আমার মনে হয় মানুষ নেতিবাচক অর্থাৎ নেগেটিভ সব কিছু ভালোবাসে।কোন একজনকে যদি জিজ্ঞেস করি আচ্ছা আপনি সুখ পছন্দ করেন নাকি দুঃখ।নির্ঘাত আমাকে পাগল ভেবে বসবে।কেউই দুঃখ পছন্দ করেনা।কেউ দুঃখে থাকতে চায় না।সবাই সুখ চায়, সাচ্ছন্দ্য চায়।হ্যাঁ এটা চাইতেই পারে এ ব্যপারে আমার কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু বাস্তবতা কি বলে।সত্যিই কি আমরা সবাই সুখটাকেই ভালোবাসি?
আপনার প্রিয় জিনিস গুলো আপনি কি করেন?নিশ্চয় যত্ন করে রেখে দেন।ঘরের ফুলদানিতে কেউ পচাঁ ফুল রাখে না, অবশ্যই ভালো ফুল রাখে।কিন্তু আমরা যদি কোন অতীত স্মৃতি মনে করার জন্য চোখ বন্ধ করি ভেসে ওঠে কোন দুঃখের স্মৃতি। হাজার হাজার সুখ স্মৃতি আমরা বেমালুম ভুলে যায়।কিন্তু দুঃখ গুলো মনের কোণে সাজিয়ে রেখে দেই।
হঠাৎ আজ এসব প্যাঁচাল নিয়ে বসার কারণ হচ্ছে ঈদে মুক্তি প্রাপ্ত বাংলা ছায়াছবি।ছোট বেলা প্রচুর বাংলা ছায়াছবি দেখেছি।যদিও ঢাকায় এবং পরবর্তীতে মালয়েশিয়া এসে সেসব সিনেমা আর দেখা হয়না।এখন বলতে বহু বছর বাংলা ছায়াছবি দেখা হয়না।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে এখন সিনেমা না দেখলেও এর নাড়ী নক্ষত্র সবি জানা যায়।শুনলাম ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমার মধ্যে সুরঙ্গ, প্রিয়তমা নাকি ইতিহাস গড়বে।
অন্য গুলোর কথা জানি না।এসব দেখে দেখে সিনেমা দুটি সম্পর্কে আগ্রহ জন্মেছে।তাই ইন্টারনেটের বিভিন্ন মাধ্যমে অল্প অল্প দেখলাম। সুরঙ্গের মেইন থিম আমাদের কিশোরগঞ্জের সুরঙ্গ কেটে ব্যাংক ডাকাতি হলেও এর প্রধান আকর্ষণ হলো দুঃখ কষ্ট।যেকারণে দর্শক পুরো সিনেমা বিমোহিত হয়ে দেখে।এটা দর্শকদের মাথায় গেঁথে দেওয়ার শেষ চালটা হচ্ছে টাকা সহ নায়িকাকে পুড়িয়ে দেওয়া।
যদি সিনেমাটা এটা না হয়ে সাধারণ ভাবে হতো টাকা সহ পুলিশ গ্রেপ্তার করতো। এরপর জেলকেটে এসে ভালোভাবে জীবন যাপন শুরু করতো।তাহলে দর্শক হল থেকে বের হওয়ার আগেই ভুলে যেতো।এছাড়াও আমরা যদি বিখ্যাত সিনেমা টাইটানিকের কথা ভাবি প্রথমে কি মনে পড়ে নায়কের মৃত্যু। এখানে সব মানুষ মরে গেলেও নায়ক যদি বেঁচে যেতো তাহলে যুগযুগ ধরে মানুষের মনের কোণে গেঁথে থাকতে পারতো না।
এরপর আসা যাক প্রিয়তমার কথায়।খুব স্বাভাবিক একটা গল্প। যেমন সিনেমার কাহিনি হয় মানে বাংলা সিনেমায়।এরপরও কেনো আলোচনা। এরপরও কেনো বক্সঅফিসে হিট।এখানেও কারণ একটা,শেষে নায়িকার মরে যাওয়াটা।ও হ্যাঁ কাহিনিটা ছিলো এমন।বাংলা সিনেমায় যেভাবে নায়ক নায়িকার পরিচয়,প্রেম,নাচগান সব একি।এরপর নায়িকা মাথায় আঘাত পায়। তার থেকে বড় ধরনের সমস্যা হয়। ডাক্তার বলে দেয় সে বাঁচবে না।
নায়িকা এটা নায়ককে না বলে নায়ককে বুঝায় সে অন্য জায়গায় বিয়ে করার জন্য তাকে ছেড়ে দিচ্ছে। মানে সে নায়ককে ভালোবাসে না।নায়ক তাতে ক্রিপ্ত হয়ে শোকে দুঃখে বিয়ে করতে যায়।তখনি জানতে পারে নায়িয়া তাকে মিথ্যা বলেছে। এরপর বিয়ে না করে চলে আসে।শেষ দৃশ্যে দেখানো হয়েছে নায়িকার কবরের পাশের একটা ঘর থেকে বের হয়ে গাছের গুঁড়িতে বসে আছে বৃদ্ধ নায়ক। মানে এভাবেই কেটে গেছে তার জীবন।
এখন যদি এটা না হয়ে নায়িকা ভালো হয়ে যেতো। এরপর তারা বিয়ে করে সুখে শান্তিতে জীবন যাপন করতো। তাহলে দর্শক মনেও রাখতো না। ইতিহাসও হতো না।যদিও আমার কাছে ইতিহাস গড়ার মতো কাহিনি মনে হয়নি।তাও লোকে লিখালিখি করছে তাই আমিও বললাম।
এবার আমার নিজের কথা বলি।ছোট বেলা থেকে আমি বাংলা সিনেমার ভক্ত ছিলাম। এখন প্রায় দশ এগারো বছর দেখি না।এর আগের প্রায় সব সিনেমা দেখেছি তাও একাধিক বার।কিন্তু জীবনে এতো সিনেমা দেখলাম ভাবতে গেলে প্রেমের সমাধির কথা আগে মনেপড়ে।আর একটা সিনেমা ছিলো মরনের পরে।সেটা মনে পড়ে।এইরকম শেষে যে সিনেমায় যত কষ্ট পেয়েছি সে সিনেমা তত আগে চোখে ভাসে। তাই আমার মনে হয় আমরা দুঃখ গুলো যত্ন করে মনের কোণে সাজিয়ে রাখি।এটাই প্রকৃতির নিয়ম।আমরা সবাই দুঃখ প্রেমী।