মনি টেবিলের এক কোণে বসে আছে। কিন্তু খুব স্বাভাবিক। তাকে দেখে মনে হচ্ছে না সে কোনো রকম কষ্ট পাচ্ছে। তাই আমি মনে মনে কষ্ট পাচ্ছি। তার মানে মনি কি আমাকে ভালোবাসেনি কখনো, নাকি আমাদের সম্পর্কের কোনো মূল্যই নেই মনির কাছে। এসব ভেবে আমি যখন উতালপাতাল তখনি মনি আমার দিকে তাকিয়ে হেসে, হাতে একটা তুরি মেরে বললো আইডিয়া।
আমি বিষন্ন দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে বললাম কি আইডিয়া?কিছু না বলে আমাকে হাত ধরে টেনে নিয়ে চললো। আমি জিজ্ঞেস করলাম কোথায় যাচ্ছো? সিরিয়াস কথা রেস্তোরাঁয় বসে হয় না।পার্কে চলো হিসাব করতে হবে।বোটানিকেল গার্ডেনের সামনে রেস্তোরাঁয় বসে দুইজন কথা বলছিলাম। দুইজন গার্ডেনে ঢুকে একটা ফাঁকা জায়গা দেখে বসলাম।
মনি খাতা কলম বের করে খাতায় ছক করে একপাশে আয় অন্য পাশে ব্যায় লিখলো।লিখে আমার দিকে তাকিয়ে বলতে শুরু করলো তুমি টিউশনি করো চারটা। বেতন পাও তেইশ হাজার টাকা।আমি টিউশনি করি তিনটা বেতন পাই আঠারো হাজার। মোট একচল্লিশ হাজার টাকা।এখন আমরা বড় বাসা নিয়ে পারবো না সাবলেট নিলে সাত হাজারে হয়ে যাবে।আচ্ছা ঘর ভাড়া বাবদ দশ হাজার,দুইজনের খাওয়া দাওয়া বাবদ বারো হাজার,আরও একুশ হাজার। বাকী খরচ একুশ হাজারে হয়ে যাবে।
চলবে না দৌড়াবে।ও কথার মধ্যে আমার হ্যাঁ, না ছাড়া কোনো কথা ছিলো না বা বলার সুযোগও ছিলো না।আবার বলা শুরু করলো, তোমার কাছে কত টাকা আছে? ওয়ালেট বের করে বলবো তখনি বলে উঠলো আরে এ টাকার কথা বলিনি।বলেছি তোমার একাউন্টে কত টাকা আছে?আমি বললাম মাত্র বায়ান্ন হাজার টাকা আছে। আরে মাত্র বলো কেনো এতো অনেক টাকা। আমার কাছে আরও এক লাখ পনেরোর মতো আছে। আমাদের আর কে আটকায়।মোট এক লাখ সাতষট্টি হাজার। এ টাকা দিয়ে ঘরের জিনিস পত্র কিনা হয়ে যাবে।
আবার, চলো বলে হাত ধরে টেনে নিয়ে চললো।আবার জিজ্ঞেস করলাম এখন কোথায় যাচ্ছো? মনি বলে তোমার আমার সম্পর্কের কথা জানে এমন দুই তিনজন ফ্রেন্ডকে ফোন দাও। আরে তুমি কি করতে চাচ্ছো সেটা বলো। মনি রেগে গিয়ে বললো সব বলে দিলে সারপ্রাইজ আর কি থাকবে। ফোন দিয়ে ওদের আসতে বলো বট গাছের ঐখানে। আমিও বন্ধুদের ফোন দিয়ে আসতে বললাম। সামনে এটিএম বুথ ছিলো মনি সেখান থেকে বিশ হাজার টাকা ওঠিয়ে আমাকে নিয়ে বট গাছের দিকে যাচ্ছে। আমরা বট গাছের এখানে পৌঁছে দেখি আমার বন্ধুরা আগে পৌঁছে গেছে।মনি আমার এক বন্ধুকে ঢেকে রিক্সা আনতে বললো।কিন্তু কোথায় যাবে সেটা এতো আস্তে বললো আমি শুনতে পাইনি।
আমি বুঝতে পারছিলাম না মনি কি পাগলামি করবে।তবুও কিছু না বলে ওর সাথে রিকশায় ওঠে বসলাম। রিক্সায় বসে আস্তে করে বললাম মনি আমার কাছে বললে কি সমস্যা। বলো না কোথায় যাচ্ছি ? আর পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করো এরপর দুধকা দুধ পানিকা পানি, বলে উচ্চস্বরে হেসে উঠলো। আমি কিছু ভেবে ওঠার আগেই আমাদের বন্ধুদের রিকশা থেমে গেলো। সাথে সাথে আমাদের রিকশা থেকে নেমে পাশে তাকিয়ে দেখি কাজী অফিস। মনির দুই বান্ধবী দাঁড়িয়ে আছে ফুলের মালা হাতে।
বুঝে গেলাম মনি কেনো এসেছে। এখন আমি কি করবো।আমি মা-বাবার একমাত্র সন্তান। এদিকে মনিকে আমি ভালোবাসি। ওকে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করবো ভাবতেও পারি না।এদিকে আমার পরিবার মনিকে মানবে না।ওরা আমার খালাতো বোনকে বিয়ে করতে বলে।এটাই বলতে এসেছিলাম মনিকে।মনির মা-বাবাও মানবে না আমাদের সম্পর্ক।এসব ভেবে মনির হাত ধরে কাজী অফিসে ঢুকলাম।এইমাত্র আমাদের বিয়ে সম্পন্ন হলো।আমি জানি এতে আমার মা-বাবা,মনির মা-বাবা সবাই কষ্ট পাবে।প্রথম প্রথম মানবেও না।তিন মাস ছয় মাস পরে সব ঠিক হয়ে যাবে।কিন্তু আজ যদি মনিকে ফিরিয়ে দেই সে আমার জীবন থেকে সারা জীবনের জন্য হারিয়ে যাবে।
মনি কে ছাড়া হয়তো আমি মরে যাবো না কিন্তু সারাজীবন একটা কষ্ট বয়ে বেড়াতে হবে।যেটা আমার জীবন থেকে শান্তি কেড়ে নেবে।আমি সবাইকে নিয়ে শাম্তিতে বাঁচতে চাই।কিছু দিনের ত্যাগে যদি সারাজীবন ভালো থাকতে পারি তাহলে মন্দ কি।