দেখি প্রচন্ড পরিমাণ ঠান্ডা। তাড়াতাড়ি করে মানহাকে গরম কাপড় পড়িয়ে তারপর ক্যাবল কারে উঠলাম। স্টেশনে ক্যাবল কার থামে না একটু স্লো চলে।এই চলন্ত কারে মানহাকে কোলে করে নিয়ে উঠলাম।
প্রথম মেঘের ভিতর দিয়ে ছোটে যাচ্ছিলো। বাইরে কিছু দেখা যাচ্ছিলো না।দুই তিন মিনিট পর আস্তে আস্তে ঝাঁপসা কেটে পরিস্কার হতে শুরু করে।পাহাড়ের ভিতর দিয়ে খাদের উপর দিয়ে আমাদের নিয়ে চলছে ক্যাবল কার।দেখতে দেখতে একটা স্টেশনে চলে আসলাম।সেখানে নেমে ঘুরে দেখে আবার ক্যাবল কারে ওঠে যেখান থেকে ওঠেছি সেখানে চলে যাবো।
আমরা নেমে ঐখানে আড়াই ঘন্টা ঘুরাঘুরি করে খাওয়াদাওয়া করে আবার যখন গেলাম কারে ওঠবো হায় হায় হাজার হাজার লোক।স্টেশন আমাদের থেকে বিশ হাত দূরে। এই বিশ হাত জায়গা লাল ফিতে দিয়ে এমন ভাবে রাস্তা তৈরি করেছে যে দেড় ঘন্টা সময় লেগেছে।
আবার যখন ক্যাবল কারে ওঠলাম তখন বোনদের ফোন দিয়ে দেখাচ্ছিলাম। তখন ক্যাবলকার শুধু উপরের দিকে চলছিলো।আমি তখন খুব ভয় পাচ্ছি। মানহা ঘুমাচ্ছিলো।আমি তখন চোখ বন্ধ করে বসে ছিলাম। অবশেষে আমরা আমাদের গন্তব্য পৌঁছাতে পেরে ছিলাম। এরপর নেমে রিসোর্টের ভিতর ঘুরে সব দেখে সাড়ে সাতটার দিকে বাসার উদ্দেশ্য রওনা দিবো তখন দেখি গাড়িপাওয়া যাচ্চিলো না।দুই ঘন্টা পর গাড়ি পেয়ে তারপর বাসায় আসলাম।
সফর কখনও ক্লান্তিহীন বা কোনো বাঁধা ছাড়া হয় না,তারপরও সফর আনন্দের।প্রকৃতি বা মানব সৃষ্ট আশ্চর্যজনক জিনিসগুলো দেখার মধ্যে লোকায়িত আছে খুশি থাকার ঔষধ।