লেখকদের কাছে চাঁদের চেয়ে রোমান্টিক কিছু হয় না।"চাঁদনি পসর রাত" কথাটা আমি শিখেছি আমার প্রিয় লেখক হুমায়ুন আহমেদ এর গল্প, উপন্যাস পড়ে।আমার প্রিয় বলতে ওনার লিখা আমার ভালো লাগে এইটুকু। ওনার লিখা পড়তেই হবে কিংবা এসব সংগ্রহের জন্য পাগলামি এসব কিছু না।যাইহোক চাঁদ কতটা রোমান্টিক কিংবা আদৌ রোমান্টিক কিনা এসব ব্যপারে আমার কোন জ্ঞান নেই।
আর এসব দ্বন্ধে আমি যাবোও না।কিন্তু চাঁদের একটা আকর্ষণ ক্ষমতা আছে। চাঁদ মানুষকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে।ছোটবেলায় কতো চাঁদের পিছনে ঘুরেছি তা গুণে রাখা সম্ভব নয়।ভাবতাম চাঁদ আমার সাথে চলে। এই নিয়ে সহপাঠীদের সাথে কম ঝামেলা হয়নি।সবার দাবী চাঁদ তার নিজের সাথে চলে।চাঁদের দিকে তাকিয়ে হাঁটলে মনে হয় চাঁদও হাঁটছে কিন্তু কেনো?
আমি শুধু ছোট বেলার কথা বলছি না। আমার এখনো এটাই মনে হয়।যখন স্কুলে পড়ি কোনো এক ক্লাসে স্যার পড়ালেন চাঁদের নিজের আলো নেই সে সূর্য থেকে আলো পায়।এরপর দিন আমি দুপুর বেলায় হাঁটতে হাঁটতে দেখি চাঁদ দেখা যাচ্ছে। আমি ভাবলাম আহা চাঁদ বুঝি সূর্যের কাছে আলো চাইতে এসেছে। একটু পর পর দেখি চলে গেছে নাকি আছে।দেরী হচ্ছে দেখে আমি কষ্ট পাচ্ছিলাম।আমি ভাবছিলাম সূর্য মনে হয় দিচ্ছে না তাই এতোক্ষণ যাবৎ অপেক্ষা করছে। আহা আল্লাহ কেনো তাকে আলো না দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। এখন তার কি কষ্ট।
আবার বলছিলাম আলো দিচ্ছে না, দাঁড়িয়ে থাকার কি দরকার। চলে গেলেই পারে।একদিন রাতে আলো না দিলে কি হবে।এতো টেঁকা কিসের। যখন রাতে চাঁদ ওঠে না তখন তো ঘোর অন্ধকার।তখন কি আমরা চাঁদের আলো ছাড়া থাকি না।
আজ আকাশে চাঁদ ঝলমল করে জ্বলছে। সেটা দেখে একথা গুলো মনে পড়ে গেলো। আসলে চাঁদ দেখা হয়না অনেক দিন। রাতের বেলা খোলা আকাশের দিকে তাকানো হয়না কিংবা তাকালেও মিল মতো পড়ে না তাই আর চাঁদ দেখা হয় না।আমার বেড রুমে খাট মাঝখানে রাখা। জানালা একটু দূর। গত সপ্তাহ খাটের পজিশন পরিবর্তন করে খাট জানালার পাশে নিয়ে আসলাম।
আমি একটু নিশাচর প্রাণী অনেক রাত পর্যন্ত জেগে থাকি এটা আমার অভ্যাস বলা যায়।মানহা আর তার বাবা ঘুমিয়ে গেলে ওরা দুইপাশে শুয়ে থাকে আমি মাঝখানে খাটের মাথায় গা হেলান দিয়ে বসে মোবাইল ঘাটাঘাটি করি।আজও তাই করছিলাম। হঠাৎ মানহার মুখের দিকে চোখ পড়লো।ওর মুখে গলায় চাঁদের আলো পড়ছে। সাথে সাথে ওপরের দিকে তাকালাম। আহা কি সুন্দর চাঁদ।আজ চাঁদটা এতোটা বেশি উজ্জ্বল যেন সূর্যরে মতো রশ্মি বের হচ্ছে।
প্রথমেই বললাম চাঁদ রোমান্টিক কিনা আমার জানা নেই,তবে চাঁদের আকর্ষণ ক্ষমতা আছে সে মানুষকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে।তাতে মানুষ আকৃষ্ট হয়ে সব ভুলে ঘন্টার পর ঘন্টা চাঁদের দিকে তাকিয়ে থাকতে পারে।আমি কখন আকৃষ্ট হয়ে গেলাম আমি জানি না। মোবাইল রেখে খাট থেকে নেমে গিয়ে জানলা ধরে দাঁড়ালাম।
চাঁদের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। কখন সেই শৈশবে পৌঁছে গেলাম বুঝতে পারিনি।শৈশব পেরিয়ে আবার কখন ঢাকায় কাটানো সেই জীবনে ফিরে গেলাম খেয়ালই করেনি। কত মধুর ছিলো সেই দিন গুলো। আহা তিন ভাইবোনের মিষ্টি একটা সংসার।
তার মধ্যে সবচেয়ে মজার ছিলো রোজার দিনগুলো।আমি আর শাওন যেদিন রোজা রাখতাম দুপুর থেকে ইফতারে কি বানাবো। যতবেশিই আইটেম হোক না কেনো মনে হতো আরও লাগবে। এরপর ইফতারে পানি খেয়ে সামান্য কিছু খেয়ে আর খাবো না।তখন ছোটো খুব বকা দিতো।
আর শুক্রবার গুলো ছিলো স্পেশাল।প্রতিশুক্রবারে দুপুরে স্পেশাল ডিশ।তিন ভাইবোন একসাথে বসে খাবো।ফল সব সময় কিনা হতোনা। যেদিন ফল থাকতো সেদিন আমার আর শাওনের ডায়ালগ হতো,"খাবার পর ফল না হলে আমার চলেই না"।
এতসব ভাবতে ভাবতে কখন রাত তিনটা বেজে গেলো।প্রতিদিন আমি পরে ঘুমালেও মানহা আর মানহার বাবা জানে আমি পাশে আছি।কিন্তু আজ দীর্ঘ সময় না থাকায় মানহা ডেকে উঠলো 'তুমি কোথায় গেছো'।ওর ডাকে আমার আনমনা অবচেতন মন ফিরে এলো বর্তমানে।