ননদ ভাবী কথাটা খুবই মিষ্টি। তাদের সম্পর্কটাও মিষ্টি। দুজন হতে পারে বেস্ট ফ্রেন্ড। হতে পারে মিষ্টি দুটি বোন।হতে পারে মা মেয়ের মমতা ভরা সম্পর্ক। কিন্তু বাস্তবতাটা কি আসলেই এমন।যদি না হয় তবে কেন এমন নয়?
গ্রামে আমি দেখেছি প্রত্যেক ননদের একটা ভাবী বেস্ট ফ্রেন্ড থাকে তবে সেটা নিজের ভাবী নয় চাচাতো ভাবী।ভাবীর ক্ষেত্রেও একি। দেখা যাচ্ছে ননদ তার চাচাতো ভাবীকে গলা জড়িয়ে ধরে বলছে আমার ভাবী কেনো তোমার মতো হলো না।এই ভাবীর ননদ আবার প্রথম উক্ত ভাবীর গলা জড়িয়ে ধরে একি কথা বলছে।এমন কেনো? ছোট বেলায় শুনেছি ''পরের ঘরের পিঠা দাঁতে লাগে মিঠা''।এখন দেখি ''পরের ঘরের ভাবী ভালো লাগে ভারী"।আমার এসব কথার ভিত্তি হলো গ্রাম।কারণ শহরে এসব ইকুয়েশন খুঁজে বের করা কঠিন। আদৌ বের করা যাবে কিনা সেটাও আমার পক্ষে বলা সম্ভব না।
কেনো সম্ভব নয় সেটা একটু ব্যাখ্যা করার জন্য একটা উদাহরণ দেওয়া যাক।আমরা যেই বিল্ডিং এ থাকি সেটা চার ইউনিটের একটা বিল্ডিং। আমাদের ফ্লোরেও চারটা ইউনিট আছে।আমরা পশ্চিম পাশে থাকি। পশ্চিম পাশে দুইটা ইউনিট।আমাদের ইউনিট আর পাশের ইউনিটের দরজার দুরত্ব হবে দুই হাত।অথচ সেই পাশে কারা থাকে তা আমরা জানিনা।
পাশের ফ্লাটে কে আছে সেটাই জানি না আবার ভিতরের খবর!
আচ্ছা যাইহোক,বলছিলাম ননদ ভাবীর সম্পর্কের কথা।আমার এক ফুফাতো বোন ওর নাম লীয়া।ওরা নানার বাড়িতে থাকে। মামা নাই কিনা তাই।ওরা দুই বোন দুই ভাই। ও সবার ছোট। সবার আদরের। ননদ ভাবী সম্পর্কের জটিলতা দেখে ও সব সময় বলতো "আমার ভাবী আসলে তাকে আগেই বলে দিবো, একসাথে থাকতে গেলে মতের বিরোধ হতেই পারে সামনাসামনি বলে দিবা। আমি সব ঠিক করে নেবো"।ও বলতো ও হবে সবচেয়ে ভালো ননদ যার ভাবীর সাথে কোনো বিরোধ থাকবে না। কখনো ভাবীর নিন্দা গিয়ে চাচাতো ভাবীদের কাছে করবে না।
এর কিছু দিন পর ওর বড়ো ভাইয়ের বিয়ে ঠিক হলো।সবাই গিয়ে আংটি পরিয়ে আসলো।ওরা মেয়ে দেখতে গেছে বলে মেয়ে কে ছয় ইঞ্চি উঁচু হিলের জুতা পায়ে দিয়ে সামনে এনেছে। ওরা ভেবেছে মেয়ে লম্বা। পরে দেখে মেয়ে খাটো।ওর ভাই খাটো মেয়ে বিয়ে করবে না।এরপর অনেক ঝামেলার পর যখন বউ আনলো তখন সবাই বউকে অনেক কিছু বলছে কিন্তু লিয়া কিছু বলেনি।এমন কি ভাবীকে সবার কথা থেকে আড়াল করেছে।ভাবীর পক্ষে সবাইকে বকাবকি করেছে।ভাবীকে বেস্ট ফ্রেন্ড বানানোর প্রতীক্ষা সে ভুলেনি। সব কিছুতে ভাবীকে ছাড় দেয়।
নিজের মনের সব কথা ভাবীকে বলে।নিজের জন্য যা কিনে ভাবীর জন্য তাই নিয়ে আসে।ভাবীও সামনে তাকে চোখে হারায়। কিন্তু একটু আড়ালে আসলেই লীয়া বিশ্বাস করে যে কথা গুলো ভাবীকে বলে সেগুলো ভাবী সবাইকে বলে দেয়।ভাবীর সাথে ভালো সম্পর্ক রাখার জন্য লীয়া প্রথম থেকে সব কাজ নিজে করে। এদিকে ভাবী ভেবে বসেছে এগুলো লিয়ার কাজ।ভাবী কোনো কাজ নিজে থেকেতো করেই না বললেও রেগে যায়।এভাবে সহ্য করতে করতে লিয়াও একসময় ধৈর্য হারিয়ে ফেলে।এখন লিয়া আর ছাড় দেবে না। ভাবীও কোনো কাজ করবে না।এভাবে প্রতিদিন সংসারে অশান্তি, ঝগড়া।
একসময় অতিষ্ঠ হয়ে বড় ভাই বউকে নিয়ে যায় নিজের কাছে।মানে তিনি চাকরির জন্য সবসময় দূরে থাকেন। কিছু দিন পর লীয়ার বিয়ে হয়ে যায়।এরপর কি হয়েছিলো আমার জানা নেই।অনেক বছর পর কয়েকদিন আগে আম্মা বলছিলো লীয়া আসছে। শুনে জিজ্ঞেস করলাম কেমন আছে। আম্মা বলছিলো আসলে ওর ভাবী নাকি জিজ্ঞেসও করে না।শুনে খুব কষ্ট পেলাম।
কিন্তু ননদ ভাবীর সত্যিকারের সম্পর্ক দেখেছি আম্মা আর আমার বড়মামীর মধ্যে। ওরা বেস্ট ফ্রেন্ড কিনা জানিনা কিন্তু বেস্ট ননদ ভাবী জুটি বলা চলে। কখনো কেউ কাউকে অসম্মান করেনা।আমার আম্মা বিয়ের পরও বারো বছর বাপের বাড়িতে ছিলো।এই বারো বছরে আম্মা আর বড়মামীর মধ্যে কোনো কথা-কাটাকাটিও কেউ দেখেনি।
ননদ ভাবীর সম্পর্ক এমন হওয়াই উচিত ছিলো।কিন্তু তাদের মধ্যে যে কেনো সাপে-নেউলের সম্পর্ক হয়ে যায় আমাদের সমাজে সেটাই বুঝতে পারি না।