আজ সুদীপার বৌভাত।বাড়ি ভর্তি মেহমান। ওকে সাজিয়ে আসনে বসিয়ে দিয়েছে।সুদীপার চোখ গেইট থেকে সরে না,এই বুঝি বাড়ি থেকে কেউ আসলো।সে জানে কেউ আসবে না।কিন্তু মন যে মানে না।সুদীপা আর সুদীপ্তা দুই বোন। সুদীপা ছোট।ওদের বাবা সরকারি চাকরিজীবী। জমিজমাও আছে।সমাজেও ভালো অবস্থান।
ওদের বাড়ি আর মামা বাড়ি কাছাকাছি। মামারা বেশবড়লোক। বড়মামার দুই ছেলে। বড় ছেলে সোহম।ও এইচএসসি পরীক্ষার পর উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশে চলে যায়।তখন সুদীপা ক্লাস সেভেনে পড়ে। সুদীপ্তা ক্লাস নাইনে পড়ে।দুইবোন প্রতিদিন বিকেলে মামার বাড়ি চলে যায় সেই ছোটবেলা থেকে।সোহম ছোট বেলা থেকে সুদীপাকে পছন্দ করে। এরপর বিদেশ চলে যাওয়ায় আর কথা হয়নি এসব বিষয়ে কোনো দিন।
এসএসসি পরীক্ষার পর সুদীপা মামা বাড়িতে কিছুদিন থাকে। এর কারণ ছিলো সুদীপ্তার এইচএসসি পরীক্ষা। দুই বোন আড্ডা দেয়।মা তাই সুদীপাকে মামা বাড়ি থাকতে দিয়েছে। একদিন ওর বড়মামা বাড়িতে নেই তাই সে বড়মামীর সাথে ঘুমিয়েছে।মামী বাহিরে ছিলো তখন সোহম মাকে ফোন করে।সুদীপা নাম দেখে ফোন ধরে।
''সোহম ভাইয়া কেমন আছো।আমি সুদীপা। মামী বাইরে। ডেকে দেবো?"একটানা বলে থামলো।এবার ওপাশ থেকে সোহম বলতে শুরু করলো,
"আরে সুদীপা তুমি?কেমন আছো?অনেক দিন তোমার সাথে কথা বলতে চাই। কিন্তু তোমাকে পাই না"।
আজ আমি ফোন ধরেছি বলে এ কথা বলছো।কই আমাদের বাড়িতে ফোন দিলেওতো আমাকে কোনোদিন চাওনি।ঠিক আছে আমি মামীকে ডেকে দিচ্ছি। সুদীপা একথা বলতেই সোহম বলে ওঠলো পরে ডাকবি। এখন আমার কথা শুনো।কেনো আমি তোমার বাড়িতে ফোন দিলেও, কোনোদিন তোমাকে ফোন দিতে বলিনি এ জবাব আমি তোমাকে দেবো।কিন্তু এখন না।
তোমার ফোন আছে?
আরে না আমার ফোন থাকবে কেনো।
তাহলে তোমার কোনো বান্ধবীর নাম্বার থেকে আমাকে মিস কল দিবা আমি ফোন দিবো।আমার নাম্বার টা নিয়ে যেয়ো।গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে। সুদীপা বলে, আমি ফোন ধরেছি বলে তোমার আমার সাথে কথা বলার কথা মনে পড়েছে।
সোহম আবার বলতে লাগলো বলছিতো সে জবাব আমি দেবো।তবে তুমি ফোন করলে।যেকোন নাম্বার থেকে দুইটা মিসকল দিবা।আমি বুঝে নেবো তুমি। বলো দিবা, আম্মা চলে আসলে আর কথা হবে না।আচ্ছা দেবো বলার সাথে সাথে বড়মামী বলে উঠলো সুদীপা কে ফোন করেছে? মামী সোহম ভাইয়া।মামী দৌড়ে এসো ফোন নিয়ে কথা বলতে শুরু করলো।এরপর অনেক দিন কেটে গেলো সুদীপা আর ফোন দেয়নি।কিন্তু নাম্বারটা সে মুখস্থ করে নিয়েছিলো।এরপর রেজাল্ট দিলো। সুদীপা কলেজে ভর্তি হলো।ওর বান্ধবী মোবাইল নিয়ে আসে।
একদিন ওর মনে হলো সোহম ওকে ফোন দিতে বলেছিলো তাই বান্ধবীর মোবাইল থেকে দুইটা মিসকল দিলো।সোহম সাথে সাথে কল ব্যাক করলো।সুদীপা তুই এতোদিন পর আমাকে ফোন দিলি।আমি প্রতিদিন অপেক্ষায় ছিলাম তুই ফোন দিবি।আচ্ছা এখন আমার কথা শুন আমি তোর সাথে কথা বলতে চাই এটা কেউ আগে থেকে জানুক সেটা আমি চাইনি। তাই কোনদিন কারও কাছে বলিনি তোর সাথে কথা বলতে চাই।
এবার বলবি কেনো চাওনি। সেটাও বলে দিচ্ছি কারণ আমি তোকে ছোট থেকে পছন্দ করি। এ বেপানে কোনো জল ঘোলা হোক আমি চাইনি।আমি বাড়িতে এসে তোকে বিয়ে করে নিয়ে, আমেরিকায় আবার চলে আসবো।এবার সে থামলো।সুদীপা এবার বললো আচ্ছা সোহম ভাইয়া এটা আমি না হয়ে অন্যকেউ হতে পারতো। তাই না?তুমিতো সব বলে দিলে।
সোহম বললো, না পারতো না। আমি জানি এটা তুই।তোর বান্ধবীর নাম্বারে বিকাশ আছে। সুদীপা জিজ্ঞেস করলো বিকাশ দিয়ে কি হবে।সোহম আবার বললো আছে কি না বল? আমি জানিনা।জিজ্ঞেস কর।সুদীপা জিজ্ঞেস করে বললো আছে।তাহলে আমি আজ ঐ নাম্বারে টাকা পাঠাবো।সেই টাকায় মোবাইল কিনবি।কেউ যেনো না জানে।শুধু আমার সাথে কথা বলবি।সুদীপাকে কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে কেটে দিলো।দশ মিনিট পর আবার ফোন, ত্রিশ হাজার টাকা পাঠিয়েছি দেখো।
সুদীপা মানে কি বলার সাথে সাথে সোহম বলে উঠলো মোবাইল কিনে ফোন দিবি তখন কথা হবে।বলে কেটে দিলো।এক সপ্তাহ পর সুদীপা বান্ধবীকে নিয়ে গিয়ে একটা ফোন কিনলো।
এরপর শুরু হলো এদের প্রেম। সুদীপার মোবাইল আছে এটা ওর বান্ধবী ছাড়া কেউ জানে না।তাই ওদের প্রেমের ব্যাপারে কারও সন্দেহও হয় না।এর দেড়বছর পর সোহম বাড়িতে এসে বিয়ে করবে।বাড়ি আসবে শুনে সোহমের বিয়ে ঠিক করে। কিন্তু সোহম তা জানে না।তাও সুদীপ্তার সাথে। সুদীপা তাড়াতাড়ি সোহমকে জানালো।সোহম বাড়িতে বলতে চাইলো কিন্তু কেউ এসব কথা শুনতে চায় না।শুধু ওকে বুঝায় সুদীপ্তা খুব ভালো মেয়ে সে সুখী হবে।
সোহম এসে ফুফুর বাড়িতে যায়।সেখানে সবাই তাকে সুদীপ্তার জামাই বলে মেনে নিয়েছে। খাওয়া দাওয়ার পর সুদীপাকে একা পেলো। দুইদিন পর বিয়ে। সুদীপা বলে আমি ভুলে গেছি তুমিও ভুলে যাও। আপুকে নিয়ে সুখে থাকো।তখনি সোহম একটা বিষের শিশি বের করে।আজ রাত দুইটায় আমি রাস্তার পাশে অপেক্ষা করবো।আমার বন্ধু বিয়ের সব আয়োজন করে রাখবে।তুমি আসলে বিয়ে হবে নইলে আমার মরণ।এখন এছাড়া কোনো উপায় নেই।আমি সুদীপ্তাকে বিয়ে করতে পারবো না।সুদীপাকে কথা বলার কোনো সুযোগ দেয়নি।
পরের দিন রাত দুইটায় সুদীপা বাধ্য হয়ে বিয়ে করতে যায়।যদিও সে সোহমকে ভালোবাসে তাও বোনকে কাঁদাতে চায়নি সে,কিন্তু তার কিছু করার ছিলো না।বিয়ের পরের দিন প্রথম নিজের বাড়িতে নিয়ে আসে সোহম।সোহমদের বাড়ির লোক মেনে নিলেও সুদীপার বাড়ির লোক সুদীপাকে ত্যাজ্য ঘোষনা দিয়েছে। তাই বৌভাতে কেউ আসবেনা এটাই স্বাভাবিক। তাও সুদীপা গেইট পানে চেয়ে আছে।একদিন হয়তো সব ঠিক হবে তবে আজ সুদীপার নিজেকে খুব একা লাগছে,খুব কান্না পাচ্ছে।