বিয়ে যুগযুগ ধরে চলে আসা একটা সামাজিক রীতি। আজ আমার এ লেখা বিয়ের পক্ষে বা বিপক্ষে নয়।বর্তমান সমাজে প্রচলিত বিয়ে দুই ধরনের। ভালোবেসে বিয়ে, আয়োজন করে বিয়ে।বিয়ে তা যেভাবেই হোক বিয়ের পরের জীবনটা সম্পূর্ণ নতুন। একজনের সাথে আপনার দশ বছরের সম্পর্ক এরপর বিয়ে।
এবার বলতে পারেন ভালোবেসে বিয়ে করলে বিয়ের পরের জীবন কিভাবে নতুন হয়।ওরাতো নিজদের বুঝে।না যতই চেনেন আর জানেন না কেনো একছাদের নিচেতো থাকা হয়নি কখনও।একটা কথা প্রচলিত আছে যে ''একজনের বুকে যুগের পর যুগ শুয়ে থাকলেও তার বুকের ভিতরের কথা জানা সম্ভব না''।একছাদের নিচে থাকা আর দুই জায়গায় থেকে প্রেম করার মধ্যে অনেক পার্থক্য। তাই বিয়ের পরের জীবন নতুনভাবে শুরু হয়।সেটাকে স্বর্গ কিংবা নরক ভেবে প্রবেশ করার কোনো মানে হয় না।
এটাকে জীবন ভেবে ঢুকায় স্বভাবিক যেখানে যেকোনো কিছু ঘটতে পারে।সম্পূর্ণ আলাদা দুইজন মানুষ দুই পরিবেশে বড়ো হয়ে আজ এক ছাদের নিচের বাসিন্দা। তাদের মতের পার্থক্য থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিছুটা মেনে কিছুটা মানিয়ে চললে ধীরে ধীরে মতো বিরোধ মিটে যাবে। যত সময় যাবে তাদের ভিতরের বোঝাপড়া বাড়বে। একজন আরেক জনের পরিপূরক হয়ে উঠবে।
কিন্তু এই মেনে নেওয়া মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টা একার পক্ষে সম্ভব না।একজন দিনের পর দিন সব কিছু মেনে নিয়ে মানিয়ে থাকতে চেষ্টা করলেন কিন্তু অপর জন লোভ,স্বেচ্ছাচারিতা,দয়িত্ব এরিয়ে যাওয়া সহ্য করে সম্পর্ক ভালো করার চেষ্টা করতেই পারেন কিন্তু কতোদিন।বিবাহিত জীবন সব সময়ের সুখের হবে এমন নয়।
কারো কারো সাথে কেউ মানিয়ে নিতে পারেনা।কারণ কিছু মানুষ আছে তারা হিউম্যান বিং হলেও আচার আচরণ বন্য।বন্যকে সবাই পোষ মানাতে পারেনা।যাদের জীবনে এমন বন্য জোটে যায় তাদের মা-বাবার বক্তব্য থাকে অনেকটা এমন "বিয়ে হয়ে গেছে এখন কোনো রকমে জীবন পার করতে হবে।নইলে সমাজে মুখ দেখানো যাবেনা"।সেটা যদি নরক হয় তবুও সেখানেই থাকতে হবে।
কারণ তাদের মনে ধারণা থাকে সেখানে খারাপ কিছু হতেই পারে না সব দোষ তার মেয়ের।তাকে বুঝানো হয় জীবন কয় দিনের।একটু কষ্ট হলেও মানিয়ে নিবি।নইলে মান সম্মান থাকবে না।সে এই ভয়ে জ্বলে পুড়ে কয়লা হয় কিন্তু প্রতিবাদ করতে কিংবা ফিরে যাওয়ার কথা চিন্তাও করে না।জ্বলে কয়লা হতে থাকে বছরের পর বছর ধরে। এই কয়লা কোনো দিন হীরায় পরিবর্তিত হয় না।বরং ক্ষয়ে ক্ষয়ে একদিন বিলীন হয়ে যায়।
বিয়ের মধ্যমে যে পবিত্র সম্পর্ক সৃষ্টি হয়, সেটা ভেঙে দেওয়ার জন্য নয়।অনেকে আছে উনিশ থেকে বিশ হলে সম্পর্ক ভেঙে দেয়।এটা আমি সমর্থন করিনা।একটু মানিয়ে নিয়ে মেনে নিয়ে একটা সুন্দর সংসার গড়া উচিত। কিন্তু এই মানিয়ে নেওয়া মেনে নেওয়ার একটা সীমা থাকে। ততক্ষণ মেনে নেওয়া উচিত যতটুকু মেনে নিলে নিজের বাঁচার শক্তি ধ্বংস হয়ে না যায়।ততটুকু মানা যায় যতটুকু মানলে নিজের জীবনের সরল পথ বেঁকে না যায়।
বিয়ে হয়ে গেছে সে বিয়ে ভেঙে গেলে সমাজ বাঁকা চোখে তাকাবে,মা বাবার সম্মান নষ্ট হবে তাই প্রয়োজনে সহ্য করতে না পেরে নিজের গলায় দড়ি দিয়ে লাশ হয়ে বের হতে হবে এটা কেমন বিধান। এ কোন সম্মান আমি বুঝি না যা জীবনের থেকেও বেশি দামী।
আমাদের পাশের ফ্লাটের ভাবীকে প্রতিদিন কাঁদতে দেখি।আসলে আমাদের জানালা দিয়ে ওনার বেড রুম সরাসরি দেখা যায় তাই আমি দেখতে পাই,আর যেহেতু আমি নিজেও মেয়ে মানুষ তাই একটু বুঝার চেষ্টা করছিলাম।বেচারী মহিলা যদি জানতো তাহলে হয়তো জানালা বা পর্দা কোনোটাই খুলে রাখতো না।
যাইহোক প্রতিদিন দেখি,নজরে পড়ে যায় তাই গতকাল ওনার সাথে দেখা হওয়ায় সরাসরি জিজ্ঞেস করলাম ''ভাবি ভাইয়া প্রতিদিন এমন কেনো করে। আসলে ভাবি আমাদের রুম থেকে দেখা যায় তো তাই। লজ্জা পাবেন না আমার খারাপ লাগে তাই জিজ্ঞেস করলাম"।
আপনি একা একা কতো সহ্য করবেন। বাড়িতে বলেন না।আমি এগুলো বলার পর তিনি নিজেকে আর সামলাতে পারেন নি।কেঁদে উঠলেন হঠাৎ করে। বলতে শুরু করলেন বোনরে মেয়ে মানুষের কপাল সইতে হবেই।বাড়িতে বললে সবাই শুনে আর বলে ছেলে মানুষ একটু এমন হয়। ঠিক হয়ে যাবে। একটু সহ্য কর মা।যে সহে সে রহে। তাই সয়ে যাচ্ছি।
যেদিন আর পারবো না সেদিন ফ্যানের সাথে ঝুলে যাবো।ওনার কথা শুনে আমার চোখে জল এসে গেলো।আমার মনে হয় সব কিছু সীমার মধ্যে থাকা উচিত। এতটুকু মানা উচিত যতটুকু মানা যায়। অতিরিক্ত কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।আর অতিরিক্ত কোনো কিছু মেনে নেওয়াও উচিত নয়।তখন আর কারো কাছে নিজের দাম থাকে না।তাই যা ব্যবস্থা নেওয়ার সময় থাকতেই নেওয়া উচিত।