বিভিন্ন ভিডিওতে প্রায়ই দেখি মুক্তো কুড়াতে।এগুলো কি সত্যি নাকি আমার জানা নেই। সেখানে দেখা যায় পুকুর থেকে ঝিনুক উঠিয়ে সেটার ভিতর থেকে রং বেরঙের মুক্তো সংগ্রহ করে।মুক্তো গুলো অনেক সুন্দরও হয়।সবুজ, লাল,নীল বিভিন্ন রঙের মুক্তো থেকে রশ্মি বের হয়।এমনিতে ছোটবেলা থেকে আমার মুক্তার প্রতি আকর্ষণ। এগুলো দেখে আরও আকর্ষিত হই।
ছোট বেলায় আমাদের পুকুরে প্রচুর ঝিনুক ছিলো। আবার আমাদের বাড়ির পাশের যে ঈদগা মাঠ তারও একটা বিশাল পুকুর আছে। সেটায়ও প্রচুর ঝিনুক ছিলো। আম্মা হাঁস পালন করতেন বিশটা পঁচিশটা করে।তাদের খাবার ছিলো শামুক ঝিনুক। আমি সেগুলো কুড়িয়ে নিয়ে আসতাম।যখন মাঠে পানি থাকে তখন প্রচুর শামুক থাকে কিন্তু পানি না থাকলে শামুক জমির আইলের ভিতরে চলে যায়।দাঁ দিয়ে আঁচড়িয়ে বের করতে হয়।একটু কষ্ট হয়। তাই ঈদগাহ মাঠের পুকুর থেকে ঝিনুক কুড়িয়ে নিয়ে আসতাম।আমার ঝিনুক কুড়ানোর দুইটা উদ্দেশ্য থাকতো হাসকে খাওয়াবো আর মুক্তা খুঁজবো।কিন্তু একদিনও মুক্তা পায়নি।এখন মুক্তা কুড়ানো দেখে একা একা হাসতে থাকি। কি বোকা আমি, মুক্তা কোথায় থাকে তা জানতাম না, আবার মুক্তা খুঁজি। মুক্তা থাকে মাংসল অংশের ভিতর।
আমি মাংসল অংশটা তুলে হাঁসকে দিয়ে দিতাম। মাংসল অংশের ভিতরে মুক্তা থাকে তাতো আর জানতাম না।আমি ভাবতাম মাংসল অংশের নিচে ঝিনুকের সাথে লেগে থাকবে।না এটা আমাকে কেউ বলে দেয়নি। আমি আবার একটু মাতাব্বর ধরনের মানুষ। নিজে নিজে অনেক কিছু ধরে নেই। এটাও এ রকমি একটা ব্যপার।এমনকি আমি যে ঝিনুকে মুক্তা খুঁজে বেড়াতাম আজকের আগে এটা কেউ জানেনি।কারণ আমি এটা কারও সাথে বলিনি।
কিন্তু এ নিয়ে আমার মনে খুব দুঃখ ছিলো। কারণ ঝিনুকে মুক্তা থাকে অথচ আমি কোনো দিন একটাও পেলাম না।অবশ্যই এই দুঃখটা আমার এখন ঘুচে গেছে তাই আজ এটা শেয়ার করলাম।ঝিনুকে মুক্তা থাকলেও আমি পেতে পারতাম না।কারণ আমারতো গোড়ায় গলদ।যাইহোক নকল মুক্তার অনেক গয়নায় পড়েছি কিন্তু আসল মুক্তা পড়া হয়নি।
মালয়েশিয়াতে প্রত্যেকটি শপিং মলেই একটি আসল মুক্তার শো রুম থাকে।ছোটবেলা থেকে জেনেছি হীরা সবচেয়ে দামী পাথর। আবার মুক্তা নাকি স্বর্ণের থেকেও দামী।সেই ধারণা নিয়েই বড় হয়ে ওঠা।কিন্তু কয়েক দিন আগে টুইনটাওয়ারে গেলাম এর নিচের দিকটা শপিং মল।গ্রাউন্ড ফ্লোর পুরোটা গয়নার শোরুম। সেখানে অনেক গুলো মুক্তার শোরুম। আমি ভাবলাম দেখিতো আসল মুক্তার দাম কেমন।
দেখি কানে দেওয়ার দুইটা ছোট ছোট মুক্তা আাটত্রিশ রিঙ্গিত। বাংলাদেশী টাকায় নয়শ টাকার মতো।তার মানে মুক্তা স্বর্ণের চেয়ে দামী নয়।তবে দামী পাথর।এখন নাকি বাংলাদেশে প্রচুর মুক্তা চাষ হচ্ছে। মুক্তা চাষ নাকি খুব লাভজনক।
ছোট বেলায় একটা গল্প পড়েছিলাম মুক্তার মালা।দিনমজুর বাবার সুন্দরী কন্যা পুতুল। তার প্রিয় বান্ধবী মনি।বড়লোকের একমাত্র মেয়ে। অবশ্যই আমাদের দেশের গল্প উপন্যাসে বড়লোকের সন্তানেরা একমাত্রই হয়।আচ্ছা ওরা সব সময় একমাত্র সন্তান লিখে কেনো।বড়লোকদের কি তিন চারটা সন্তান থাকে না।হ্যাঁ মনে পড়েছে ওরা মনে হয় সুখী পরিবারের ক্যাম্পেইন করে।ঐ যে দুটি সন্তানই যথেষ্ট একটি হলে আরও ভালো।
সে যাইহোক যেটা বলছিলাম সেটাই আসি।মনির গায়ের রং কালো।পুতুল তাই একটু অহংকার করতো।সেতো সুন্দরী। কিন্তু গরিবের সন্তান। পুতুলের বাবা একজন হাই স্কুলের কেরানীর সাথে পুতুলের বিয়ে দেয়।মাত্র দুই হাজার টাকা বেতন।বাবার বাড়ির তুলনায় অবস্থা ভালো হলেও শখ আহ্লাদ মিটানোর মতো অবস্থা নেই। ঐ দিকে মনির বিয়ে হয়েছে অনেক বড়লোক বাড়িতে।পুতুল আর মনি পাশাপাশি পাড়ায় থাকে।
পুতুলের জামাইয়ের একটা সাইকেল খুব দরকার কিন্তু তার বেতন দুই হাজার টাকা হলেও সাইকেলের দাম তিনহাজার টাকা।তাই প্রত্যেক মাসে কিছু কিছু টাকা জমা করে সাইকেলের জন্য ।একদিন স্কুলে কোন একটা অনুষ্ঠানে সবাই বউকে নিয়ে যাবে।কেরানি পুতুলকে বললো যাবে কিনা।পুতুল বললো ওর ভালো শাড়ী গয়না কিছুই নেই।কেরানি নিজের সাইকেল কিনার টাকা দিয়ে একটা শাড়ী এনে দিলো। এখন গয়না কি পড়বে।তাই মনির কাছ থেকে একটা মুক্তার মালা নিয়ে এলো।অনুষ্ঠানে সেই মালা হারিয়ে গেলো।সেই মালা কিনে দিতে গিয়ে পুতুলের অবস্থা কঠিন হয়ে পড়ে।অনেক বছর পর পুতুল জানতে পারে মনির কাছ থেকে নেওয়া মুক্তার মালা আসলে নকল ছিলো।
সত্যিতো এটাই যে আসলের রুপ ধরলেই সব আসল হয় না।এভাবে অনেক আসল জিনিসের রুপ ধরে আমাদের জীবনে অনেক কিছু আসে যা আমাদের ধোঁকা দিয়ে যায়।এটা মানুষও হতে পারে।অনেক মানুষ আমাদের জীবনের জন্য মঙ্গলজনক এমন ভাব নিয়ে আসে কিন্তু ক্ষতি করে চলে যায়।